'টুরিস্ট গ্যাং'-এর প্রধান মোদী মিথ্যাবাদী, ১০ দফায় অভিযোগ খণ্ডন তৃণমূলের ডেরেকের
খড়গপুর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরে তৃণমূল তথা মমতা-অভিষকেক আক্রমণ করেছিলেন। যার জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে টুরিস্ট গ্যাং-এর প্রধান বলে কটাক্ষ করল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখপাত্র ডেরেক ও'
খড়গপুর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (narendra modi) একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরে তৃণমূল তথা মমতা-অভিষককে (mamata0abhishek) আক্রমণ করেছিলেন। যার জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে টুরিস্ট গ্যাং-এর প্রধান বলে কটাক্ষ করল তৃণমূল কংগ্রেস (trinamool congress)। মুখপাত্র ডেরেক ও'ব্রায়েন (derek obrien) বলেছেন, নোটবন্দির সময় ৫০ দিন সময় চেয়েছিলেন, এবার ৫ বছর সময় চাইছেন।

উন্নয়নে বাধা তৃণমূল
উন্নয়নে বাধা তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে ডেরেক ও'ব্রায়েন দাবি করেছেন, গত ১০ বছরে বাংলার বাজেট তিনগুণ হয়েছে। ২০১১ সালে ৮৪,৮০৪ কোটি টাকা থেকে ২০২০ সালে তা ২.৫৫ লক্ষ কোটিতে পৌঁছে গিয়েছে। প্রত্যেক মানুষের আয় দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। তিনি বলেছেন, কেন্দ্র বরং প্রকল্পগুলোতে সাহায্যের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে সাফল্যের দাবি করছে।

তৃণমূলের দুর্নীতিতে ডুবে
তৃণমূল গত ১০ বছরে দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে, এব্যাপারে তৃণমূল দাবি করেছে, এনসিআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে বাংলায় দুর্নীতি হয়েছে ০.২%, গুজরাতে হয়েছে ৬%।

আদিবাসীদের বিরুদ্ধে তৃণমূল
তৃণমূল আদিবাসীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ডেরেক ও'ব্র্যায়েন। তিনি তথ্য দিয়ে দাবি করেছেন, যেখানে উত্তর প্রদেশে তফশিলিদের বিরুদ্ধে অপরাধের হার ২৫.৫% সেখানে এই রাজ্যে ০.৩%। পাশাপাশি রাজ্যে তফশিলি ভুক্তদের ৬০ বছরের বেশি বয়স হলে সামাজিক প্রকল্পে মাসে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

যুবকদের অধিকার হরণ করেছে তৃণমূল
তৃণমূল বাংলার যুবকদের অধিকার হরণ করেছে, এই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে ডেরেক দাবি করেছেন, বাংলা যুবকদের চাকরির সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সেই বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছে। মোদী বছরে ১ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বদলে ৪৫ বছরের সব থেকে বেশি বেকারত্ব উপহার দিয়েছেন তিনি। বাংলায় ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এব্যাপারে তিনি বলেছেন, ২০১০-১১-তে বাংলায় ৯০ হাজার আইটিতে চাকরি করতেন। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২.১০ লক্ষ। এছাড়াও ২০ লক্ষ মানুষ অপ্রত্যক্ষ ভাবে চাকরি পেয়েছেন। এমজিএনআরইজিএ প্রকল্পে ২০২০-২১-এ ৩২.৬৫ কোটি কর্মদিবস তৈরি করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষা নীতি
রাজ্য সরকার জাতীয় শিক্ষানীতিতে অনুমোদন দেয়নি। এই অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূলের তরফ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে কোনওরকমের আলোচনা না করেই জাতীয় শিক্ষানীতি প্রয়োগের বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। তারা আরও বলেছে, জাতীয় শিক্ষা নীতির ক্ল্যাসিক্যাল ল্যাঙ্গুয়েজের তালিকায় রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র এবং শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভাষা স্থান পায়নি।

আম্ফান, করোনায় সাহায্য করেনি কেন্দ্র
বিজেপি তথা কেন্দ্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, আম্ফানে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে রাজ্যের বকেয়া রয়েছে ৩২,৩১০ কোটি টাকা। এই ঝড়ে রাজ্যের ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ১.০২ লক্ষ কোটি টাকা। রাজ্যের তরফে হিসেব দিয়ে কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত কেবলমাত্র ৩৭০০ কোটি টাকা দিয়েছে।

আয়ুষ্মাণ ভারত, পিএম কিষাণ নিয়ে জবাব
আয়ুষ্মাণ ভারত এবং পিএম কিষাণ নিয়ে অভিযোগের জবাব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে আয়ুষ্মাণ ভারতের তুলনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসাথী শুরু করা হয় ২০১৬-তে। আর আয়ুষ্মাণ ভার ২০১৮-তে। স্বাস্থ্যসাথীতে ১০০ শতাংশ দেয় রাজ্য আর রাজ্যের ১০০ শতাংশ মানুষ এর উপকার পান। আর আয়ুষ্মাণ ভারতে ৬০ শতাংশ রাজ্য আর ৪০ শতাংশ কেন্দ্র। সেখানে দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ উপকৃত। স্বাস্থ্যসাথীতে পরিবারের মহিলা সদস্যের নামে কার্ড দেওয়া হয়। কিন্তু আয়ুষ্মাণ ভারতে সেরকম কোনও নিয়ম নেই।
পিএম কিষাণ নিয়ে অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, রাজ্যের কৃষক বন্ধু প্রকল্পে একর পিছু ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। কিন্তু পিএম কিষাণ প্রকল্পে একর পিছু ১২১৪ টাকা করে দেওয়া হয়। রাজ্যের প্রকল্পে সব কৃষক অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু কেন্দ্রের প্রকল্পে দু হেক্টর পর্যন্ত যাঁদের জমি রয়েছে, তারাই সুবিধা পান। গত ১০ বছরে রাজ্যে কৃষকদের আয় তিন গুণ বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। অন্যদিকে, কেন্দ্রে ২০২২ সাল কেন ২০১৮ সালেও কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হওয়া সম্ভবপর নয় বলে দাবি করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে।

কেন্দ্রের বাড়ি তৈরি প্রকল্পে রাজ্য বঞ্চিত
প্রধানমন্ত্রী এদিন অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রের বাড়ি তৈরির প্রকল্পে রাজ্যের মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এব্যাপারে তৃণমূলের দাবি, বাংলা আবাস যোজনায় ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে সব থেকে বেশি বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। স্নেহলতা এবং নিজশ্রী প্রকল্পে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের পরিবারগুলিকে বাড়ি তৈরির সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

বন্ধ হয়েছে অনেক কারখানা
প্রধানমন্ত্রী এদিন অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলের শাসনে রাজ্যে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাল্টা তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, ২০১০ সালে ৮৩২২ টি কারখানা থছেকে ২০২০ সালে কারখানার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯,৫৩৪। ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও কর্মীদের আয়ে গড়ে ১.৩ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ২.৩ লক্ষ টাকা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়াও এমএসএমইতে রাজ্যের স্থান ভারতে দ্বিতীয় বলে দাবি করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে।

গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে তৃণমূল
তৃণমূল গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, এই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে তৃণমূল বলেছেন ইইউ ডেমোক্রেসি ইনডেক্সে ২০১৩-তে ভারতের স্থান ছিল ২৭। ২০২০-তে তা হয়েছে ৫৩। মোদী সরকারের আমলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার লুণ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে।












Click it and Unblock the Notifications