West Bengal Panchayat Election 2023: এত শান্তিপূর্ণ মনোনয়ন হয়নি বাংলায়, রাজ্যপালের বার্তার পর মমতা
পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্বের প্রথম দিন থেকে উত্তপ্ত হয়েছে বাংলা। জেলায় জেলায় অশান্তির খবর সামনে এসেছে। এমনকী রক্তও ঝরেছে। মনোনয়নের শেষ দিনে আবার হিংসা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। শেষ দিনে চার জনের মৃত্যু হয়েছে বাংলায়।
এই পরিস্থতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, বাংলায় এক শান্তিপূর্ণ মনোনয়ন এর আগে হয়নি। শুধু বলেই ক্ষান্ত নন তিনি। তিনি একেবারে পরিসংখ্যান তুলে জানিয়ে দিয়েছেন তার কথার সত্যতা। তাঁর সাফ কথা, শুধু অপপ্রচার করলে চলবে না। দেখুন বাংলা বিগত পঞ্চায়েতগুলির চিত্র।

ভাঙড়ে মননোয়ন নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে তৃণমূলের কোনো হাত নেই বলে যেমন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেমনই তিনি বিরোধীদের অভিযোগ ও ভাঙড়ে গিয়ে রাজ্যপালের বার্তা খণ্ডন করেছেন একই উপায়ে।
পঞ্চায়েত ভোটের গোটা মনোনয়ন পর্বই প্রাক নির্বাচনী সন্ত্রাসে তপ্ত ছিল। কিন্তু নামখানায় নবজোয়ারের সমাপ্তি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এত শান্তিপূর্ণ মনোনয়ন এর আগে হয়নি। অতীতের তিনটি পঞ্চায়েত ভোটের পরিসংখ্যানও দেন তিনি।
অতীতের তিনটি পঞ্চায়েত ভোটের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, গত তিন নির্বাচনে কত সংখ্যাক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, তা জানার পরও কী করে বিরোধীরা মুখ খুলছেন। ২০০৩ সালে, ২০০৮ সাল এমনকী বাংলায় পরিবর্তনের পর ২০১৩ সালের নির্বাচনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি জানান, এবার ভাঙড়ে যে লাগাতার হিংসার ঘটনা ঘটেছে, তার দায় বিরোধীদেরই। বিরোধীরা সবাই একজোট হয়ে সন্ত্রস্ত করছে এলাকাকে। আর তৃণমূলের নাম দিয়ে বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলার মানুষ এই অপচেষ্টার জবাব দেবে সঠিক সময়েই।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলেন, বাংলায় মোট ২ লক্ষ ৩১ হাজার মনোনয়ন জমা পড়েছে। তার মধ্যে তৃণমূল ৮৩ হাজার মনোনয়ন জমা দিয়েছে। বাকি দেড় লাখ মনোনয়ন বিরোধীদের। তবু তারা বলছে মননোয়ন জমা দিতে পারেননি। বলছেন, তৃণমূল তাদের মনোনয়নে বাধা দিয়েছে।

মমতার কথায়, তৃণমূল একা নির্বাচনে লড়ছে আর বিরোধীরা লড়ছে এক হয়ে। তৃণমূল যেখানে ৮৩ হাজার বিরোধীরা সেখানে দেড় লক্ষ মনোনয়ন দিয়েছে, তারপরও তাঁরা অভিযোগ তুলছে। কিন্তু এ কথা হলফ করে বলা যায়, এত শান্তিপূর্ণ মনোলয়ন এর আগে হয়নি।
পূর্বের তিন নির্বাচনের পরিসংখ্যানও তুলে ধরে মমতা বলেন, ২০০৩ সালে ৭০ জন মারা গিয়েছিলেন, ২০০৮ সালে মারা গিয়েছিলেন ৩৬ জন। আর ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এবারও বিরোধীদের দাবি মেনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মমতা বলেন, মণিপুরেও তো কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে যাওয়া হল, তারপর কী হল? সেন্ট্রাল মিনিস্টারের বাড়িই জ্বালিয়ে দেওয়া হল। কিছুই করতে পারেনি কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুধু বড়ো বড়ো কথা বললে হয় না কাজে করে দেখাতে হয়। বিরোধীরা একজোট হয়েছে, কিন্তু তাতে লাভ কিছু হবে না।












Click it and Unblock the Notifications