বঙ্গ নির্বাচনের আগে মতুয়াদের এড়াতে চাইছে বিজেপি! সিএএ ইস্যুতে কাঠগড়ায় মোদী-শাহ
তৃণমূল হোক বা বিজেপি, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়াভোট বাগে আনতে মরিয়া দুই পক্ষই৷ মতুয়াদের নাগরিকত্বের দাবিই যুধুধান দুই পক্ষের তুরুপের তাস৷ তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, মতুয়ারা ভারতের নাগরিক৷ তাই নতুন করে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কোনও প্রয়োজনই নেই৷

আইনবলেই ভারতের বৈধ নাগরিক হিসাবে স্বীকৃতি পাবেন মতুয়ারা!
অন্য়দিকে, বিজেপির দাওয়াই, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ৷ গেরুয়া শিবিরের দাবি, এই আইনবলেই ভারতের বৈধ নাগরিক হিসাবে স্বীকৃতি পাবেন মতুয়ারা৷ তৃণমূলের প্রশ্ন, তবে কি এতদিন মতুয়ারা দেশের নাগরিক ছিলেন না? অথচ তাঁদের প্রতিনিধিরা তো ইতিমধ্যেই ভোটে জিতে মন্ত্রিত্ব পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছেন।

এতদিন মতুয়ারা দেশের নাগরিক ছিলেন না?
বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে ঠিক এই প্রশ্নটাই তুলেছেন তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু৷ উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই সিএএ ইস্যুতে ফের একবার সরব হন লোকসভার বিরোধী সাংসদরা৷ আইন প্রণয়নের এতদিন পরও কেন তা কার্যকর হল না, তা জানতে চান লোকসভার কংগ্রেস সাংসদ ভিকে শ্রীকন্ডন৷ তার জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, এই আইন সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি নির্ধারণের পাশাপাশি তা প্রয়োগের প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য কেন্দ্রকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছে রাজ্যসভা৷ আর লোকসভার সংশ্লিষ্ট কমিটি এরজন্য ধার্য করেছে ৯ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা৷

সন্দেহ প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস
ঠিক এখানেই সন্দেহ প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ বুধবারের সাংবাদিক বৈঠকে ব্রাত্য়র অভিযোগ, মতুয়াদের নাগরিকত্বের দাবিকে আপাতত ঝুলিয়ে রাখতেই এই দু'টি নির্দিষ্ট তারিখের কথা বলা হয়েছে৷ কারণ, ওই সময়ের মধ্য়ে হয় এ রাজ্য়ে ভোটপ্রক্রিয়া চলবে৷ অথবা নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে৷

অসমে লক্ষাধিক হিন্দুকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে
তৃণমূলের যুক্তি, যেভাবে অসমে এনআরসি কার্যকর করতে গিয়ে লক্ষাধিক হিন্দুকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে, এ রাজ্য়ে একই প্রক্রিয়া কার্যকর হলে মতুয়াদের অবস্থাও অসমের বাঙালি হিন্দুদের মতো হবে৷ সেটা বুঝতে পেরেই এখন ঢোঁক গিলছে বিজেপি৷ মতুয়াদের বৈধ নাগরিকত্বের গাজর দেখিয়ে আসলে ভোটের বৈতরণী পার হতে চাইছে তারা৷ ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে সিএএ কার্যকরের প্রক্রিয়া৷

মতুয়াদের পাশে প্রথম থেকেই থেকেছেন তৃণমূলনেত্রী
ব্রাত্য়র দাবি, মতুয়াদের পাশে প্রথম থেকেই থেকেছেন তৃণমূলনেত্রী৷ এমনকী, সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় বড়মা বীণাপানি দেবী কিভাবে মমতার অনশন মঞ্চে ছুটে গিয়েছিলেন, সেই প্রসঙ্গও টেনেছেন তিনি৷ তৃণমূলের হয়ে তাঁর দাবি, মমতার সরকারই প্রথম মতুয়া প্রতিনিধিদের মন্ত্রিত্ব পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে৷ মতুয়াদের জন্য তৈরি হয়েছে আলাদা উন্নয়ন বোর্ড৷ তৈরি হচ্ছে নতুন বিশ্ববিদ্য়ালয়৷ এমনকী আগামী দিনে বাগদার হেলেঞ্চায় হরিচাঁদ ঠাকুরের মূর্তি বসানো ও তাকে ঘিরে পার্ক এবং পর্যটনকেন্দ্র গঠনেরও পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের৷

প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল
মতুয়া ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন ব্রাত্য৷ তাঁর অভিযোগ, নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে ভিক্টোরিয়ায় হরিচাঁদ ঠাকুরের নাম ভুল উচ্চারণ করেছেন নরেন্দ্র মোদি৷ ব্রাত্যর ইঙ্গিত, মতুয়াদের এড়াতেই তাঁর সাম্প্রতিক বঙ্গসফর বাতিল করেছেন অমিত শাহ৷ রাজ্য়ের মন্ত্রীর চ্য়ালেঞ্জ, বাংলায় এসে মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে কী প্রতিশ্রুতি দেন অমিত, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্যের সরকারও৷












Click it and Unblock the Notifications