ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ, তারাপীঠ থেকে ধৃত যুবক

স্থানীয় সূত্রের খবর, নলহাটি থানার অন্তর্গত শ্যাওড়াকোড্ডা গ্রামের অভিজিৎ মণ্ডল দীর্ঘদিন একটি চিটফান্ড কোম্পানির এজেন্ট হিসাবে কাজ করছে। দু'বছর আগে তার সঙ্গে আলাপ হয় রামপুরহাট থানার অন্তর্গত জুনিদপুর গ্রামের এক ব্যক্তির। তাঁকে সংশ্লিষ্ট চিটফান্ড কোম্পানির এজেন্ট পদে নিয়োগ পাইয়ে দেন অভিজিৎ মণ্ডল। এই সুবাদে তার যাতায়াত বেড়ে যায় ওই ব্যক্তির বাড়িতে। ক্রমশ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে অভিজিৎ মণ্ডল, যদিও সে নিজেও বিবাহিত। এই পরকীয়া ক্রমশ প্রগাঢ় হয়। বছর দেড়েক আগে রামপুরহাট বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি ফাঁকা লজে অভিজিৎ মণ্ডল ওই বধূকে নিয়ে এসে তোলে। সেখানে দু'জনে মিলিত হয় শারীরিকভাবে। সেই সময় বধূর নগ্ন ছবি সে নিজের মোবাইল ফোনে তুলে রাখে বলে অভিযোগ। এর পর বহুবার জেলার বিভিন্ন লজে নানা অজুহাতে সে ওই মহিলাকে ডেকে পাঠাত এবং ধর্ষণ করত। বধূটি এর প্রতিবাদ করলে অভিজিৎ মণ্ডল এই বলে ভয় দেখাত যে, তাঁর নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে আপলোড করে দেবে।
শেষ পর্যন্ত অতিষ্ঠ হয়ে ওই মহিলা রামপুরহাট থানায় অভিযোগ জানান। পুলিশ ফাঁদ পাতে। গতকাল দুপুরে ওই যুবক বধূটিকে ফোন করে তারাপীঠের একটি লজে ডেকে পাঠায়। তিনি পুলিশকে জানালে পুলিশ সাদা পোশাকে সেখানে হাজির হয়। লজের ঘরে সে বধূটিকে ফের ধর্ষণ করতে উদ্যত হলে পুলিশ ঝাঁপিয়ে পড়ে। তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হয় অভিজিৎ মণ্ডলকে।
নলহাটি থানার কুরুমগ্রামে অভিজিৎ মণ্ডলের একটি কম্পিউটার সেন্টার রয়েছে। শনিবার রাতে সেখানে তল্লাশি চালায় পুলিশ। কম্পিউটার থেকে অল্পবয়সী মেয়েদের আপত্তিকর ছবি পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের অনুমান, প্রেমের অভিনয় করে সে বিভিন্ন মেয়ের মন জয় করত। তার পর সুযোগ বুঝে তাঁদের নগ্ন ছবি তুলে রেখে ব্ল্যাকমেইল করত। ধৃত ব্যক্তি কোনও ব্লু-ফিল্ম চক্রের সঙ্গে জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।












Click it and Unblock the Notifications