শোভন-বৈশাখী আজ পথে নামছেন তো! ভেস্তে যাওয়া রোড শোয়ের পর বিজেপির অন্দরমহলে কী কী ঘটল
শোভন-বৈশাখী আজ পথে নামছেন তো! ভেস্তে যাওয়া রোড শোয়ের পর বিজেপির অন্দরমহলে কী কী ঘটল
পাখির চোখ কলকাতার ৫১ টি বিধানসভা। রথের চালকের আসনে শহরের প্রাক্তন মেয়র তথা বাংলা রাজনীতির হেভিওয়েট শোভন চট্টোপাধ্যায়। যে শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত ১৮ মাস পরে বাংলার রাজনীতির ময়দানে সক্রিয়ভাবে আজ পাওয়া যাবে বলে তুঙ্গে পারদ। গত সপ্তাহে রোড শো বিভ্রাটের
'ভুল' শুধরে আজ বিজেপির তরফে কার্যত অস্ত্র তোলার কথা শোভন-বৈশাখীর! তার আগে দেখা যাক বিজেপির অন্দরমহলে কী কী ঘটল, কতটা সম্ভাবনা রয়েছে এই রোড শোয়ের সাফল্যের।

আজ পথে নামছেন তো শোভন-বৈশাখী
গত সপ্তাহের সোমবার সকালের দিক পর্যন্তও ঠিক ছিল যে শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে একসঙ্গে হুড খোলা গাড়িতে কলকাতার রাজপথে দেখা যাবে। মেগা ইভেন্ট নিয়ে পারদ তুঙ্গে চড়ে বিজেপি কর্মী মহলেও। এরপর কৈলাস বিজয়বর্গীয় থেকে দিলীপ ঘোষ ,মুকুল রায়রা এই শোয়ের জন্য উদ্যোগ নিতেই জানা যায়, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ওই রোড শোতে অংশ নেবেন না। তার কিছুক্ষণ পরেই জানা যায় শোভন চট্টোপাধ্য়ায়ও রোড শোতে থাকছেন না। শেষ মুহূর্তে রোড শো সামল দিতে নামের বিজেপির ত্রয়ী মুকুল, কৈলাস ও দিলীপরা। ছিলেন অর্জুন সিংয়ের মতো হেভিওয়েট। এরপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার পর আজ শোভন বৈশাখীর রোড শো। ফলে জল্পনা ও পুরনো স্মৃতি ঘিরে একাধিক বিষয় সামনে আসছে।

বিজেপির দফতরে শোভনরা আসতেই রবিবার কী ঘটে!
রবিবার সন্ধ্যে ৬:৪৫ নাগাদ হেস্টিংসে বিজেপির দফতরে আসেন শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়রা। মান অভিমানের পালা শেষে সেখানে ছিল সাংগঠনিক বৈঠক। শোভনরা দফতরে আসার পর আসেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তিনি বৈঠকে যোগ দেন সন্ধ্যে ৭:১৫ মিনিটে। তারপর বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের পর ৯ টা নাগাদ চলে চা পান পর্ব। এদিকে, বিজেপির দফতের রবিবার শোভন বৈশাখী আসতেই তাঁদের স্বাগত জানান একা শঙ্কুদেব পণ্ডা। আর এখান থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ ঘিরে একাধিক তথ্য উঠছে।

শঙ্কুকে ঘিরে বৈশাখীর অবস্থান ও বিজেপি
বিজেপির কলকাতা জোনের পর্যবেক্ষক হিসাবে রয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। সেখানে সহ পর্যবেক্ষক হিসাবে যেমন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্য়ায় সহ পর্যবেক্ষক, তেমনই কমিটিতে শঙ্কুদেব পণ্ডাও সহ আহ্বায়ক। কানাঘুষো শোনা যায়, শঙ্কুকে দেওয়া ওই পদ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই শঙ্কুদেব পণ্ডাকে দিয়েই বিজেপি রবিবার হেস্টিংসের দফতের শোভন ও বৈশাখীকে স্বাগত জানিয়েছে। ফলে গেরুয়া শিবিরের অঙ্ক এক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শোভন-বৈশাখী আসার আগেই মুকুল, দিলীপ বেরিয়ে যান!
এক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রবিবারের বৈঠকে ছিলেন সুনীল, কৈলাস থেকে অমিতাভ চক্রবর্তী , প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। ছিলেন শঙ্কুদেব পণ্ডা। বাংলরা নির্বাচনের প্রতুস্তি বিষয়ক পর্যবেক্ষক গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত ছিলেন সেখানে। তবে দফতরে শোভন বৈশাখী আসার আগেই সেখান থেকে বেরিয়ে যান বঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষের বহু আগেই দফতর ছাড়েন মুকুল রায়ও। রবিবার সন্ধ্যার সেই বৈঠকে তাঁরা কেউই হাজির ছিলেন না বলে খবর।

আজকের রোড শো ও জল্পনা
শোনা যাচ্ছে, আজ শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া ওই রোড শোতে কোনও হেভিওয়েট বিজেপি নেতা থাকবেন না। গোলপার্ক থেকে সেলিমপুরে দুপুরের এই রোড শো কার্যত দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ভুল শোধরানোর রোড শো বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের।












Click it and Unblock the Notifications