Panchayat Election 2023: দেদারে ছাপ্পা-ব্যালট লুঠ-খুনোখুনি, শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে আসা বাহিনী কোথায়?
বোমা-গুলি-ভোট লুঠ। আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। পঞ্চায়েত ভোটের লাগাম ছাড়া হিংসা জারি রয়েছে ভোটের দিনেও। গতকাল রাত থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে অশান্তি। কোথাও আবার রাত ২টোয় ভোট হয়ে গিয়েছে বলে বুথে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর দেখা নেই কোনও বুথেই। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে ৮২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন্দ্রের কাছে চেয়ে পাঠিয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তারমধ্যে প্রথমেই ৩১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে এসে পৌঁছেছিল। বাকি ৪৪৫ কোম্পানি কিন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। গতকার রাতে আরও ২১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বািহনী এসে পৌঁছয়। কিন্তু সকাল থেকে আর কোনও বুথেই তাঁদের দেখা যাচ্ছে না।

নিয়ম অনুযায়ী ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী আগের দিন রাত থেকেই এরিয়া ডোমিনেশন শুরু করে। ভোটারদের আতঙ্ক দূর করতে রুটমার্চ করে। কিন্তু পঞ্চায়েত ভোট যেন সব নিয়মের বাইরে চলে গিয়েছে। গতকাল রাত থেকে সকাল ১০ পর্যন্ত রাজ্যে ৭ জন খুন হয়েছেন। তার মধ্যে শাসক বিরোধী উভয় দলের কর্মী সমর্থকই রয়েছে।
জেলায় জেলায় বুথে বুথে রীতিমতো লুঠ চলছে। ব্যলট পেপার লুঠ করা হচ্ছে প্রকাশ্যে। বুথে ঢুকে চলছে দেদারে ছাপ্পা ভোট। কোথাও কোনও কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই। এমনকী রাজ্য পুলিশের দেখাও পাওয়া যাচ্ছে না। গাছ তলায় দাঁড়িয়ে বিডিও গেম খেলছে সিভিক ভলেন্টিয়ার। যদিও হাইকোর্টের নির্দেশ অনুয়ায়ী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে না সিভিক ভলেন্টিয়ার।
বোমাবাজি, গুলি থেকে শুরু করে হুমকি, খুন কোনও কিছুই বাদ যাচ্ছে না ভোটে। নন্দীগ্রামে বাহিনীর দাবিতে চলছে বিক্ষোভ। পুলিশকে ঘেরাও করে বিষ হাতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মহিলারা। গোটা রাজ্যে যেন রক্তের হোলি খেলা চলছে। বুথের ভেতরেই কোচবিহারে গুলি করে খুন করা হয়েছে বিজেপির পোলিং এজেন্টকে। বুথের মধ্যেই রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে। মুর্শিদাবাদে আবার শাসক দলেন নেতা খুন হয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানে সিপিএম কর্মী খুন হয়েছেন। ব্যারাকপুরের মোহনপুরে প্রকাশ্যে নির্দল প্রার্থীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে।

ভাঙড়ে যত্র তত্র পড়ে রয়েছে বোমা। আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বেরোতে পারছেন না ভোটাররা। আইএসএফ কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। রানিনগরে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হচ্ছে। সকেট বোমা-বোতল ছোড়া হচ্ছে। ব্যাগ ভর্তি করে বোমা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এলাকায়। এমনকী পুলিশকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রানিনগরে শূন্যে গুলি চালায় পুলিশ।
এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশ মতো প্রতি বুথে চার জন করে সশস্ত্র জওয়ান থাকার কথা। তার সঙ্গে থাকবে রাজ্য পুলিশও। কিন্তু তার কিছুই দেখা যাচ্ছে না। ইচ্ছে করে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ডিস্ট্রিবিউট করা হয়নি বলে অভিযোগ। চরম অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গোটা রাজ্যে। মুড়ি-মুড়কির মতো বোমা ছোড়া হচ্ছে মুর্শিদাবাদের রানি নগরে।












Click it and Unblock the Notifications