সিবিআইয়ের হাতে ধৃত কে এই কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় জানেন? কীভাবেই বা কাজ করত চক্র
সিবিআইয়ের হাতে ধৃত কে এই কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় জানেন? কীভাবেই বা কাজ করত চক্র
স্কুল সার্ভিস কমিশনে নিয়োগ-কাণ্ডে নয়া মোড়! গ্রেফতার কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়। আজ বৃহস্পতিবার দীর্ঘ ছয় ঘন্টারও বেশি সময় জেরা করা হয় তাঁকে। দীর্ঘ জেরায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি। আর এরপরেই তাঁকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেন সিবিআই আধিকারিকরা। নিয়োগ দুর্নীতিতে সরাসরি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় জড়িত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এমনকি তাঁর অঙ্গুলিহেলনেও দীর্ঘ কেলেঙ্কারি হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

কিন্তু কে এই কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়?
জানা যায়, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ছিলেন এই কল্যাণময়। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি হিসাবে দীর্ঘ ছয় বছর দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। একেবারে ২০১৬ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তিনিই ছিলেন পর্ষদের সর্বেসর্বা। শুধু তাই নয়, অবসরের বয়স হয়ে গেলেও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি পদে বহাল রাখা হয় কল্যাণময়কে। একেবারে বিধানসভায় আইন পাশ করে বয়স ৬৮ বছর করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

পর্ষদের পদে থেকে গিয়েছিলেন
কিন্তু সেই বয়সও পেরিয়ে যায়! পর্ষদের পদে থেকে গিয়েছিলেন কল্যাণময়। এমনকি শিক্ষক দুর্নীতি নিয়ে যখন উত্তাল বাংলা সেই সময় বহাল তবিয়তে তিনি। যা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। যদিও শেষমেশ কল্যাণময়কে সরায় রাজ্য সরকার। SSC দুর্নীতিতে নাম জড়াতেই তাঁকে সরানো হয়। বলে রাখা প্রয়োজন, প্রাক্তন সভাপতির বিরুদ্ধে একের পর এক নিয়োগ কেলেঙ্কারির তিথ্য সামনে এসেছে। প্রভাব খাটিয়ে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন বলেও নাম এসেছে কল্যাণময়ের। রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যাকে চাকরি পাইয়ে দিতেও নাকি তাঁর হাত রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

বাক কমিটির রিপোর্টে নাম ছিল
কলকাতা হাইকোর্টের বাক কমিটির রিপোর্টে নাম ছিল কল্যাণময়ের। তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কি অভিযোগ তা বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগের রিপোর্টে বলা হয়েছে। এসএসসি দুর্নীতি মামলার অন্যতম কিংপিন শান্তিপ্রসাদ সিনহা। যিনি এই মুহূর্তে সিবিআই হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে কল্যাণময়ের নিবিড় যোগ ছিল। এমনটাই রিপোর্ট ছিল বাগের রিপোর্ট। কিন্তু কীভাবে চলত এই চক্র? স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে একটা সুপারিশের প্রয়োজন হয়। শান্তিপ্রসাদ সিনহা উপদেষ্টা কমিটির মাথায় ছিলেন। তিনি তাঁর নিচের কর্মীদের দিয়ে ভুয়ো সুপারিশ পত্র ছাপাতেন। এমনকি মেয়াদ উত্তীর্ন সুপারিশ পত্র ছাপানো হত বলে রিপোর্টে উল্লেখ। আর এরপর সেগুলি কখনই পেন ড্রাইভ, সিডি কিংবা হার্ড কপি কল্যাণময়ের অফিসে পৌঁছে দিতেন শান্তিপ্রসাদ সিনহা। এরপর কল্যাণময় সেই সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ করা হত বলেও চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে।

একের পর এক অভিযোগ
কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা বলছেন এর পিছনে অনেক বড় কেলেঙ্কারি রয়েছে। শুধু তাই নয়, সিবিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে, কল্যানময়ের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া, যাচাই না করেই এসপি সিনহা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ
করা, বাগ কমিটির রিপোর্টে নাম , গ্রুপ সি ডি নিয়োগে দুর্নীতি, হাই জাম্প চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়ার ম্পতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে বলে সিবিআই সূত্রে খবর।












Click it and Unblock the Notifications