শুভেন্দুর ঘোষণার পরেই অভিষেক গড়ে বড় ধাক্কা! দল ছাড়লেন 'প্রভাবশালী' তৃণমূল বিধায়ক
শুভেন্দুর উপস্থিতিতে অভিষেক গড়ে বড় ধাক্কা! দল ছাড়লেন 'প্রভাবশালী' তৃণমূল বিধায়ক
অভিষেক গড়ে বড় ধাক্কা তৃণমূল কংগ্রেসে (trinamool congress)। দীর্ঘদিন ধরে বেসুরো থাকার পর এবার দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন সেখানকার দুবারের তৃণমূল বিধায়ক দীপক হালদার (dipak halder)। দল ছাড়ার চিঠি ইতিমধ্যেই তিনি তৃণমূল ভবন এবং দলের জেলা সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তীর ঠিকানায় পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

বেসুরো দীপক হালদার গিয়েছিলেন শোভনের বাড়িতে
গত বেশ কয়েকমাস ধরেই বেসুরো ছিলেন ডায়মন্ড হারবারের ২০১১ এবং ২০১৬-পরপর দুবারের তৃণমূল বিধায়ক দীপক হালদার। দলের কর্মসূচিতে না ডাকার অভিযোগ তিনি তুলেছিলেন আগেই। এলাকায় বিধায়ককে দিয়ে না কাজ করিয়ে যুব কংগ্রেস কর্মীদের দিয়ে জোর করে কাজ করানোর অভিযোগ তিনি আগেই করেছিলেন। এরপর এমাসের শুরুতেই তিনি গোলপার্কে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন, জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দফতরের কর্মাধ্যক্ষ আবু তাহের এবং আরও দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রায় দুঘন্টা বৈঠকের পরেও তিনি বলেছিলেন সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে, দল ছাড়ার ব্যাপারে কোনও আলোচনা হয়নি।

হাজির হননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায়
সাম্প্রতিক সময়ে দীপক হালদারকেল দেখা যায়নি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাতগাছিয়া এবং ডায়মন্ড হারবারের সভায়। তিনি অভিযোগ করেছিলেন সভায় যাওয়ার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। শুধু তিনিই নন, মহেশতলার তৃণমূল বিধায়ক দুলাল দাসও ওই একই অভিযোগ করেছিলেন।

দলে মর্যাদাহানির অভিযোগ
এদিন দল থেকে পদত্যাগের কথা জানিয়ে জেলা সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তীর পাশাপাশি দলের সদর দফতর তৃণমূল ভবনে চিঠি পাঠান তিনি। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, গত প্রায় সাড়ে চারবছর ধরে দলে মর্যাদাহানি করা হয়েছে তাঁর। খালি হেয় করা হয়েছে। হেনস্থা করা হয়েছে। একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর সভা ছাড়া কোনও রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পাশাপাশি এই একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া এবং উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল। এদিন দীপক হালদার আরও বলেছেন, তাঁকে বিধায়ক তহবিলের টাকাও সঠিকভাবে খরচ করতে দেওয়া হয়নি।

ডুমুরজলা থেকে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি
রবিবার ডুমুরজলার সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচবনে যে কয়েকটি জেলায় তৃণমূল ভাল ফল করেছিল তার মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া ছাড়াও রয়েছে কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা। পূর্ব মেদিনীপুরের শুভেন্দু অধিকারী এবং হাওড়ার রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দলবল নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় তৃণমূলের সংগঠনে ভাঙন ধরেছে বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূল ফাঁকা হয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতেই বিজেপিতে যোগ
২ ফেব্রুয়ারি বারুইপুরে সভা রয়েছে বিজেপির। সেই সভায় যোগ দিতে যাবেন শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের শীর্ষস্থানীয় নেতানেত্রীরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে দীপক হালদার বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন।












Click it and Unblock the Notifications