বামেই ভরসা রামের, নীল সাদাতেও 'লাল' রেখা! বাংলার রথের খেলায় শেষ পর্যন্ত জিতবে কে?

বিজেপির বঙ্গ জয়ের বাজি হল একদা বামপন্থী মনোভাবাপন্ন ভোটাররা। একই ভাবে 'বিজেপি বিরোধী' বামপন্থীদের নিজেদের দিকে টানতে ঘুঁটি সাজাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরই মাঝে রথের খেলায় নেমেছে তৃণমূল ও বিজেপি। এখন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এটা বুঝতে চেষ্টা করছে যে ধর্মে বিশ্বাস না করা বামপন্থী এবং বাংলার ভোটারদের মন জয় করতে সমর্থ হবে কোন রথ।

বিজেপির রথযাত্রা বনাম তৃণমূলের 'দিদির দূত'

বিজেপির রথযাত্রা বনাম তৃণমূলের 'দিদির দূত'

একদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি৷ আর অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস৷ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই দুই রাজনৈতিক দলের দ্বৈরথ বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ নির্বাচনের প্রচার কর্মসূচির দিক থেকেও ঘাসফুল ও পদ্মফুল, দুই শিবিরই একে অপরকে ক্রমাগত টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছে৷ যার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ বিজেপির রথযাত্রা ও তৃণমূলের 'দিদির দূত৷'

নির্বাচনী প্রচারের আঙ্গিক বদলেছে

নির্বাচনী প্রচারের আঙ্গিক বদলেছে

সময়ের নিয়ম মেনে নির্বাচনী প্রচারেরও আঙ্গিক বদলেছে৷ এখন বাড়ি বাড়ি প্রচার, মিটিং মিছিলের সঙ্গে সাইবার-যুদ্ধও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক৷ সেই কারণেই 'দিদির দূত' নামে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারের মিছিলেও ব্যবহার করা হচ্ছে দিদির দূতকে৷ যেমন দেখা গেল শনিবার৷ এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কামালগাজি থেকে সোনারপুর পর্যন্ত মিছিল করেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি যে গাড়িটিতে দাঁড়িয়ে মিছিলে অংশ নিলেন, তাতে স্পষ্ট লেখা 'দিদির দূত' কথাটি৷

'দিদির দূত'-এর সঙ্গে বিজেপির রথযাত্রার মিল

'দিদির দূত'-এর সঙ্গে বিজেপির রথযাত্রার মিল

যা দেখে অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক 'দিদির দূত'-এর সঙ্গে বিজেপির রথযাত্রার সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন৷ কারণ, এই ভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ঘুরছে বিজেপির গাড়ি৷ সেই গাড়িতে চড়েই কখনও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা, কখনও দলের হেভিওয়েট নেতা অমিত শাহ, আবার কখনও রাজ্যস্তরের দিলীপ ঘোষ-শুভেন্দু অধিকারীরা প্রচারে অংশগ্রহণ করছেন৷ তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত 'দিদির দূত' হয়ে জনসংযোগ করেছেন শনিবার৷ হয়তো আগামিদিনে রাজ্যের অন্যান্য অংশে অন্য নেতারাও 'দিদির দূত' হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছবেন৷

পোশাকি নাম যাই হোক, উদ্দেশ্য কিন্তু এক

পোশাকি নাম যাই হোক, উদ্দেশ্য কিন্তু এক

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পোশাকি নাম যাই হোক, উদ্দেশ্য কিন্তু এক৷ দুই রাজনৈতিক দলই চাইছে একেবারে জনতার মাঝে পৌঁছে যেতে৷ যেখানে একেবারে জনতার সঙ্গে দূরত্ব অনেকটাই কমে যায়৷ কর্মীদের মধ্যে উদ্যমও বৃদ্ধি পায় এই ধরনের কর্মসূচি থেকে৷ সভা করে যেটা অনেক সময় সম্ভব হয় না৷ তাছাড়া কর্মী-সমর্থকরা ছাড়া এই ধরনের মিছিলের আশপাশে যাঁরা থাকেন, যেমন রাস্তার দুই পাশের যে বাড়িগুলি থাকে সেখানে উপস্থিত মানুষের প্রতিক্রিয়া নেতারা সরাসরি পরখ করতে পারেন৷ অনেক সময় নেতাদের পালটা প্রতিক্রিয়াও ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বা নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়৷ যার প্রতিফলন ভোটবাক্সে পড়ে৷

সাফল্য পাবে কোন রাজনৈতিক দল ?

সাফল্য পাবে কোন রাজনৈতিক দল ?

এখন প্রশ্ন উঠছে, এই যাত্রা পথের শেষে সাফল্য কোন রাজনৈতিক দল পাবে? দিদির দূত এ চড়ে তৃণমূল নেতারা কি পারবেন তৃতীয়বারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে পৌঁছে দিতে? নাকি রথে চড়ে নাড্ডা-অমিত-দিলীপ-শুভেন্দুরা বাংলায় তাঁদের কাঙ্খিত পরিবর্তনের পরিবর্তন আনতে পারবেন! দিদির দূত কি পারবে বিজেপির রথকে আটকে দিতে।

কেউই চেষ্টার কোনও কসুর করছে না

কেউই চেষ্টার কোনও কসুর করছে না

এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য রয়েছে রাজ্যের ভোটারদের মনে৷ ভবিষ্যতের বাংলা গড়ার দায়িত্ব তাঁরা কাকে দেবেন, সেই উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও মাস তিনেক৷ কিন্তু এই মুহূর্তে বলা যায় যে সাধারণ মানুষের একেবারে নিকটে পৌঁছতে তৃণমূল বা বিজেপি, কেউই চেষ্টার কোনও কসুর করছে না৷

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+