কোচবিহার পুরসভা কার হাতে যাবে! ত্রিমুখী লড়াইয়ের কাউন্টডাউন শুরু এখন থেকেই
সামনেই পুরসভার ভোট আর এই ভোটকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। কোচবিহারে ত্রিমুখী লড়াই হতে চলেছে। এরই মধ্যে কোচবিহার পুরসভা কার হাতে উঠছে সেই নিয়ে কৌতূহল সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সামনেই পুরসভার ভোট আর এই ভোটকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। কোচবিহারে ত্রিমুখী লড়াই হতে চলেছে। এরই মধ্যে কোচবিহার পুরসভা কার হাতে উঠছে সেই নিয়ে কৌতূহল সাধারণ মানুষের মধ্যে। কোনো দলই তাদের এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে নারাজ।

এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূলের লড়াই নয়। রাজ্যর রাজনীতিতে এখন ফুলফুটে আছে ভারতীয় জনতা পার্টির। নতুন শক্তির উত্থানে বদলে গেছে রাজনৈতিক সমীকরণও। এই পুরসভার নির্বাচনে কংগ্রেস ও সিপিএম জোট বেঁধেছে এই লড়াইয়ে।
তাঁদের দাবি, শুধু কংগ্রেস সিপিএমই নয় ধর্ম নিরপেক্ষ যেকোন শক্তিকে এই মঞ্চে সামিল করে এই যুদ্ধে সামিল হচ্ছে তাঁরা। অন্যদিকে উন্নয়নকে হাতিয়ার করে লড়াইয়ে নামছে তৃণমূল-কংগ্রেস। এই নির্বাচনে লড়াই করার জন্য তৈরি গেরুয়া শিবিরও। লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার সহ গোটা উত্তরবঙ্গে গেরুয়া শিবির তাদের ভালো ফল হওয়ায় কোচবিহার পুরসভা দখলের স্বপ্ন দেখছে তাঁরা।
২০ আসন কোচবিহার পুরসভায়। সংখ্যালঘু হলেও ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ২ নির্দল সমর্থককে নিয়ে ক্ষমতায় আছে বর্তমান তৃণমূল পরিচালিত পুরভোট। প্রথমে এই পুর বোর্ডের চেয়ার পার্সেন ছিলেন তৃণমূলের রেবা কুণ্ডু। আড়াই বছরের মধ্যে কাউন্সিলারের পুত্রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। দলের নির্দেশে সেই সময় তাঁকে সরতে হয়। পরবর্তী সময় পৌর প্রধান হন তৃণমূলের ভূষণ সিং।
বর্তমান এই পুর বোর্ডের বামেদের আসন রয়েছে ৮ টি, তৃণমূলের আসন রয়েছে ১০ টি এবং দুজন নির্দল কাউন্সিলার আছে। শহরের দিকে ৬ নং ওয়ার্ডে তৃণমূল কাউন্সিলারের মৃত্যুর পর সেই আসনে উপনির্বাচন হয়নি। এই অবস্থায় শনিবার ২ নির্দল কাউন্সিলার এবং ২ বামপন্থী কাউন্সিলার সহ দুই পুরনো কাউন্সিলর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পুরপ্রধান ভূষণ সিং-এর সাথে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠে সিপিএমের এক বহিষ্কার কাউন্সিলার তার দলে আছে বলে। অন্য দিকে ফরওয়ার্ড ব্লক তার ২ কাউন্সিলারকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। শনিবার কোচবিহারের একটি হোটেলে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিআইএম কাউন্সিলর রমাপতি গুপ্ত চৌধুরী,১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফরওয়ার্ড ব্লক কাউন্সিলর তপন কুমার ঘোষ, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শম্পা রায়,১৪ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল কাউন্সিলর গৌতম বড়ুয়া তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়, পৌরপিতা ভুষন সিং, আব্দুল জলিল আহমেদ সহ অন্যান্য তৃণমূল কর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরেই কোচবিহার শহরে মূলত উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সাথে বারবার সংঘাত দেখা গিয়েছিল রাজনৈতিক কারণে।
পুরসভা নির্বাচনের আগে একপ্রকার বলাই যায় ভূষণ সিং এর নেতৃত্বে এই চারজন কাউন্সিলর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে শহরের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে আছে পৌরসভার ওয়ার্ডে। আজকের দিনে এই ধরনের দলবদল কোচবিহার পৌরসভা সামনে রেখে নির্বাচনে নতুন আঙ্গিক বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
যদিও এ বিষয়ে যদিও এ বিষয়ে কোচবিহার জেলা বিজেপির সভানেত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন এর আগে থেকেই একসাথে মিলে কাজ করেছি। অন্য দল থেকে টিকিট পাবেন না তাই টিকিটের লোভেই স্বজনপোষণকে হাতিয়ার করে এই কাউন্সিলররা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছে।
তিনি আরও জানান এই কাউন্সিলররা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেও এবারের পুর নির্বাচনে পুরসভার দখল বিজেপি নেবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে পরবর্তী ভূষণ সিং বলেন এই চারজন কাউন্সিলর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করার ফলে তৃণমূল কংগ্রেস আরো বেশি শক্তিশালী হল।
সেই সাথে পরবর্তী পুর নির্বাচনে কোচবিহার পুরসভা তৃণমূল কংগ্রেসের হাতেই থাকবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে কোচবিহার সিপিআইএমের জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় বলেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রমাপতি গুপ্ত চৌধুরীকে দল আগেই বহিষ্কার করেছে তাই তিনি কোন দলে যাবেন না। তিনি যাবেন কী করবেন তা নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই সিপিআইএমের। যদিও এ বিষয়ে ফরওয়ার্ড ব্লকের কোনও মুখ খুলতে চাননি।












Click it and Unblock the Notifications