ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী কে এই প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল জানেন? বিজেপিতে কীভাবে উত্থান তাঁর
আরও এক প্রেস্টিজিয়াস ফাইট! নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুর। ফের একবার ভোটে লড়াইয়ের ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম থেকে অনেকটাই এগিয়ে থেকে এই কেন্দ্রে লড়াই শুরু করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একেবারে দিনক্ষণ, সময় দেখে
আরও এক প্রেস্টিজিয়াস ফাইট! নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুর। ফের একবার ভোটে লড়াইয়ের ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম থেকে অনেকটাই এগিয়ে থেকে এই কেন্দ্রে লড়াই শুরু করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একেবারে দিনক্ষণ, সময় দেখে আজ শুক্রবার প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিলেন তিনি।
এরপর সোজা চলে যান গণেশ পুজোতে। তবে ভবানীপুর তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা। গতবারেও এই কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয় পেয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তবে এবার তৃণমূলের টার্গেট নেত্রীর জয়ের ব্যাবধান বাড়ানো।
তবে প্রথম থেকে কার্যত গোল খেলেও শেষবেলায় কার্যত প্রিয়াঙ্কা টিবড়েওয়ালকে প্রার্থী করে মাস্টারস্ট্রোক বিজেপির। বঙ্গ বিজেপি মনে করছে, লড়াইয়ের ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেগ দিয়ে প্রিয়াঙ্কা হয়ে উঠবে তরুপের তাস!

এটা কে? প্রশ্ন ফিরহাদের
ভবানীপুর কেন্দ্রে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই কার্যত উচ্ছ্বাস দলে। তবে এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ফিরহাদ বলেন, এটা কে? খায় না মাথায় দেয়? সমাজে তাঁর অবদান কী?' যদিও পাল্টা দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কাও। 'ভবানীপুরে বিধায়ক নির্বাচনের লড়াই নয়, তাতে তো উনি আগেই হেরেছেন', মমতার সঙ্গে সম্মুখসমরে জানালেন প্রিয়াঙ্কা। তবে তাঁর প্রচারে ভোট পরবর্তী হিংসা যে উঠে আসবে তা কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।
তবে এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, যেহেতু একজন মহিলা লড়ছেন ভবানীপুরে, তাই আমরাও চাইছিলাম একজন মহিলা নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে থাকুক, যাতে সোজাসুজি লড়াইটা হয়। তবে লড়াইটা যে হবে সে ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি।

কিন্তু কে এই প্রিয়াঙ্কা?
এই মুহূর্তে তাঁর পরিচিয় তিনি একজন দুঁদে আইনজীবী। তবে বিজেপির হয়ে লড়াই করেন। কিন্তু তিনি কেন এতটা ভরসার জায়গা হয়ে উঠলেন বিজেপিতে? তবে লড়াইটা দীর্ঘদিনের। বাবুল সুপ্রিয়ের আইনজীবী হিসাবে কাজ শুরু করেন প্রিয়াঙ্কা। এরপর ধীরে ধীরে বিজেপি দলের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া।
এরপর ২০১৪ সালে বাবুল সুপ্রিয়ের হাত ধরেই বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রিয়াঙ্কার। প্রথমদিন থেকে সামণে থেকে লড়াই চালিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। যে কোনও আন্দোলনের ক্ষেত্রে সামনে থেকেছেন।
এমনকি আইনজীবী হিসাবে কখনও সুপ্রিম কোর্ট আবার কখনও কল্কাতাব হাইকোর্টে দলের হয়ে লড়াই করেছেন।

কলকাতা পুরসভাতে প্রার্থী হন প্রিয়াঙ্কা
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই প্রার্থী করা হয় আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবড়েওয়ালকে। ২০১৫ সালে কলকতাতা পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে। কিন্তু হারতে হয়। ব্যাপক ব্যবধানে হার হয় তাঁর। তবে লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে যাননি প্রিয়াঙ্কা। বরং লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন।
একটা সময় সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বিজেপির মুখ হিসেবেও দেখা যায় প্রিয়াঙ্কা টিবড়েওয়ালকে। এরপর দলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান ২০২০ সালের অগস্টে। যুব মোর্চার রাজ্য সহ-সভাপতি করা হয় প্রিয়ঙ্কাকে।
এরপর গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হন এন্টালি আসনে। কিন্তু তৃণমূলের কাছে হারতে হয় প্রায় ৫৯ হাজার ভোটে। কিন্তু এরপরেও লড়াইয়ের ময়দানে ছাড়েনিনি।
ভোট পরবর্তী হিংসাতে কর্মীদের সবিচার দিতে লড়াই শুরু করেণ। একের পর এক মামলা। কখনও সুপ্রিম কোর্ট তো আবার কখনও হাইকোর্টে আইনি লড়াই। শেষমেশ সিবিআই

দলের সুনজরে পড়ে যান
কার্যত এটা ছিল প্রিয়াঙ্কার টার্নপয়েন্ট। যে ভাবে আইনি লড়াই লড়েছেন তা একককথায় প্রিয়াঙ্কাকে কুর্নিশ জানান বিজেপি নেতারা। দিলীপ ঘোষ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর একেবারে সুনজরে পড়ে যান তিনি।

এক নজরে পড়াশুনা
১৯৮১ সালে কলকাতাতে জন্ম হয় প্রিয়ঙ্কার। এখানেই স্কুলিং। ওয়েল্যান্ড গোলস্মিথ স্কুলে লেখাপড়া করেন। এরপ্র যদিও পড়াশুনার একটা সময়ে দিল্লিতে কাটাতে হয়েছে প্রিয়াঙ্কাকে। সে রাজ্য থেকে থেকে স্নাতক হওয়া। এরপর যদিও ফের একবার কলকাতায় ফিরে আসা। হাজরা ল কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক হন। এর পরে মানবসম্পদ বিষয়ে এমবিএ করেন তাইল্যান্ড অ্যাসামপশন ইউনিভার্সিটি থেকে। বাংলা তো বটেই সেই সঙ্গে হিন্দি ও ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ প্রিয়ঙ্কা।












Click it and Unblock the Notifications