'জায়গা ছাড়ার' বার্তা দিয়ে মুকুল রায়ের কোন ইঙ্গিত! শুভেন্দুর সঙ্গে সভা ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনায় ফের চাণক্য
তৃণমূলে চরম ভাঙন ধরিয়ে বিদ্রেহের সুর নিয়ে বিজেপিতে যাওয়া নেতাদের মধ্যে প্রথমের দিকের বড় নাম হিসাবে মুকুল রায় উঠে আসেন। তৃণমূলের অন্দরে কার্যত প্রথম তাবড় বিদ্রোহের বার্তা দিয়েছিলেন মুকুল। এরপর কেটে গিয়েছে ৩ বছর। মুকুল রায় এখন বিজেপিক সর্বভারতীয় সহ সভাপতি। তবে, ভোটের আগে কালনায় তাঁরই কণ্ঠে যেন সেই চেনা উদ্যম খুঁজে পেলেন না সভায় আসা দর্শকরা। কোথাও যেন বৈরাগ্যের সুর মুকুলকে নিয়ে। শুভেন্দুর সঙ্গে একই সভায় মুকুলের বক্তব্যে কোন সুর ধরা দিল দেখা যাক।

মুকুল দিলেন 'জায়গা ছেড়ে দিচ্ছি'র বার্তা
'এখন জায়গা ছেড়ে দেওয়ার পালা শুরু হয়েছে। আমি জায়গা ছেড়ে দিচ্ছি। জায়গা ছাড়াটাও একটা আর্ট। এটাও শিখতে হয়। কখন ছাড়তে হবে, সেটা শিখতে হবে।' ঠিক এই মন্তব্য মুকুল রায়ের।মঞ্চে তখন শুভেন্দু আসেননি, তখনই মুকুলের এই বক্তব্য নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়। সেখানেই মুকুল রায়ের বার্তা নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা। এদিকে, বিজেপির অন্দরে মুকুলপন্থী নেতাদের নিয়েও একটা মহল ব্যাপক ক্ষুব্ধ। সেই নিয়ে জঙ্গলমহলের বিজেপির একাংশে বড় ক্ষোভ রয়ে গিয়েছে। সেই জায়গা থেকে মুকুল রায়ের এই বার্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে রাজনৈতিক মহল।

জায়গা ছেড়ে দেওয়ার 'কারণ' নিয়ে কোন ব্যাখ্যা?
এদিনের সভায় জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কারণ নিয়ে মুকুল রায়ের বক্তব্যেও বেশ কিছুটা তথ্য উঠে আসে। তিনি পূর্ব বর্ধমানের এক স্থানীয় নেতার নাম করে বলেন, 'আমি জায়গা ছেড়ে দিচ্ছি। যাতে এঁরা মানুষের কাছে পৌঁছতে পারেন।' দলের পরবর্তী প্রজন্মের প্রসঙ্গক্রমে তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায়ের কথাও তোলেন মুকুল।

শুভ্রাংশুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও মুকুল
এদিন জায়গা ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গেল মুকুল রায় তাঁর সন্তান শুভ্রাংশু প্রসঙ্গে বলেন, 'আমার একটি পুত্র আছে। সে ২ বারের বিধায়ক। আমি যদি এখন বলি আমিই রাজনীতি করব। তা হলে ওদের কী হবে?'

পরীক্ষা থেকে পিছপা নন 'চাণক্য' মুকুল!
এদিকে, শুভেন্দুর সঙ্গে কালনায় হাইভোল্টেজ সভা থেকে মুকুল রায় সাফ বার্তায় জানান যে তিনি ভোট রাজনীতি থেকে রাজ্য রাজনীতির ময়দানে কোনওরকমের পরীক্ষা থেকে পিছপা নন। তিনি বলেন ,'শুধু বলছি, পরীক্ষাটা একশোয় দেব। যদি তিরিশ বাদই দিয়ে দাও, তা হলে সত্তরে একান্ন পেতে হবে। '

মুকুল রায় , বিজেপি ও শুভেন্দুদের যোগদান
তৃণমূলকে টুকরো করে বিজেপি ভরাট করার দিকে কার্যত বড় ভূমিকা একটা সময় নিতে শুরু করেন মুকুল রায়। রাজকীয় অভ্যর্থনায় দিল্লি বিজেপি সেই সময় মুকুলকে স্বাগত জানায়। এরপর ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর আসে। অধিকারীগড়ে ঘরের মাঠে তাবড় শক্তি নিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেন শুভেন্দু অধিকারী। মেদিনীপুরের বুক অমিত শাহ এসে সেই যোগদান করান। পরবর্তীকালে সদ্য রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়রা দিল্লিতে বিশেষ বিমানে রওনা হয়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে , যে এর মাঝে কি কোথাও ঢাকা পড়ে যাচ্ছে মুকুল রায়ের লাইমলাইট? সেই প্রশ্নের জায়গা থেকেই কালনায় মুকুল রায়ের বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত বহু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের।

জঙ্গলমহল , বিজেপি ও মুকুল রায়
এদিকে শোনা যাচ্ছে, জঙ্গলমহলে বিজেপির অন্দরে আদি নব্যের সংঘাতের মধ্যে অন্যতম ফ্যাক্টর দুই মুকুলপন্থী নেতা। মুকুল ঘনিষ্ঠ জয়ন্ত মিত্র ও বিদ্যুৎ দাসকে সেখানের বিজেপি কর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না বলে খবর। এই দুই নেতাকে বরখাস্তের দাবি উঠতেই সেখানে মুকুল বিরোধী স্লোগান শুরু হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications