মানিক ভট্টাচার্য ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কি জেলবন্দি থাকাকালীন বিধায়ক হিসেবে বেতন পাবেন? প্রশ্ন উঠল বিধানসভায়
বিধায়কদের কারাবাসের সময় বেতন প্রাপ্তি নিয়ে বিতর্ক উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। মঙ্গলবার এই বিষয়ে দীর্ঘ শুনানি হয়, যেখানে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তের কাছে জানতে চান, কারাবন্দি বিধায়কেরা সেই সময়ের বেতন পাওয়ার যোগ্য কি না।
সূত্রের খবর, জেলে থাকাকালীন বেতনের টাকা পাওয়ার জন্য বিধানসভায় আবেদন করেন মানিক ভট্টাচার্য। এদিন শুনানিতে তিনি শীর্ষ আদালতের বিভিন্ন রায়ের উল্লেখ করে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। তবে অধ্যক্ষ এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি বলেই জানা যাচ্ছে।

অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান, জেলে থাকাকালীন বিধায়কেরা বেতন পাওয়ার যোগ্য নন। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, বেতনের দুটি অংশ থাকে-একটি মূল বেতন, যা মাসিক ভিত্তিতে দেওয়া হয়, এবং একটি ভাতা, যা নির্ভর করে বিধানসভার কার্যক্রমে অংশগ্রহণের উপর। জেলে থাকাকালীন ভাতা প্রাপ্য নয়, তবে মূল বেতন বিধায়কদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। কিন্তু গ্রেফতারির পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় সেই অর্থ তোলা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ১৪ মাস কারাবন্দি থাকার পর জামিন পেয়েছেন। তিনি এখনও বিধানসভায় বেতন সংক্রান্ত কোনও আবেদন করেননি। যদিও তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু হয়েছে, বিধানসভার অধিবেশনে অংশগ্রহণের অনুমতিও মিলেছে। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রেও জেলে বন্দি থাকার সময় বিধায়ক হিসেবে তিনি বেতন পাবেন কিনা, সেই নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ কী?
বর্তমানে জেলবন্দি প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে জামিন পেলে তাঁকেও একই ধরনের আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
এই ইস্যুতে বিধানসভায় আলোচনা চললেও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও গৃহীত হয়নি। অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে, জেলবন্দি বিধায়কেরা কারাবাসের সময়ের বেতন পাওয়ার অধিকারী হবেন কি না।
তবে এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, এই সংক্রান্ত প্রশ্নের এক প্রস্থ উত্তর দিয়ে দিয়েছেন এজি বা অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। তাঁর স্পষ্ট উত্তর হচ্ছে 'না'। কোনও বিধায়ক যদি কোনও কারণে জেলে থাকেন তাহলে তিনি ওই সময় এর জন্য কোনওভাবেই বেতন পাওয়ার অধিকারী হতে পারেন না। কিন্তু এজি-র এই বয়ানের পরেও বেতন সংক্রান্ত ওই আবেদন এখন জমা পড়েছে স্পিকারের কাছে। এখন তাই দেখার বিষয়, এব্যাপারে কি করে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিকেই তাকিয়ে এখন সম্পূর্ণ বিধানসভা।












Click it and Unblock the Notifications