পুলিশ নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিল কেন, বর্ধমান-কাণ্ডে উঠছে প্রশ্ন

যেখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেই খাগড়াগড় বর্ধমান সদর থানার অধীন। থানার একদম কাছে না হলেও খুব দূরেও বলা যায় না। শহরের একটি জনবহুল স্থানে বাড়িভাড়া নিয়ে তিন মাস ধরে দেশদ্রোহী কার্যকলাপ চালাচ্ছিল পাঁচজন। তিনজন পুরুষ ও দু'জন মহিলা। কলকাতায় দুর্গা পুজোর সময় নাশকতা চালানোর ছক কষেছিল বলেও খবর। স্থানীয় মানুষ 'ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা'-কে জানান, লোকগুলোর আচরণ ছিল সন্দেহজনক। মহিলারা সব সময় বোরখা পরে বেরোত। পাড়ার মুদিখানা থেকে কখনও কিছু কেনাকাটা করত না। বাড়ির সামনে সারাদিন একটি মোটরবাইক রাখা থাকত। মাঝেসাঝে ওই মোটরবাইকে কাপড়ের বড় পুঁটলি চাপিয়ে বাড়ির পুরুষরা বেরিয়ে যেত। সন্ধের পর অচেনা লোকজন আসত। দিনের পর দিন। তারা ঢোকার সময় হাতে বড় ব্যাগ থাকত। বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও থাকত ব্যাগ। তবে অন্য আকার ও রঙের। এ নিয়ে পাড়ার ছেলেদের মধ্যে গুঞ্জন চলত।
আরও পড়ুন: বর্ধমান বিস্ফোরণে মৃত শাকিল বাংলাদেশের লোক, ছিল আগুনখোর জঙ্গি
আরও পড়ুন: বর্ধমানে তৃণমূল নেতার বাড়িতে ছিল জঙ্গিরা, পুলিশের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ
আরও পড়ুন: বর্ধমানে বিস্ফোরণের পিছনে জঙ্গি-যোগই, নিশ্চিত হলেন গোয়েন্দারা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্য পুলিশের এক অবসরপ্রাপ্ত আইজি বলেন, "জেলায় কোথায় কী হচ্ছে, সব খবর রাখতে হয় ডিআইবি বা জেলা গোয়েন্দা দফতরকে। সেটাই তাদের কাজ। এক্ষেত্রে ডিআইবি নিঃসন্দেহে ব্যর্থ হয়েছে। বোঝা যাচ্ছে, পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে ডিআইবি-তে।"
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, "বিস্ফোরণ না ঘটলে তো জানাই যেত না এই গোপন আস্তানার কথা। বর্ধমান শহরে এত বড় দেশবিরোধী শক্তি ঘাঁটি গেড়েছিল, অথচ পুলিশ কিচ্ছুটি জানতে পারেনি। এখন তারা স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের রক্ষা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী তৃণমূল নেতাদের দুষ্কর্ম ধামাচাপা দিতে পুলিশকে ব্যস্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।"
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ডিআইবি নিজেদের কাজ বলতে পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন, বিরোধী দলের নেতাদের ওপর নজরদারি এগুলি বোঝে। কিন্তু যুগ বদলেছে। এখন পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। বর্ধমানের ঘটনা থেকে শিক্ষা না নিয়েও যদি ডিআইবি তথা রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ান, তা হলে আগামী দিনে এমন ভয়ঙ্কর ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতেই পারে।
আশ্চর্যের ব্যাপার হল, পশ্চিমবঙ্গে যে আল কায়েদা, আল জিহাদ ঘাঁটি গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, এটা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা অনেক আগে রাজ্য পুলিশকে জানিয়েছিলেন। তার পরও তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিল।












Click it and Unblock the Notifications