পাল্লা ভারী উত্তরবঙ্গ লবির, বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কিন্তু পেশায় অধ্যাপক
পাল্লা ভারী উত্তরবঙ্গ লবির, বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কিন্তু পেশায় অধ্যাপক
একুশের ভোটে বিজেপির শোচনীয় হারের পর থেকেই দিলীপের পয়েন্ট কমতে শুরু করেছিল দিল্লির কাছে। দিলীপকে ছাপিয়ে কাছের হয়ে উঠেছিলেন শুভেন্দু। মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর সব ওলট পালট হয়ে যায় সমীকরণ। বিজেপির অন্তরে আদি নব্যের দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে ওঠে। দিলীপ সরতে চলেছেন গুঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছিল। মোদীর মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গের একাধিক বিজেপি সাংসদের জয়গা করে নেওয়ার পরেই সক্রিয় হয়ে উঠেছিল উত্তরবঙ্গ লবি। শেষ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গকে পাখির চোখ করেই রাজ্য সভাপতি বদল করলেন মোদী-শাহরা। একেবারে বালুরঘাটের সাংসদকে রাজ্যসভাপতির পদে বসিয়ে উত্তরবঙ্গের প্রতি নতুন বার্তা দিলেন তাঁরা। অমিত শাহের চাণক্যনীতিতেই সুকান্ত মজুমদারকে রাজ্য সভাপতির পদে বসানো হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিজেপির নতুন রাজ্যসভাপতি
অবশেষে সরতেই হল দলীপ ঘোষকে। গত কয়েক মাস ধরেই জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। মুকুলের জায়গায় দিলীপকে বসিয়ে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হল তাঁকে। আর তার জায়গায় বসানো হল বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে। শোনা যাচ্ছে একুশের বিধানসভা ভোটে বিজেপি জিতলে এই সুকান্তকেই মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসাতেন মোদী-অমিত শাহরা। সেটা যেহেতু শেষ পর্যন্ত করা গেল না। তাই রাজ্য সভাপতি পদে সুকান্তকে বসিয়ে উত্তরবঙ্গের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিলেন দিল্লির নেতারা। ২০২৪-র লোকসভা ভোটে বঙ্গের আসন ধরে রাখতে উত্তরবঙ্গকেই পাখির চোখ করে এগোতে চাইছেন তাঁরা।

কে এই সুকান্ত মজুমদার
একুশের বিধানসভা নির্বাচনেও সুকান্ত মজুমদারকে তেমন সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি। অন্তরালে থেকেই কাজ করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি সঙ্গে যুক্ত তিনি। বালুরঘাট কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন বিজেপির টিকিটে। আপাদমস্তক উত্তরবঙ্গের ছেলে। পড়াশোনা করেছেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বটানির ছাত্র। এমএ, পিএইচডি সবটাই উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করেছেন। কাজও শুরু করেন উত্তরবঙ্গেই। গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালসের সহকারী অধ্যাপক তিনি। যদিও এখন থাকেন দিল্লিতে। তাঁর স্ত্রী কোয়েল চৌধুরী। তিনিও শিক্ষিকা। মালদহের শোভানগর হাইস্কুলের শিক্ষিকা তিনি। শিক্ষিত পরিবার তাতে কোনও সন্দেহ নেই। দিলীপ ঘোষের মত বেফাঁস মন্তব্য তাঁর কাছ থেকে আশা করা যায় না। সেবিষয়ে নিশ্চিন্ত হতেই পারে দিল্লি।

কেন সুকান্ত
হঠাৎ করে রাজ্য সভাপতি নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে নজর দিল কেন বিজেপি এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আৎ এই প্রশ্নের সূত্রেই উঠে আসছে বেশ কিছু সমীকরণ। একুশের বিধানসভা ভোটের পর মোদীর মন্ত্রীসভা রদবদলে উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকজন সাংসদ জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর মধ্যে যেমন রয়েছেন জন বার্লা, তেমন রয়েছেন নীশিথ প্রামাণিক। তার আগেই পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবিতে সওয়াল করেছিলেন জন বার্লা। দিলীপ ঘোষ সেটা সাংসদের ব্যক্তিগত মতামত বলে দাবি করেছিলেন। তারপরেই জন বার্লাকে মন্ত্রিসভায় সামিল করার পর গুঞ্জন শুরু হয়েছিল তাহলে কি পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবিকে হাতিয়ার করেই ২০২৪-র ভোটে এগোবে বিজেপি। আর সেই কারণেই কী উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে সুকান্ত মজুমদারকে রাজ্য সভাপতির পদ দেওয়া।

উত্তরবঙ্গই হাতিয়ার
একুশের ভোটের ধাক্কার পর ২০২৪-কে পাখির চোখ করে এগোেত শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। বিশেষ করে বঙ্গে ২০১৯-র ফল ধরে রাখতে সেই উত্তরবঙ্গই যে ভরসা সেটা আঁচ করে ফেলেছেন অমিত শাহ। কারণ একুশের বিধানসভা ভোট যা বলছে তাতে ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, মেদিনীপুরে ভোট কমেছে বিজেপির। কাজেই বঙ্গে ভাল ফল করতে গেলে উত্তরবঙ্গের শক্তঘাঁটি হাতছাড়া করলে চলবে না। একুশের বিধানসভা ভোেটও দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে ভাল ফল করেছে বিজেপি। শিলিগুড়ি, শিতলকুিচর মতো বিতর্কিত জায়গায় জয় পেয়েছে বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications