বাংলায় বিপুল জয়ের ৯ মাসের মধ্যে কেন এই বিভ্রান্তি? কী বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে তৃণমূলের অন্দরমহল
বাংলায় বিপুল জয়ের ৯ মাসের মধ্যে কেন এই বিভ্রান্তি? কী বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে তৃণমূলের অন্দরমহল
মাত্র নয় মাসে আগে বাংলায় (West Bengal) বিপুল জয়। বিরোধীদের হেলায় হারিয়ে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পায় তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। সেই তৃণমূলের এখন নানা অভ্যন্তরীণ বিরোধ একেবারে সামনে চলে আসছে। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল এবং প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) আইপ্যাকের (IPAC) মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব সামনে এসেছে। পুরনির্বাচনে দলে প্রার্থীদের নাম দলের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ার জেরে বিভ্রান্তি বেড়েছে দলের অভ্যন্তরে। যার পিছনে নানা কারণ উঠে আসছে।

অভিষেক এবং দলের নেতাদের মধ্যে মত-পার্থক্য
তৃণমূলের অনেক নেতাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মেনে নিতে অস্বীকার করেছিলেন। তা এখনও চলছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা প্রকাশ্যেই বলছেন তাঁর নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই এখনও মানুষ ভোট দেন। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দলের বর্ষীয়ান নেতাদের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবধান বাড়ার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতি, মত প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ সত্য হচ্ছে
শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার পরে তোপ দেগেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে। প্রশান্ত কিশোরকে সঙ্গে করে দলকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অভিযোগ করেছিলেন তিনি। এখন দেখা যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারী যে অভিযোগ করেছিলেন সেই অভিযোগই করছেন অন্য তৃণমূল নেতারা। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের পরে প্রশান্ত কিশোরকে আনার ব্যাপারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাকের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পথে।
|
ঘরেই ফাটল চওড়া
বিজেপি নেতা অমিত মালব্য অবশ্য কটাক্ষ করে বলেছেন ঘরে ফাটল চওড়া হচ্ছে। তিনি এদিন সংবাদ মাধ্যমের খবর শেয়ার করে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে আইপ্যাকের সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছেন। এই অ্যাইপ্যাকই তৃণমূলকে সাহায্য করেছিল এবং তাদেরকে এনেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই। অভিষেকই বিভিন্ন রাজ্যে দলের বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছিলেন আইপ্যাককে সঙ্গে নিয়ে। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ভাইপোর যাত্রা পথে এবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

আইপ্যাকের সঙ্গে বিরোধ নাকি দলেই বিরোধ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের এই মুহূর্তের প্রশ্ন, এখন কি তৃণমূলের আইপ্যাকের সঙ্গে বিরোধী না, দলের মধ্যেই বিরোধ। এর শুরু অবশ্য দিন কয়েক আগে ১০৭ টি পুরসভার প্রার্থী তালিকা তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া নিয়ে। পরে অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ার লিস্ট বাতিল ঘোষণা করে জেলা সভাপতিদের কাছে অন্য তালিকা পাঠানো হয়। যেখানেই একশোর ওপর প্রার্থী নাম আলাদা পাওয়া গিয়েছে। আর এদিন বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সুব্রত বক্সি এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায় যে তালিকা দিয়েছেন সেটাই ফাইনাল।
একদিকে যখন দলের বর্ষীয়ান নেতারা আইপ্যাককে দোষী করছেন, প্রার্থী তালিকা দলের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে দেওয়া নিয়ে, অন্যদিকে আইপ্যাকও পাল্টা দাবি করেছে, তারা এই ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত নয়।
একদিকে প্রার্থী তালিকা নিয়ে অভিষেক ঘনিষ্ঠ সৌগত রায়ের বিরুদ্ধে যখন তোপ দাগছেন মদন মিত্র, সেই সময় আবার অনেকে বলছেন, দলের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে বোঝাপড়ার অভাব রয়েছে।

অভিষেকের উত্থানে খুশি নন দলের বর্ষীয়ানদের অনেকে
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রচার নিজের হাতে সামলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর দলের জয়ের পরে তাঁকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, দলের বর্ষীয়ান নেতাদের একটা বড় অংশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা বৃদ্ধিকে মেনে নিতে পারেননি। এছাড়াও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক ব্যক্তি এক পদের নীতিও মেনে নিতে পারেননি এই সব নেতারা।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, তৃণমূলে এখন দুই প্রজন্মের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন, জুনিয়রদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে এবং আস্তে আস্তে অভিষেককে দায়িত্ব দিতে, তাই মেনে নিতে পারছেন না অনেক নেতা।












Click it and Unblock the Notifications