কেন্দ্রে এখন বিজেপির একক সরকার; বাংলায় ৩৫৬ ধারার দিকে তাঁরা এগোলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না

সোমবার, ১০ জুন, নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি।

সোমবার, ১০ জুন, নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি। রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার কথা উঠে আসে তাঁদের আলোচনায়। সম্প্রতি সন্দেশখালিতে নৃশংস রাজনৈতিক খুনোখুনির পরে পশ্চিমবঙ্গের আইনব্যবস্থা নিয়ে সরগরম রাজ্য এবং কেন্দ্রের ক্ষমতার অলিন্দ। চিরাচরিতভাবেই নয়াদিল্লি এবং কলকাতার মধ্যে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। আর এরই ফাঁকে যখন ত্রিপাঠি সংবাদমাধ্যমের করা প্রশ্নের উত্তরে বলেন যে রাজ্যে ৩৫৬ ধারা (রাষ্ট্রপতি শাসন) বলবৎ হলেও হতেও পারে, তখন তাই নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন।

পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন শেষ লাগু হয়েছিল সেই সত্তরের দশকে। তারপরে দীর্ঘ বাম জমানা চলার সময়ে নানা অশান্তি হলেও কখনও রাষ্ট্রপতি শাসনের আওতায় আসেনি রাজ্য। কিন্তু এবারে কি আবার কায়েম হবে রাষ্ট্রপতি শাসনের মতো জরুরি অবস্থা?

রাজ্যে আইনের শাসন তলানিতে, এই কারণ দর্শাতে পারে কেন্দ্র

রাজ্যে আইনের শাসন তলানিতে, এই কারণ দর্শাতে পারে কেন্দ্র

সংবিধানের ৩৫৬ ধারা লাগু করা নিয়ে নানা রাজনৈতিক এবং আইনি বিতর্ক রয়েছে। কোনও রাজ্যের শাসকদল আলাদা হলে কেন্দ্র থেকে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার লক্ষ্যে এই ধারা চালু করা হয়েছে, এমন অভিযোগ উঠেছে অতীতে। ১৯৫৭ সালে কেরালাতে দেশের প্রথম বাম সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের জওহরলাল নেহেরু সরকারের পদক্ষেপ আজও নিন্দিত হয় রাজনীতির অলিন্দে।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা নিয়েও রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপির মধ্যে সংঘাত তুমুল আকার নিচ্ছে এবং সেক্ষেত্রে রাজ্যের আইনের শাসনের পতন এবং সাংবিধানিক সঙ্কট হয়েছে, এই কারণ দর্শিয়ে কেন্দ্র রাষ্ট্রপতি শাসনের পথে এগোতেই পারে। নির্বাচনের আঙিনার লড়াই শেষ হওয়ার পরে এবার সাংবিধানিক আইনের আঙিনায় কোমর বেঁধে নেমেছে দুই পক্ষ।

কেন্দ্রে মিলিজুলি সরকার থাকলে তাও ৩৫৬ ধারা আটকানোর সম্ভাবনা থাকে

কেন্দ্রে মিলিজুলি সরকার থাকলে তাও ৩৫৬ ধারা আটকানোর সম্ভাবনা থাকে

অতীতে কেন্দ্র সরকার ঘন ঘন ৩৫৬ ধারা কায়েম করে বিরোধী দলের সরকারকে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও গত কয়েক দশকে এই প্রবণতা অনেকটাই কমেছে এবং তার কারণ প্রধানত দু'টি। সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে এই ধারার অন্যায় ব্যবহারের বিরুদ্ধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবংযেহেতু বিগত কয়েক দশকে কেন্দ্র সরকারে শুধুমাত্র জাতীয় দলের প্রভাব কমেছে অনেকটাই এবং নানা আঞ্চলিক দল সেখানকার ভাগিদার হয়েছে, তাই নির্বাচনী বা জোট রাজনীতির স্বার্থে কোনও বিশেষ আঞ্চলিক দলকে নিশানা করার প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে আগের থেকে। এই কারণেই নব্বইয়ের দশকে যখন তৎকালীন অটল বিহারি বাজপেয়ির সরকার পশ্চিমবঙ্গের বাম সরকারকে উৎখাত করার পরিকল্পনা নেয় এবং তাতে সায় দেয় বিজেপির অন্যতম জোটসঙ্গী তৃণমূল কংগ্রেস, তখন অন্যান্য নানা শরিকের চাপে সেই পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হয় কেন্দ্রীয় প্রধান শাসক দল বিজেপিকে।

এখন দেশে বিজেপি ব্যবস্থা; আর ৩৫৬ ধারা কায়েম হলে চাপে পড়ে যাবেন মমতা

এখন দেশে বিজেপি ব্যবস্থা; আর ৩৫৬ ধারা কায়েম হলে চাপে পড়ে যাবেন মমতা

এখন কিন্তু পরিস্থিতি অন্য। অতীতের কংগ্রেসি ব্যবস্থার মতোই দেশে এখন কায়েম হয়েছে বিজেপি ব্যবস্থা। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সদ্য ক্ষমতায় এসেছে গেরুয়াবাহিনী। কোনও আঞ্চলিক জোটসঙ্গীর প্রয়োজনও নেই তাদের সরকার চালাতে। এই পরিস্থিতিতে যদি বঙ্গের মমতা সরকারের বিরুদ্ধে চরম পদক্ষেপ নেয় মোদী সরকার, তাহলে নৈতিকতার নিরিখে যায় হোক না কেন, রাজনৈতিক দিক দিয়ে বড় লাভের দিকে এগোবে বিজেপি। কারণ, এই মুহূর্তে খোদ নিজেদের ডেরাতাই বেশ দুর্বল অবস্থায় রয়েছে তৃণমূল। এই অবস্থায় যদি রাষ্ট্রপতি শাসন লাগু হয় এবং পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসে, তাহলে ব্যাকফুটে থাকবেন মমতাই।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+