SIR ঘিরে নতুন বিতর্ক! নতুন PRC নিয়মে কারা সমস্যায় পড়তে পারেন? কীভাবে হবে যাচাই? জানিয়ে দিল ECI

পশ্চিমবঙ্গে চলমান ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে বিতর্কের মাঝেই এবার আরও কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। রবিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (ECI) জানিয়ে দিয়েছে যে, ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আর আগের মতো নির্বিঘ্নে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট (PRC) গ্রহণ করা হবে না। যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হয় তাহলে এই নথি আর বৈধ বলে গণ্য করা হবে না।

SIR PRC ECI

ইসির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৬-এর জানুয়ারি মাসে পাঠানো আগের চিঠির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তখনই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (Domicile Certificate)-কে বসবাসের প্রমাণ হিসেবে বাতিল করা হয়েছিল। আর সেই ধারাবাহিকতায় এবার পিআরসি-র ক্ষেত্রেও স্পষ্ট নিয়ম বেঁধে দিল নির্বাচন কমিশন।

পিআরসি গ্রহণের জন্য তিনটি বাধ্যতামূলক শর্ত:

নতুন নির্দেশিকা অনুসারে, ভোটার যাচাইয়ের সময় পিআরসি গ্রহণ করা হবে শুধুমাত্র তখনই,

  • যদি তা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের জারি করা হয়: জেলা শাসক (DM), অতিরিক্ত জেলা শাসক (ADM), মহকুমা শাসক (SDO) বা কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টরের সই থাকা অত্যন্ত বাধ্যতামূলক।
  • আইনি কাঠামোর মধ্যে কাজ: ভোটার তালিকা সংশোধনের সাথে যে সমস্ত আধিকারিকরা যুক্ত হয়েছে তাদের ১৯৫০ সালের রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট অনুসারে কাজ করতে হবে।
  • রাজ্য সরকারের গাইডলাইন মেনে চলা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নথি ২ নভেম্বর ১৯৯৯-এর নির্দেশিকা ও পরবর্তী সংশোধনী অনুযায়ী হতে হবে।

ইসির এই সিদ্ধান্তের কারণে যাঁরা আগে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (Domicile Certificate) জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিলেন, তাঁদের আবারও নতুন করে শুনানিতে ডাকা হতে পারে। সেখানে নতুন নিয়ম অনুসারে সমত নথি জমা দিতে হবে।

এই সম্পূর্ণ SIR প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরী হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে এই সংশোধন প্রক্রিয়ার কড়াভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, জটিল এবং পুরনো পদ্ধতির চাপে রাজ্যের একাধিক বুথ লেভেল অফিসার (BLO) আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

অন্যদিকে আবার, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য আগেই দাবি করেছিলেন যে, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের ব্যক্তিগতভাবে বাংলায় এসে পরিস্থিতিটা নিজের চোখে দেখে যাওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ যে, সরকারি দপ্তরে ঢুকে BLO-দের ভয় দেখিয়ে তৃণমূলের 'গুন্ডারা' ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপি করেছে।

এই বিতর্কে আবার নতুন মাত্রা যোগ করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। আগেই তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, নাগরিকত্ব এবং বসবাস প্রমাণ করার এই জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সবথেকে বেশি সমাজের প্রান্তিক মানুষদের ক্ষতি করছে। যাঁদের পক্ষে জেলা শাসক অথবা উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছ থেকে সার্টিফিকেট জোগাড় করা একদমই অসম্ভব একটি কাজ।

নির্বাচন কমিশনের দাবি যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ভোটার তালিকা সম্পূর্ণভাবে যাচাই করার জন্যেই এইরকম কড়াকড়ি ব্যবস্থা। কমিশনের মতে, গত ২৩ বছরে অনেক ভোটার মারা গেছেন, অনেকে রাজ্য ছেড়েছেন আবার অনেকেনিজেদের ঠিকানা বদলেছেন। এর ফলে বর্তমান তালিকায় এক বড়সড় গরমিল রয়েই গিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০২ সালে বাংলায় শেষ বড়সড় SIR হয়েছিল।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+