মুকুলকে ছাড়া মমতার সাফল্যের নজির নেই, ঊনিশে ‘হাফে’র পর কি একুশে ‘সাফ’
মুকুলকে ছাড়া মমতার সাফল্যের নজির নেই, ঊনিশে ‘হাফে’র পর কি একুশে ‘সাফ’
মুকুল রায়কে ছাড়া কি সফল হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? একুশের আগে বারবার ঘুরে ঘুরে আসছে প্রশ্নটা। এর আগে পর্যন্ত সেই দৃষ্টান্ত নেই। ২০০৯ সাল থেকে যে সাফল্যের মুখ দেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তার নেপথ্যে ছিল মুকুল রায়ের ক্ষুরধার মস্তিষ্ক। ২০১৯-এর একটি নির্বাচনে মুকুল-ছাড়া লড়েই মমতা টের পেয়েছেন কতধানে কত চাল।

মুকুল বিহনে তৃণমূল এক লপ্তে নেমেছে ৪২ থেকে ২২-এ
স্বয়ং মুকুল রায়ই এখন চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বলছেন, মাত্র একটা নির্বাচনে আমাকে ছাড়া লড়তে হয়েছে তৃণমূলকে। দেখুন কী হাল হয়েছে। ৪২-এ ৪২-এর ডাক দিয়েছিলেন। হাতের ৩৪টাও ধরে রাখতে পারেননি, মমতার তৃণমূল এক লপ্তে নেমে এসেছে ২২-এ। এবার ভাবুন ২০২১-এর বিধানসভায় কী হবে!

২০২১-এ তৃণমূলকে দু-অঙ্কে নামিয়ে ছাড়বেন মুকুল রায়
মুকুল রায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, ২০২১-এ তৃণমূলকে দু-অঙ্কে নামিয়ে ছাড়ব। তিন অঙ্কে পৌঁছতে পারবে না তৃণমূল। যেদিন তৃণমূল ছেড়েছি, সেদিনই এই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে, নরেন্দ্র মোদীর হাতে বাংলাকে তুলে দিতে হবে সুশাসনের জন্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে বিদায় দিতে হবে বাংলার বুকে অপশাসন কায়েম করার জন্য।

এক নির্বাচনেই মমতার দলকে হাফ করে দিয়েছেন মুকুল
তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা থেকে মুকুল রায়কে ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে অর্থে ভোটে লড়েননি। এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি নির্বাচন তৃণমূল কংগ্রেস লড়েছে মুকুল রায়কে ছাড়া। তার মধ্যে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের কথা যদি ছেড়ে দেওয়াই যায়, ২০১৯-এ একটি মাত্রা সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলায়। সেই নির্বাচনে তৃণমূল হাফ হয়ে গিয়েছে।

মুকুল তৃণমূলকে ভেঙেই শিক্ষা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে
তবে কি মুকুল-ফ্যাক্টরই তৃণমূলকে পিছিয়ে দিল, তা নিয়ে অনেক চর্চা হয়েছে। মুকুলের গেমপ্ল্যান তৃণমূলের ভরাডুবির জন্য দায়ী তা বলাই যায়। কারণ মুকুল রায় তৃণমূলকে ভেঙেই শিক্ষা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তৃণমূলকে দিয়েই তৃণমূলকে হারিয়েছেন। এবার ২০২১-এও সেই স্ট্র্যাটেজি নিয়েছেন তিনি। আবার এই লড়াইয়ে মুকুলের দোসর হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

মুকুলের অভাব ঢাকতে ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর
মুকুল রায় বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতির পদ পাওয়ার পরই সক্রিয় হন। তারপর শুভেন্দুর মতো নেতাকে মমতার ডেরা থেকে ছিনিয়ে এনে চ্যালেঞ্জটা ছুড়ে দিয়েছেন তাঁর প্রাক্তন নেত্রীকে। আর অন্যদিকে মুকুলের অভাব ঢাকতে ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে ভাড়া করে এনেছেন মমতা। কৌশলের লড়াই শুরু হয়েছে মুকুল বনাম পিকের।

দিলীপের নেতৃত্বে বিজেপি তো দলত্যাগী তৃণমূলীদের পার্টি
২০২১-এ বাংলায় তৃণমূলের প্রতিপক্ষ বিজেপি হলেও, আদতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লড়তে হচ্ছে তাঁর প্রাক্তন সঙ্গীদের সঙ্গ। বিজেপরি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে বঙ্গ বিজেপি আদতে হয়ে গিয়েছে দলত্যাগী তৃণমূলীদের পার্টি। মুকুল রায়, শুভে্ন্দু অধিকারী, অর্জুন সিং, সব্যসাচী দত্ত, সৌমিত্র খাঁ, অনুপম হাজরা, নিশীথ প্রামাণিক, মিহির গোস্বামী, শোভন চট্টোপাধ্যায়- সবাই-ই তো প্রাক্তন তৃণমূলী। আবার লকেট চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে, অগ্নিমিত্রা পালেদেরও তো তৃণমূল-যোগ রয়েছে। তাই মুকুলকে ছাড়া মমতার লড়াই একটু কঠিনই।












Click it and Unblock the Notifications