দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্র দেখা নেই কালবৈশাখীর! বৈশাখে আদৌ কি ভিজবে মাটি, কী বলছে আবহাওয়া দফতর
সকালের দিকে মেঘলা আকাশ। সঙ্গে ভ্যাপসা গরম। এর থেকে কিছুটা মুক্তি দিতে পারে একমাত্র কালবৈশাখী (norwester)। কিন্তু তারই দেখা নেই। গত কয়েকবছর ধরেই একই পরিস্থিতি। আবহাওয়া (weather) দফতরও আশার বাণী শোনাতে পারছে না। দক্ষ
সকালের দিকে মেঘলা আকাশ। সঙ্গে ভ্যাপসা গরম। এর থেকে কিছুটা মুক্তি দিতে পারে একমাত্র কালবৈশাখী (norwester)। কিন্তু তারই দেখা নেই। গত কয়েকবছর ধরেই একই পরিস্থিতি। আবহাওয়া (weather) দফতরও আশার বাণী শোনাতে পারছে না। দক্ষিণবঙ্গ কালবৈশাখী বিমুখ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন আবহবিদরা।

কালবৈশাখীর পথ
সাধারণভাবে ছোটনাগপুরের মালভূমির তাপমাত্রা বাড়লেই কালবৈশাখীর সম্ভাবনা বাড়ে। তবে এর সঙ্গে সঙ্গ দিতে হয় প্রকৃতিকেও। ছোটনাগপুরের মালভূমি অর্থাৎ ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড় এলাকার তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের উচ্চচাপ বলয় কালবৈশাখী তৈরিতে সাহায্য করে থাকে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, এইসব এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূপৃষ্ঠও গরম হয়। আর ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ বিকিরণ বাতাসকে গরম করে। আর বাতাস গরম হলেই তা ওপরের দিকে ওঠে।

বঙ্গোপসাগরে উচ্চচাপ বলয়ের প্রয়োজন
এই পরিস্থিতিতে বঙ্গোপসাগরে উচ্চচাপ বলয় তৈরি হওয়াও প্রয়োজন। তা কিনা জলীয় বাষ্পকে বায়ুমণ্ডলের ওপরে দিকে নিয়ে যায়। এই জলীয় বাষ্প গরম বাতাসের সংস্পর্শে এলে মেঘপুঞ্জ তৈরি হয়। যা ঝাড়খণ্ডের দিক থেকে দক্ষিণবঙ্গের ওপরে আসে। তা জলীয় বাষ্পকে ধরে রাখার ক্ষমতা হারালেই কালবৈশাখী।

কারণ ব্যাখ্যা
আবহবিদরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে আবহাওয়ার এই পথের পরিবর্তন হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপপ্রবাহ তৈরি হলেও, বঙ্গোপসাগরের বায়ুপ্রবাহের ধরণ বদলে গিয়েছে। তা কোনও সময় চলে যাচ্ছে উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে। ঢুকছে না দক্ষিণবঙ্গের ওপরে। ফলে বজ্রগর্ভ মেঘও তৈরি হতে পারছে না।

নজর এবার বৈশাখের দিকে
আবহাওয়া দফতরের পুরনো পরিসংখ্যান অনুযায়ী সাধারণভাবে মার্চে দুটি, এপ্রিলে চারটি এবং মে মাসে তিনটি কালবৈশাখী হয়ে থাকে। কিন্তু এবার মার্চ কিংবা এপ্রিলে তার দেখা পাওয়া যায়নি। ফলে লক্ষ্য রাখতে হচ্ছে বৈশাখের দিকে। তবে সেব্যাপারে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারছে না আবহাওয়া দফতর। কারণ সেই মেঘলা আকাশ আর আর্দ্রতার বাড়বাড়ন্ত। ফলে এবার দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্র কালবৈশাখীতে মাটি ভিজবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি
এদিন দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বীরভূম, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান ঝড় বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়। পরে সন্ধের দিকে বলা হয় নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলায় ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৪০ কিমি বেগে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এদিন আগেই আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছিল মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একথা বলে রাখা ভাল গত কয়েকদিন ধরে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সঙ্গে হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়-বৃষ্টি চলছে।












Click it and Unblock the Notifications