বিজেপি সাংসদ বাবুল ‘রাজনীতি’ ছেড়ে যোগ দিলেন তৃণমূলে, কেন ‘কথা’ রাখলেন না তিনি
আর যাই করি, জীবনে আর কোনওদিনও তিনি রাজনীতি করবেন না, তাঁকে রাজনীতির মঞ্চে আর কোনওদিন দেখা যাবে না। তারপর দেড় মাস কাটতে না কাটতেই তিনি ফিরলেন রাজনীতিতে।
আর যাই করি, জীবনে আর কোনওদিনও তিনি রাজনীতি করবেন না, তাঁকে রাজনীতির মঞ্চে আর কোনওদিন দেখা যাবে না। তারপর দেড় মাস কাটতে না কাটতেই তিনি ফিরলেন রাজনীতিতে। বিজেপি ছেড়ে বাবুল সুপ্রিয় যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। বাবুল কথা রাখতে না পারায় ভবানীপুর উপনির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা খেল বিজেপি।

সব জল্পনার অবসান, রাজনীতি ছেড়ে তৃণমূলে বাবুল
এক পক্ষ কালও বাকি নেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে। সেখানে বাবুল সুপ্রিয় ঘনিষ্ঠ প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন। তাঁকে শুভেচ্ছাও জানান বাবুল। কিন্তু তারপর বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতে বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলে যোগ দিলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। সব জল্পনার অবসান ঘটে এই যোগদানে।

দেড় মাসেই মত পরিবর্তন বাবুলের
এখন প্রশ্ন কেন কথা রাখতে পারলেন না বাবুল সুপ্রিয়? কেন তিনি দেড় মাসেই মত পরিবর্তন করলেন? রাজনীতি ছাড়ার কথা ফেসবুক পোস্টে জানিয়ে যে বাবুল সুপ্রিয় বলেছিলেন, আমার একটাই দল বিজেপি, আর একটা দলেরই সমর্থক মোহনবাগান। কিন্তু সেই তিনি সাংসদ পদ রেখেই যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে।

বিজেপিতে ভালো ছিলেন না বাবুল
সাংসদ-মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বিধানসভা নির্বাচনে টালিগঞ্জে বিজেপির টিকিটে দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানে তাঁর হারের পর থেকেই তিনি বিজেপিতে কোণঠাসা হতে শুরু করেন। মোদী-ঘনিষ্ঠ বাবুল সুপ্রিয় প্রথম থেকেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। তাঁকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরানো মানতে পারেননি বাবুল সুপ্রিয়। বিজেপিতে তিনি ভালো ছিলেন না।

রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ বিজেপির কারণেই!
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিজেপিতে তাঁরা ভালো না থাকা থেকেই রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়া। তিনি তাই অনেক ভেবেই দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে লেখেন রাজনীতি ছাড়ার কথা। তারপর সাংসদ পদ থেকেও তিনি ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু পরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকের পর মত পরিবর্তন করে সাংসদ থেকে যান।

বাবুল তারকা প্রচারকের তালিকায় ছিলেন বিজেপির
বাবুল সুপ্রিয় বলেন আসনসোলবাসীর জন্য দায়বদ্ধ আমি। তাই সাংসদ পদ ছাড়ছি না। কিন্তু রাজনীতিতে তাঁকে আর দেখা যাবে না। তিনি তৃণমূল বা অন্য কোনও দলে যোগও দেবেন না বলে স্পষ্ট করেই বলেন। এরপর ভবানীপুর উপনির্বাচনে ঘোষণার পর তাঁর নাম তারকা প্রচারকের তালিকায় ছিল বিজেপির। তখন তাঁর রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে জল্পনা শুরু হয় ফের।

মত বদলাচ্ছেন না জানিয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়
একাধারে বাবুল সুপ্রিয়র আইনজীবী বলে রাজনীতিতে পরিচিতি পেয়েছিলেন যে প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল, তাঁকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তারপর প্রচারকের তালিকায় বাবুল সুপ্রিয়কে রাখা হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও বাবুল সুপ্রিয়তে নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। কিন্তু তারপরও বাবুল সুপ্রিয় বলেছিলেন তিনি তাঁর মত বদলাচ্ছেন না।

মাত্র তিনদিনেই বদলে গেল পরিস্থিতি, তৃণমূলে বাবুল
কিন্তু মাত্র তিনদিনেই বদলে গেল পরিস্থিতি। বাবুল সুপ্রিয় রাজনীতি ছেড়ে আর থাকতে পারলেন না। ভবানীপুর উপনির্বাচন প্রাক্কালে তিনি যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। বিনা মেঘে বজ্রপাত হল গেরুয়া শিবিরে। বিজেপি কল্পনাও করতে পারেনি এত বড় ঘটনা ঘটতে চলেছে বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে। গোপনীয়তা বজায় রেখেই তৃণমূল যোগদান করাল বাবুল সুপ্রিয়কে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে তৃণমূলে যোগদান
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাবুল সুপ্রিয় বিজেপির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে রাজনীতি ছাড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিগত দেড়মাসে তিনি উপলব্ধি করেছেন রাজনীতি থেকে দূরে গিয়ে সাংসদ হিসেবে কাজ করা যায় না। আবার বিজেপিতেও তাঁর কাজ করার ক্ষেত্র নেই। বঙ্গ বিজেপিতে তিনি একধারে, আবার কেন্দ্রীয়ভাবেও তাঁকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

‘অ-রাজনৈতিক' বাবুলের বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ঝাঁপ
বাবুল সুপ্রিয়ও এই মেগা যোগদানে রাজ্য রাজনীতিতে আবার একটা মোড় এল। কেননা, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর অহি-নকুল সম্পর্ক থাকলেও শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। কিছুদিন আগেও তিনি শুভেন্দুর হয়ে কথা বলেন। কিন্তু বিজেপিকে কিছু বুঝতে না দিয়ে 'অ-রাজনৈতিক' বাবুলের তৃণমূলে ঝাঁপ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়।

বাবুলের তৃণমূলে যোগদানে আরও বড় ভাঙনের ইঙ্গিত
বিশেষ করে বিজেপিকে পর্যুদস্ত করে তৃণমূল টানা তিনবার ক্ষমতায় আসার পরে বিজেপিতে এতবড় ভাঙন গেরুয়া শিবিরের কাছে বড় ধাক্কা। ২০১৪-য় দেশে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি এসেছিল ক্ষমতায়। তখন বাংলা থেকে একমাত্র বিজেপির সংসদ-প্রতিনিধি ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। তাঁর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে চলে যাওয়া আরও বড় ভাঙনের ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications