পশ্চিমবঙ্গে শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে বিঁধল বিজেপি
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় শুক্রবার সকাল থেকেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। জেলা থেকে বাইরে খেটে খাওয়া শ্রমিকদের উপর নানাবিধ হামলা ও অপমানের অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা এদিন জাতীয় সড়ক ১২ এ অবরোধ গড়ে তোলে। মহেশপুর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ, থমকে যায় উত্তর দক্ষিণ সংযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের যান চলাচল।
অবরোধ চলতে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। তার মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে পাথর ছোড়া, ট্রেন আটকানোর মতো অভিযোগ উঠেছে। পুলিশি তৎপরতার অভাব নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ আরও বাড়ে।

এই ঘটনা ঘিরে সরব হয় বিজেপি। দলের আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, "ফারাক্কা থেকে চাকুলিয়া হিংসা আর আইনশৃঙ্খলার অবনমন ছড়িয়ে পড়ছে সারা রাজ্যে। বেলডাঙার জাতীয় সড়ক পুরোপুরি দুষ্কৃতীদের দখলে। প্রশাসন কার্যত অদৃশ্য।"
তার আরও কটাক্ষ, "পশ্চিমবঙ্গে শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। তৃণমূলের মদতেই দুষ্কৃতীরা মাথা তুলছে, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।"
প্রতিবাদের পেছনে কেন ক্ষোভ?
বিক্ষোভকারীদের দাবি, রাজ্যের বাইরে বাংলা ভাষায় কথা বলায় মুর্শিদাবাদের শ্রমিকদের বারবার 'বাংলাদেশি' আখ্যা দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে, হামলা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডে শ্রমের কাজে গিয়ে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুয় ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছে।
এক প্রতিবাদীর কথায় "বাড়ির মানুষ বাইরে যায় পেটের দায়ে। কিন্তু সেখানে তাদের বারবার অপমান করা হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তা চাই, দোষীদের শাস্তি চাই।"
বিক্ষোভকারীরা মৃত শ্রমিকের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, ঘটনার তদন্ত ও জেলা থেকে বাইরে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানায়।
রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে
ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি তৃণমূলকে দায়ী করছে প্রশাসনিক ব্যর্থতার জন্য, তৃণমূল অবশ্য ঘটনাকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে পাল্টা অভিযোগ তোলার প্রস্তুতিতে।
বেলডাঙার রাস্তায় প্রতিবাদের ধোঁয়া মিলিয়ে গেলেও, প্রশ্ন রয়ে গেল রাজ্যের বাইরে শ্রমিকদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? আর রাজ্যের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা কতটাই বা দৃঢ়? সেই উত্তর চাইছে জনতা।












Click it and Unblock the Notifications