মাইলের পর মাইল কেন হাঁটেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সর্বসমক্ষে জানালেন সে কথা

হেঁটেই চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দার্জিলিং হোক বা দীঘা বা নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ বা লন্ডন অথবা ঘরের কাছে সিঙ্গাপুর।

হেঁটেই চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দার্জিলিং হোক বা দীঘা বা নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ বা লন্ডন অথবা ঘরের কাছে সিঙ্গাপুর। হন্টনে বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো কার্যত কঠিন বলেই মনে করেন তাঁর বহু অনুরাগী। শুধু হাঁটা তো নয় তাতে এতটাই গতি থাকে যে বহুজনই কাহিল হয়ে পড়েন তাতে।

মাইলের পর মাইল কেন হাঁটেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সর্বসমক্ষে জানালেন সে কথা

দিনে প্রায় ২০ কিলোমিটার করে হাঁটা-টা মুখ্যমন্ত্রী অভ্য়াসেই পরিণত করে ফেলেছেন। দার্জিলিং-এর পাহাড়ি রাস্তায় অনেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হাঁটতে ভয় পান। কারণ, একে পাহাড়ের চড়াই-উতরাই, আর সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সেই বিখ্যাত স্পিড। অনেকেরই বক্তব্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর চারপাশে ভিভিআইপি সব ব্যবস্থা। সরকারি গাড়ির কোনও অভাব নেই। তাহলে মুখ্যমন্ত্রী যে সেখানে এভাবে হাঁটা-র কি দরকার।

এতসত্ত্বেও কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর অভ্যাস পাল্টায়নি। না হাঁটলে তাঁর নাকি কিছুই করেননি বলে বোধ হয়। কিন্তু আদপেও কি এত হাঁটার প্রয়োজন আছে। মঙ্গলবার এক বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই হাঁটা নিয়ে বেশকিছু উত্তর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

বামেদের সবচেয়ে বড় বিরোধীর নাম কি? একটাই উত্তর আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে বিরোধিতাকে কাজে লাগিয়ে ৩৪ বছরের বাম শাসনের পতন ঘটাতে পারেনি কংগ্রেসের মতো দল, সেই বিরোধিতায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-সহ তাঁর দল ও শরিকদের কার্যত বানপ্রস্থে পাঠিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। কিন্তু এই বিরোধিতার কড়া মূল্যও তাঁকে চোকাতে হয়েছে। বাম জামানায় গণ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছেন। কখনও পুলিশের লাঠি থেকে বন্দুকের বাটের আঘাত নেমে এসেছিল তাঁর শরীরের উপরে। কখনও তাঁর গাড়িতে ধাক্কা দিয়েও হত্যার চক্রান্তের অভিযোগ উঠেছিল। এমন সব হামলার শিকার হওয়ার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরীরে বহু আঘাত রয়েছে। ভেঙেছে হাড়। চিড় ধরেছে কব্জিতে। এর মধ্যে কিছু সারানো সম্ভব হয়েছে। আবার কিছু আঘাত সারেনি। মাথার খুলিতেও রয়েছে আঘাত। এমনকী, মাথায় একাধিক সেলাইও করতে হয়েছিল। তাঁর অন্ত্রেও গুরুতর সব আঘাত আজও বিদ্যমান। কিন্তু, এত ধরনের আঘাতে জর্জরিত শরীরকে ঠিক রাখতে হলে ফিট থাকতে হবে মুখ্যমন্ত্রী-কে।

শরীরের ওজনকে ব্যালান্সড করতে হবে তা চিকিৎসকরাও নানা সময়ে মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। তাই নিজেকে কর্মক্ষম করে রাখতে ফিট রাখাতেই জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। এক্ষেত্রে তাঁর সবচেয়ে বড় শারীরিক কসরত হাঁটা। এছাড়াও তাঁর মতে, বয়স বাড়ছে। অন্যরা যা পরিশ্রম করে তার থেকে তাঁকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। দিন দিন দায়িত্বও বাড়ছে। তাই কর্মক্ষমতাকেও বাড়াতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে ফিটমন্ত্রই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের উপজীব্য।

হাঁটার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ট্রেডমিলেও দৌঁড়ন। রোজ রুটিন করে ট্রেডমিলটা তিনি করেন। খাওয়া-দাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ তো রেখেছেনই, সেই সঙ্গে শারীর চর্চাতেও যথেষ্ট মনোযোগী তিনি। তাঁর বিশ্বাস একজন মানুষ মানসিক ও শারীরিকভাবে ফিট না থাকলে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মতে, ওজন নিয়ে তিনি এতটাই সজাগ যে সারাক্ষণ নিজেকে ফিট অ্যান্ড ফাইন রাখাটা তাঁর অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই হাজারো কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে তিনি হেঁটে নিজেকে ফিট রাখেন। আর সুযোগ পেলে ট্রেডমিলেও দৌঁড়ে নেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোর ফাঁকে ফিট অ্যান্ড ফাইনের ফান্ডা-তো বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু, ঘুমোন ক'ঘণ্টা মুখ্যমন্ত্রী? এদিন এই নিয়ে কিছু বলেননি। তবে, কয়েক বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন রাত ২টোর আগে ঘুমোতে যান না। আর ঘড়ির কাঁটা ভোর ৫ টা ছুঁতেই ঘুম থেকে উঠে পড়েন তিনি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+