শিল্প-বিমুখ তকমা ঝেড়ে ফেলতে মরিয়া, মোদীকে টেক্কা দিতে সাহাগঞ্জে কোন বার্তা দেবেন মমতা?
মোদীর সভার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আজ সাহাগঞ্জে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সরকারের শিল্প-বিমুখ তকমা ঘোচাতে কি কোনও বার্তা দেবেন তিনি? শিল্পের জন্য জোর করে চাষের জমি নেওয়া যাবে না। এই নীতিতেই এতদিন সরকার চালিয়ে এসেছেন মমতা। কিন্তু এখন বিজেপি যেভাবে পরিবর্তনের পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে, তা সামাল দিতে সেই নীতি থেকে কিছুটা হলেও পিছিয়ে এসে কোন বার্তা দেবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী? সেই দিকেই তাকিয়ে এখন হুগলিবাসী।

মোদীকে জবাব দিতে সাহাগঞ্জে মমতা
দুই দিন আগেই নরেন্দ্র মোদী যে মাঠে সভা করে গিয়েছেন, আজ সাহাগঞ্জে সেই ডানলপ মাঠেই জনসভা রয়েছে মমতার। একটা সময় বেশ রমরমা থাকলেও এই ডানলপের সাম্প্রতিক ইতিহাস বেশ করুণ। ডানলপের কারখানা ধাক্কা খেয়েছিল সিপিএমের রাজত্বেই। পরে একাধিকবার তা হাতবদল হয়েছে। কিন্তু হাল ফেরেনি। ছাবারিয়া হোক বা রুইয়া গোষ্ঠী, কেউই ডানলপ কারখানার হাল ফেরাতে পারেনি। সিঙ্গুর থেকে মাত্র ৩৩ কিলোমিটার দূরের এই ডানলপ মাঠে আজ মমতার জবাব দেওয়ার পালা।

খালি হাতে ফিরতে হয়েছে মমতাকে
এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মসনদে আসার পর নতুন করে সেভাবে কোনও বড় শিল্পের মুখ রাজ্যবাসী দেখেননি। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ঘটা করে বিশ্ব বাংলার ব্যানারে শিল্প সম্মেলন করেছেন। রাজ্যে শিল্প টানতে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে মমতাকে।

কোনও বড় উদ্যোগপতিই সেভাবে বিনিয়োগে ইচ্ছা দেখাননি বাংলায়
কোনও বড় উদ্যোগপতিই সেভাবে বিনিয়োগে ইচ্ছা দেখাননি বাংলায়। এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই দুষেছেন বাংলার শিল্পনীতিকে। বিশেষ করে মমতার ল্যান্ড-ব্যাঙ্ক ব্যবস্থাকে। খাতায় কলমে শিল্পের জন্য জমি দেখানো গেলেও, আদতে সেই ল্যান্ড ব্যাঙ্কের জমি শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কতটা উপযোগী, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

মমতার মসনদ টালমাটাল
রাজ্যে মমতার মসনদ টালমাটাল বলে অভিযোগ তুলছেন বিরোধীরা। রাজ্য ও জেলাস্তরের একের পর এক তাবড় তাবড় মাথা ঘাসফুলের জার্সি ছাড়ছেন। নীলবাড়ি দখলের নীলনকশা তৈরি করছে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিগত এক দশকে এতটা নড়বড়ে কখনও লাগেনি ঘাসফুল শিবিরকে। অনেকেই বলছেন, এবারের বিধানসভা নির্বাচন মমতার কাছে অস্তিত্বরক্ষার লড়াই। যদি সেটাই ধরে নেওয়া হয়, তবে কি ফের একবার নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে সিঙ্গুরেই ভরসা রাখছেন মমতা?












Click it and Unblock the Notifications