একুশে ধেয়ে আসতে পারে যে সব ঘূর্ণিঝড়, ১৬৯টি সাইক্লোনের তালিকায় কে করল নামকরণ
একুশে ধেয়ে আসতে পারে যে ঘূর্ণিঝড়, ১৬৯টি সাইক্লোনের তালিকায় কে করল নামকরণ
২০২০-তে করোনা মহামারীর মাঝেই বাংলার বুকে ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল সুপার সাইক্লোন আম্ফান। ২০০৪ থেকে ২০২০- ১৬ বছরে ৬৩টি ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকায় শেষতম ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। তারপর ২০২০-থেকেই শুরু হয়েছে নতুন নামাঙ্কিত ঝড়ের আনাগোনা। নতুন তালিকার চারটি ঝড়ও ইতিমধ্যে বয়ে গিয়েছে। ২০২১-এ সাগরে অপেক্ষায় আরও ঘূর্ণিঝড়।

ঘূর্ণিঝড়ের মরশুম শুরু, কে আছে অপেক্ষায়
ভারত মহাসাগর ক্রান্তীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের মরশুম শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে গতবারের মতো এবার ঘূর্ণিঝড়ের আভাস নেই আগামী একমাসের মধ্যে। আবহবিদরা জানিয়েছেন, এপ্রিল শেষের আগে ভারত মহাসাগরীয় ক্ষেত্রে বঙ্গোপাসাগর বা আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসার সম্ভাবনা একেবারে ক্ষীণ। ফলত প্রাক-বর্ষার মরশুমে ঘূর্ণিঝড় থেকে সাময়িক নিস্তার মিলবে এবার!

এপ্রিল মাস পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ
প্রতি বছরই মার্চ মাসে পর থেকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বয়ে নিয়ে আসে ভারতীয় উপকূলে। গতবার আম্পান তাণ্ডবলীলা চালিয়ে গিয়েছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে। এবার এপ্রিল মাস পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের কোনও সম্ভাবনা আবহবিদরা না দেখলেও, তারপর অর্থাৎ মে-জুন মাসে ধেয়ে আসতে পারে ঘূর্ণিঝড় বা কোনও সুপার সাইক্লোন।

কোন ঝড়ের নামকরণ হয়, কারা দেন নাম
উত্তর ভারত মহাসাগরের মধ্যে ৪৫ ডিগ্রি পূর্ব থেকে ১০০ ডিগ্রি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়গুলির নামকরণ করে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতর বা আইএমডি। যে সমস্ত ঘূর্ণিঝড় কমপক্ষে তিন মিনিট বাতাসে স্থায়ী হয় এবং গতিবেগ সর্বনিম্ন ঘন্টা প্রতি ৬৩ কিলোমিটার হয় সেই ঝড়ই ২০২০-র নতুন তালিকার ১৩ দেশের দ্বারা নামাঙ্কিত হয়।

১৩টি দেশ ১৩টি করে নাম দিয়ে তালিকা করেছে
সেইমতো ১৩টি দেশ ১৩টি করে নাম দিয়ে ১৬৯টি নামের তালিকা প্রস্তুত করেছে। সেই হিসেবেই পর্যায়ক্রমে নাম পেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়সমূহ। আম্ফানের নাম ব্যবহারের পরে ২০০৪ সালে তৈরি আট সারি তালিকা শেষ হয়ে গিয়েছে। পরবর্তী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়গুলি ২০২০ সালে প্রকাশিত ১৩ সারি তালিকার নাম ব্যবহার করে আসছে।

নতুন তালিকার যে সমস্ত ঝড় বয়ে গিয়েছে ২০২০-তে
পর্যায়ক্রমে ১৩টি দেশকে সাজানো হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে শুরু করে ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, আরব আমিরশাহী ও ইয়েমেন। এই দেশগুলি থেকে ১৩টি করে নাম নেওয়া হয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে সাজানো হয়েছে। সেই পর্যায়ক্রমিক নিসর্গ, গতি, নিভার ও বুরেভি ২০২০ সালেই বয়ে গিয়েছে।

কোন ঝড় অপেক্ষায় সাগরে, কে করল নামকরণ
১৩টি দেশের দেওয়া প্রথম নামের মধ্যে পর্যায়ক্রমে- তাউটে, ইয়াস, গুলাব, শাহীন, জওয়াদ, অশনি, সিতরং, ম্যানডৌস এবং মোচা নামক ঝড় আগামী দিনে বয়ে আসতে পারে। আবহবিদরা জানিয়েছেন, এপ্রিলে না হলেও মে-জুন মাসে এবছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় 'তাউটে' তৈরি হতে পারে। এই ঝড়ের নাম দিয়েছে মায়ানমার। তারপরের দুটি ঝড় যান ও গুলাবের নামকরণ যথাক্রমে ওমান ও পাকিস্তানের করা।

এই ঘূর্ণিঝড়ের মরশুমে সাময়িক নিস্তার মিলতে পারে
আবহবিদরা জানিয়েছেন, এক মাসের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের কোনও সম্ভাবনা নেই এবার। অর্থাৎ মার্চ মাসে তো নয়ই, এপ্রিল মাসেও ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসার সম্ভাবনা একেবারে ক্ষীণ। ফলে এবার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবলীলা থেকে এই ঘূর্ণিঝড়ের মরশুমে সাময়িক নিস্তার পাওয়া যাবে বলেই মনে করছেন আবহবিদরা।

মার্চে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা কতটা ভারতীয় ভূখণ্ডে
আবহিবদরা জানাচ্ছেন, মার্চে ঘূর্ণিঝড় গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে কম থাকে। তবে মার্চের শেষ শেষ এপ্রিল পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা প্রবল হয়। নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরের উপর দিয়ে গত ১০০ বছরে মাত্র তিনটি ঘূর্ণিঝড় ঝড় তৈরি হয়েছে মার্চে। এই ঝড়গুলির মাসের শেষের দিকে গঠন হয়। রেকর্ড অনুসারে, মার্চ মাসে এমন কোনও ঝড় নেই যা আমাদের উপকূলবর্তী অঞ্চলে কোনও ক্ষতি করেছে।

এপ্রিল মাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা প্রবল
এপ্রিল মাসে আরব সাগরের চেয়ে বঙ্গোপসাগরের উপর ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ায় সম্ভাবনা বেশি। এই ঝড়গুলি সাধারণত মায়ানমার বা বাংলাদেশের দিকে চলে যায় এবং খুব কমই ভারতীয় উপকূলে আঘাত হানে। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ফনি ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়েছিল। এটিকে আবহবিদরা ব্যতিক্রম বলেই ধরে নেয়। ১৯৯৯ সাল থেকে ওড়িশায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ছিল ফনি।

ঘূর্ণিঝড় তৈরির সবথেকে প্রবল মাস হল মে
বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির সবথেকে প্রবল মাস হল মে। এই মাসে বঙ্গোপসাগরে সর্বাধিক ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে যায়। কয়েকটি মাত্র পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা অভিমুখে ধেয়ে আসে। আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ওমান, ইয়েমেন এবং সোমালিয়া উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়। এই ঝড়ের খুব কমই পশ্চিম উপকূলের দিকে যাত্রা করে।

আরব সাগরে ঝড় গঠনের সম্ভাবনা বেশি জুনে
বঙ্গোপসাগরের চেয়ে আরব সাগরে ঝড় গঠনের সম্ভাবনা বেশি জুনে। এই ঝড় ওমান ও ইয়েমেনের দিকেও যায়। বঙ্গোপসাগর ২০০০ সালের পর থেকে কেবল একটি ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছে। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় ইয়েমিন কাকিনাড়ার কাছাকাছি এসেছিল। আরব সাগরে তিনটি ঝড় দেখা গিয়েছিল। গনু ২০০৭ সালে, বায়ু ২০১৭ সালে এবং নিসর্গ ২০২০ সালে।

২০০০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ২১ বছরের খতিয়ান
২০০০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ২১ বছরের ব্যবধানে ভারতীয় উপকূলে প্রাক-বর্ষা মৌসুমে কোনও ঝড় রেকর্ড করা হয়নি মাত্র তিন বছর। বিগত ১১ বছরে ভারতীয় উপকূলের যে কোনও দিকে অন্তত ১টি ঝড় দেখা গেছে। পাঁচ বছর ধরে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে দুটি করে ঘূর্ণিঝড় দেখা গেছে। ২০০৭ এবং ২০১০-এ তিনটি ঝড় রেকর্ড করা হয়। গত দশ বছরে প্রাক-বর্ষা মৌসুমে সর্বাধিক তিনটি ঘূর্ণিঝড় হয়েছে। সেগুলি বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে সমানভাবে হয়েছে।

ভারতীয় সমুদ্রে রেকর্ড সংখ্যক ৯টি ঘূর্ণিঝড় ২০১৯-এ
এখানে উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভারতীয় সমুদ্রে রেকর্ড সংখ্যক ৯টি ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছে ভারতীয় উপকূলে। গত ৫০ বছরের ইতিহাসে এটাই সর্বাধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড়। ২০১৯-এ যে ৯টি ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছিল তার নাম ছিল পাবুক, ফনি, বায়ু, হিক্কা, কায়ার, মহা, বুলবুল, পবন এবং টিএস ০৭এ বা জেটিডব্লিউসি। গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে প্রাক-বর্ষায় দুটি ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে। আম্ফান এবং নিসর্গ প্রাক বর্ষায় হয়েছিল। বর্ষা পরবর্তী সময়ে আরও তিনটি ঘূর্ণিঝড় হয়। মোট পাঁচটি ঘূর্ণিঝড় দেখা গিয়েছিল গত মরশুমে।
{quiz_541}












Click it and Unblock the Notifications