মমতা কেন মোদীর বিকল্প, রাহুল কেন নন! জাতীয় রাজনীতিতে কি বদলাচ্ছে সমীকরণ
মমতা কেন মোদীর বিকল্প, রাহুল কেন নন! জাতীয় রাজনীতিতে কি বদলাচ্ছে সমীকরণ
২০২৪-এর আগে সমীকরণ কি বদলাচ্ছে? একুশের ভোট ফুরোতেই ২৪-এর চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। মমতা ছুটেছেন সোনিয়ার দরবারে। লক্ষ্য কংগ্রেস-তৃণমূল ঐক্য গড়ে বিজেপিকে দিল্লির মসনদ থেকে হটানো। কিন্তু দিন যত এগোচ্ছে, ততই বিরোধী ঐক্যের মুখ নিয়ে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। মমতার দিল্লি সফরের পরে বন্ধন যতটা দৃঢ় মনে হচ্ছিল, এখন কি ততটা ঐক্য চোখে পড়ছে?

ঘরের মাঠে একা মমতা হারিয়েছেন মোদী-শাহদের
একুশে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন আদতে মমতা বনাম মোদীর লড়াই হয়েছে। ঘরের মাঠে একা মমতা গুনে গুনে গোল দিয়েছেন মোদী-শাহদের। ফুল টিম নামিয়েও কাজের কাজ কিছু করতে পারেনি বিজেপি। মোদী-শাহরা ডেলি প্যাসেঞ্জারি করেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারেননি।

২৫০ আসনে বিজেপি বনাম কংগ্রেস, উপেক্ষা করা সম্ভব
মমতার এই জয় তাঁকে অনেকটাই দিল্লির লড়াইয়ে এগিয়ে দেয়। এমনকী প্রধানমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হ্যাশট্যাগে প্রচারও শুরু হয়ে যায়। কিন্তু কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে কী করে সম্ভব মোদীকে হটানো। লোকসভার অন্তত ২৫০টি আসনে বিজেপি বনাম কংগ্রেস সরাসরি লড়াই। তা উপেক্ষা করা কী করে সম্ভব তৃণমূলের পক্ষে।

রাহুল গান্ধী পারেননি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিকল্প মুখ!
সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের সেরা ২০ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের তালিকায় নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি নাম রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু কংগ্রেসের প্রধান মুখ সোনিয়া গান্ধী বা রাহুল গান্ধী নেই সেই তালিকায়। ফলত তৃণমূলের মুখপত্র জাগোবাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নরেন্দ্র মোদীর বিকল্প মুখ বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে পরিষ্কার লেখা হয়েছে রাহুল গান্ধী পারেননি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিকল্প মুখ।

কংগ্রেস কি মমতাকে বিরোধী জোটের মুখ মেনে নেবে?
কিন্তু প্রশ্ন এটাই যে কংগ্রেসকে ছাড়া বিজেপি-বিরোধী জোট কী করে সম্ভব। আর কংগ্রেস যদি জোটে থাকে, তবে রাহুল গান্ধী প্রধান না হয়ে কী করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান মুখ হবেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল মাত্র একটি রাজ্যে রয়েছে। তা হল পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গে লোকসভার ৪২টি আসনে জিতলেও তার থেকে আসন বাড়ানোর কোনও রাস্তা নেই! বিজেপি যদি হারে তবে সর্ববৃহৎ দল হবে কংগ্রেস। তখন কংগ্রেস কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী জোটের মুখ হিসেবে মেনে নেবে?

রাহুল গান্ধীর জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! কোন অঙ্কে
যদি সমঝোতার ভিত্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী জোটের মুখ হন, কংগ্রেস যদি তাঁকে বেছে নেয়, তবেই সম্ভব। অন্যথায় মমতাকে বিকল্প মুখ হিসেবে মানবে না দেশ। তবে এমন যদি হয়, কংগ্রেস ভিন্ন বাকি বিজেপি বিরোধী দলগুলি তাঁদের মুখ হিসেবে মমতাকে তুলে ধরে, তখন রাহুল গান্ধীর জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জোরদার হতে পারে মোদীর বিকল্প হিসেবে।

কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপি সরাসরি লড়াই-ই বেশি রাজ্যে
যতই দলীয় মুখপত্র ফলাও করে লেখা হোক রাহুল গান্ধী নন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন মোদীর বিকল্প মুখ, তার পিছনে সমর্থনের অভাব থাকবেই। প্রায় সব রাজ্যেই কংগ্রেস রয়েছে। আর কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপি সরাসরি লড়াই-ই বেশি রাজ্যে। কিছু রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে মূল লড়াই বিজেপির, সেখানে কংগ্রেস গৌন। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকরল্প মুখ হয়ে ওঠা যথেষ্ট কঠিন।

রাহুল না মমতা? তা নিয়েই তর্ক বেশি দিল্লির রাজনীতিতে
বিরোধী ঐক্যের মুখ কে হবেন, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব লেগে থাক, সেটাই চায় বিজেপি। ২০১৯-এও যে তর্ক ছিল, ২০২৪-এর প্রাক্কালেও সেই একই সমস্যা রয়ে গিয়েছে বিরোধী জোটে। মোদী বিরোধী মুখ কে হবেন, তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে বিরোধী শিবিরে। রাহুল না মমতা? তা নিয়েই তর্ক বেশি। এটা যিক যে রাহুলের থেকে মোদী বিরোধিতার মমতা অনেক বেশি সক্রিয়। তিনি রাজ্য রাজনীতিতে থেকেই মোদীর বিরুদ্ধে তাঁর আওয়াজ পৌঁছে দিচ্ছেন।

রাহুলও যে মোদীকে হারাননি তা নয়! এক ঝলকে
আর রাহুল গান্ধী যে মোদী বিরোধিতা করছেন না, তা নয়। তিনিও করছেন। এবং সম্মুখভাগে থেকে করছেন। কিন্তু তাঁর মধ্যে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে যথেষ্ট। মাঝেমধ্যেই তিনি হারিয়ে যান। ফলে অ্যাডভান্টেজ অবস্থানে থেকেও তিনি বারেবারে পিছিয়ে পড়েন। তা না হলে রাহুলও যে মোদীকে হারাননি তা নয়!

১৯-এর আগে সাফল্যের ঝুলি পূর্ণ ছিল রাহুলেরই
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সাফল্যের ঝুলি পূর্ণ ছিল রাহুলেরই। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড় দখল করেছিল কংগ্রেস। আর গুজরাতেও কংগ্রেস কম লড়াই দেয়নি আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে জোট করে। লোকসভা ভোটের পরও কংগ্রেস ও আঞ্চলিক দলের জোট ভালো ফল করেছিল।

কংগ্রেস ও বিজেপির কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ ২০২২
কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই বিজেপি আগ্রাসী মনোভাবের কাছে সরকার টিকিয়ে রাখতে পারেনি কংগ্রেস। মধ্যপ্রদেশের ক্ষমতা হারাতে হয়েছে। রাজস্থান ও ছত্তিশগড় এখনও টিকে রয়েছে। তবে ২০২২-এর আসন্ন পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন কংগ্রেসের কাছেও বড় চ্যালেঞ্জের। আর বিজেপির চ্যালেঞ্জ গড় রক্ষা করার। তৃণমূল ২০২২-এ দেখবে বিজেপি বনাম কংগ্রেসের লড়াই কোন পর্যায়ে পৌঁছয়।












Click it and Unblock the Notifications