রাজীবকে দলে রাখতে চেষ্টা করেছিলেন স্বয়ং মমতাই! কাদের দিয়ে ফোন, 'ফাঁস' করলেন বিজেপি নেতা
রাজীবকে দলে রাখতে চেষ্টা করেছিলেন স্বয়ং মমতাই! কাদের দিয়ে ফোন, 'ফাঁস' করলেন বিজেপি নেতা
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দফতরের নিয়োগে অনিয়ম করেছেন, দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন অভিযোগ তৃণমূলের (trinamool congress), তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee)। অথচ সেই নেতাকেই দলে রাখতে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। এদিন গুড়াপের সভা থেকে এমনটাই দাবি করলেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী তথা বিজেপি (bjp) নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (rajib banerjee)।

রাজীবের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক পার্থর
অনেকদিন ধরেই বেসুরো ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ক্ষোভকে সামাল দিতে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রশান্ত কিশোরের উপস্থিতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়িতে বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকের পরে জল্পনা জিইয়ে রেখে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন সমস্যা হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা উচিত। এরপরেও আরও একবার পার্থ চট্টাপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন রাজীব। কিন্তু জানুয়ারির শুরুতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের কথা থাকলেও যাননি রাজীব। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকও যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে হয়েছিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই
এদিন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন তাঁকে দলে রাখতে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। তিনি (মমতা) নাকি বলেছিলেন, ওঁকে (রাজীব) দলে রাখতেই হবে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার তিনদিন আগে পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সরাসরি তিনি সামনে না আসলেও অন্য নেতাদের দিয়ে ফোন করানো হয়েছে। কোন কোন নেতা তাঁকে দলে থাকতে ফোন করেছেন, আর কাকে কাকে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করিয়েছেন, এর প্রমাণ হিসেবে ফোন কলের রেকর্ড তাঁর কাছে আছে বলেও দাবি করেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতাকে নিশানা রাজীবের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে অভিযোগ করেছেন, একটা ছেলে আগে দলে ছিল, এখন নেই। তাঁকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন বনসুন্দরী স্কিম নিয়ে কীকী দুর্নীতি করেছে। এব্যাপারে গুড়াপের সভা থেকে জবাব দিয়ে রাজীব বলেন, মুখ্যমন্ত্রীই বলেছিলেন, সবজেলার তৃণমূলের মধ্যে এই চাকরি দিতে। এছাড়াও কোন নেতা, কোন বিধায়ক, তাঁর কাছে সুপারিশপত্র পাঠিয়েছিলেন, সব প্রমাণ রয়েছে তাঁরা কাছে। তা ছাড়াও, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে নভেম্বরে। তারপর থেকে ৩০ জানুয়ারি তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। তার আগে পর্যন্ত সময়ে কেন এই বিষয়ে অভিযোগ তোলা হল না, প্রশ্ন করেন রাজীব।

তৃণমূল থেকে বেরোলেই বিশ্বাসঘাতক
এখন পর্যন্ত যাঁরাই তৃণমূল থেকে বেরিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁরাই বিশ্বাসঘাতকের মর্যাদা পেয়েছেন। এর মধ্যে শুভেন্দু অধিকারী থেকে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সবাই। কিন্তু যাঁরা তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে সন্তুষ্ট হয়ে যোগ দিচ্ছেন। এমনটাই মত তৃণমূলের।












Click it and Unblock the Notifications