অবশেষে মন্ত্রীত্ব থেকে সরানোর পরে দল থেকেও সাসপেন্ড! পার্থকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কেন ৬ দিন দেরি তৃণমূলের
শনিবার ২৩ জুলাই রাজ্যের দোর্দণ্ডপ্রতাপ মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee) গ্রেফতার করে ইডি (ED)। তারপর ছয় দিনের মাথায় এদিন তাঁকে প্রথমে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়। পরে দলের সব থেকে অপসারণের কথা জানানো হ
শনিবার ২৩ জুলাই রাজ্যের দোর্দণ্ডপ্রতাপ মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee) গ্রেফতার করে ইডি (ED)। তারপর ছয় দিনের মাথায় এদিন তাঁকে প্রথমে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়। পরে দলের সব থেকে অপসারণের কথা জানানো হয়। তদন্ত শেষের পরে নির্দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত এই পদক্ষেপ বলবত থাকবে বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের (Trinamool Congress) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

তৃণমূলের শুরু থেকে মহাসচিব এবং বর্তমানে ৩ গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী ছিলেন
তৃণমূলের শুরুর প্রায় পর থেকে দলের মহাসচিব ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ২০০৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত তিনি ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। ২০১১ থেকে সামলেছেন গুরুত্বপূর্ণ দফতর। আর এদিন সকাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী, তথ্য প্রযুক্তি এবংপরিষদীয় মন্ত্রী। অন্যদিকে দলের তরফে তিনি মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সদস্য এবং অন্য কয়েকটি কমিটির সদস্য এবং দলের রাজ্য সহ-সভাপতিও ছিলেন।

নাম জড়িয়েছে এসএসসি কেলেঙ্কারিতে
রাজ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ গত কয়েকবছর ধরেই। কিন্তু বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলির শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির তদন্ত সিবিআইকে দেওয়ার পরে পরিস্থিতির বদল হয়। এসএসসি এবং প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানদের ডেকে জেরা শুরু হয়। এরপর ২২ জুলাই সকাল থেকে সেই সময়ের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি সহ ১৩ জায়গায় তল্লাশি শুরু করেন ইডির আধিকারিকরা। হঠাৎই বিকেল থেকে তদন্তের মোড় অন্য দিকে ঘুরে যায়। ইডির আধিকারিকরা তল্লাশি শুরু করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ডায়মন্ডসিটি সাউথের ফ্ল্যাটে। পরের দিন সেখান থেকে প্রায় ২২ কোটি টাকা উদ্ধার করে নিয়ে যায় ইডি। এরপর ২৭ জুলাই অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে আরও ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার করেন।

দলের বাইরে ও ভিতরে চাপ
দলীয় সূত্রে খবর, বাইরে ও ভিতরে চাপের কারণে গ্রেফতার হওয়ার ছদিন পরে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তৃণমূলকে।
এরই মধ্যে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ টুইট করে বলেন উদ্ধার হওয়া অর্থ এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায় তৃণমূলের কেউ নন। আর তৃণমূলও এব্যাপারে কোনও দায় নেবে না। সূত্রের খবর অনুযায়ী তৃণমূলের অভ্যন্তরে অনেকেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বিরূপ মত প্রকাশ করেন। পার্থ ও অর্পিতারমধ্যে সম্পর্ক এবং একের পর এক ফ্ল্যাটে টাকার পাহাড়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নেতারা আরও চাপে পড়ে যান। কুণাল ঘোষ বলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় যদি দোষীই না হন, তাহলে তিনি কেন প্রকাশ্যে তা বলছেন না।
এছাড়াও তৃণমূলের অভ্যন্তরে আলোচনা চলতে থাকে, যে দলকে কিছুদিন আগেই জাতীয় পর্যায়ের বিজেপির বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সেই দল সম্পর্কে মানুষের কাছে কোন ধারণা পৌঁছচ্ছে। এছাড়াও ঘটনাবলী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
ভাবমূর্তিরও ক্ষতি করছে বলেও মত প্রকাশ করেন তৃণমূলের পদাধিকারীরা।

ভাবমূর্তি উদ্ধারে অভিষেক
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দলের ভাবমূর্তি উদ্ধারে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যে এসএলএসটি চাকরি প্রার্থীরা দত ৫০০ দিন ধরে শহরের প্রাণ কেন্দ্রে ধর্না চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। ঠিক হয় শুক্রবার তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথা বলবেন। পরে বিকেলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দলীয় পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় তিনি বলেন তৃণমূল জনগণের দল। দল জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে না। সেই কারণে পরিস্থিতির পর্যালোচনায় সময়ের
দরকার ছিল। তাই ছয়দিনের মাথায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল বলে জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করুক।












Click it and Unblock the Notifications