লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ হয়ে যাবে, ভয়েই কি শেষ সিদ্ধান্ত? নাকি ভুল তথ্য কীভাবে দগ্ধ হল এক জীবন? জানুন
পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানা এলাকার ভূমশোর গ্রাম। নিত্যদিনের শান্ত গ্রামটি শনিবার সকালে থমকে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনানা। এক মধ্যবয়স্ক অবিবাহিতা মহিলার আত্মহত্যা। পরিবারের দাবি, সদ্য শুরু হওয়া এসআইআর গণনার আতঙ্কই তাঁর এই চরম সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট।
মৃতার নাম মুস্তারা খাতুন কাজি (৪০)। শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর ঘর থেকে আগুনের শিখা দেখা যায়। পরিবার তাঁকে উদ্ধার করে ভাতার স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে মুস্তারার।

'লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ হয়ে যাবে' এই ভয়েই ভেঙে পড়েছিলেন মুস্তারার বৌদি সাবিরা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "এসআইআরের ফর্ম জমা দেওয়ার পর থেকেই ও অস্বাভাবিক চাপে ছিল। বারবার বলত ভোটার লিস্টে যদি নাম না থাকে, তবে আর সরকারি সাহায্য পাব না। কে ওকে কী বলে ভয় দেখিয়েছে জানি না, কিন্তু মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল।"
দিদি আস্তুরা খাতুনও একই সুরে বলেন, "গণনার ফর্ম হাতে পেয়ে ও মনে করেছিল সুবিধাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। সেই আতঙ্কেই আগুন ধরিয়ে দেয় নিজেকে।"
বছরের পর বছর দাদার সংসারে অবলম্বন ছিলেন মুস্তারা।
স্থানীয়দের কথায় জানা যায় ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় মুস্তারার নাম ছিল। বছর কুড়ি আগেই বাবা ও মা মারা গেছেন। বোনেরা বিবাহিত, দাদা সিরাজুল হক কাজি পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন। লক্ষ্মীর ভান্ডারের সামান্য টাকাই দাদার পরিবারে অবলম্বন হয়ে উঠেছিল তাঁর। সম্প্রতি পাড়ার কয়েকজনের মুখে শুনেছিলেন ভোটার লিস্টে ভুল থাকলে সেই সুবিধা মিলবে না। এই কথাই নাকি তাঁর মাথায় বিষের মতো ঢুকে ছিল।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে উঠেছে। তৃণমূল বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারীর দাবি এসআইআরের নামে বিজেপি আতঙ্কের রাজনীতি করছে। এই আতঙ্কেই মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ছে।
শনিবার দুপুর থেকে ভাতারের বিডিও অফিস ঘিরে বিক্ষোভে তৃণমূল কর্মীরা। রবিবার বড়সড় প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা করেছেন বিধায়ক।
রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস আরও একধাপ এগিয়ে বলেন,
"দুটো বছরের কাজ দুইমাসে গুটিয়ে ফেলার চাপে ইতিমধ্যেই কয়েক ডজন মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন কি এগুলোর জবাব দেবে?"
পাল্টা সুর বিজেপির। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, "তৃণমূলই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। বিএলওদের ভয় দেখাচ্ছে। এসআইআর সঠিকভাবে হলে তৃণমূলের ক্ষতি হবে, তাই মিথ্যে প্রচার করছে।"
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। মুস্তারার দেহ বর্ধমান মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হবে।












Click it and Unblock the Notifications