ইস্তেহার জুড়ে শুধুই নগদে লাভ! অভিজ্ঞতা আর দক্ষিণের রাজনীতিকে অনুসরণ করেই বিজেপিকে 'ধাক্কা' মমতার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (mamata banerjee) সঙ্গে বিজেপির (bjp) বাক যুদ্ধ লেগেই আছে। রাজনৈতিক লড়াইয়ে কে কার থেকে আগে এগিয়ে যেতে পারে, সেই প্রতিযোগিতায় এদিন নিজের দলের ইস্তেহার (manifesto) প্রকাশ করেছেন তৃণমূল (trinamo
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (mamata banerjee) সঙ্গে বিজেপির (bjp) বাক যুদ্ধ লেগেই আছে। রাজনৈতিক লড়াইয়ে কে কার থেকে আগে এগিয়ে যেতে পারে, সেই প্রতিযোগিতায় এদিন নিজের দলের ইস্তেহার (manifesto) প্রকাশ করেছেন তৃণমূল (trinamool congress) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকাংশেই দক্ষিণের রাজনীতি থেকে নেওয়া, মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

তামিলনাড়ুতে ভোটের জন্য নগদের রাজনীতি
রাজনৈতিক দলগুলির কাছে ভোটের জন্য নগদ একটা আকর্ষণীয় বিকল্প। যা এতদিন দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে বিশেষ করে তামিলনাড়ুতে দেখা যেত। তামিলনাড়ুতে প্রত্যেক ভোটেই প্রত্যেক রাজনৈতিকদলই এই প্রথা অনুসরণ করে।
তামিলনাড়ু শাসক এআইএডিএমকে এবারের ইস্তেহারে ফ্রি আম্মা ওয়াশিং মেশিন, বছরে ছটি ফ্রি এলপিজি সিলিন্ডার, ফ্রি স্টোভ, ফ্রি মশারি, ফ্রিতে কেবল টিভি এবং ঘরের দরজায় রেশন পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী ডিএমকে পেট্রোলে লিটার পিছু ৫ টাকা এবং ডিজেলে লিটার পিছু ৪ টাকা করে কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি হবু মায়েদের জন্য ২৪ হাজার টাকা করে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
কংগ্রেসও পিছিয়ে নেই। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের ইস্তেহার রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, ন্যাস প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেক পরিবারের আয় সুনিশ্চিত করতে বছরে ৭২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে প্রত্যেক গরিব পরিবারকে। অনেকেই বলছেন, কংগ্রেসের এই ঘোষণা দেরিতে হওয়ায় তা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যর্থ হয়েছে।

মমতার অভিজ্ঞতা আছে
ভোটের রাজনীতিতে প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের কাছে নগদ পৌঁছে দেওয়ার অভিজ্ঞতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও রয়েছে। ২০১১-তে ক্ষমতায় আসার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ইমাম ও মোয়াজ্জেনদের আর্থিক সুবিধা দেওয়া শুরু করেছিলেন। যাতে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু পরে ওয়াকপ বোর্ডের মাধ্যমে সেই টাকা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও সরকার ছাত্রীদের সাইকেল দিচ্ছে। মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ দিচ্ছেন। যার জেরে বামদের সমর্থনকারী মুসলিমদের কাছে টেনে নিতে পেরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছরের নভেম্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ২ লক্ষ যুবককে নিজের ব্যবসা শুরু করতে মোটর সাইকেল কেনার জন্য ঋণ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। এছাড়াও দুর্গাপুজোর কমিটিগুলিকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও এর সঙ্গে রয়েছে। গতবছরেই ৮ হাজার পুরোহিতকে মাসে একহাজার টাকা করে দেওয়া শুরুও করে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

সাধারণ মানুষকে আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি
প্রতি পরিবারের মাসিক আয় সুনিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ ক্যাটেগরির জন্য মাসে ৫০০ টাকা করে এবং তফশিল ভুক্তদের জন্য মাসে ১০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। যা বাড়ির মহিলা অভিভাবককে দেওয়া হবে।
কেন্দ্রের বিধবা ভাতা ছিল, একটি নির্দিষ্ট বয়সের পরে। কিন্তু এবার তৃণমূলের ইস্তেহারে বলা হয়েছে, আঠারো বছর বয়সেও যদি কোনও মহিলা বিধবা হন, তাহলে তিনিও মাসে ১০০০ টাকা করে পাবেন। যা দেওয়া হবে এবছরের মে মাস থেকে।
যেসব কৃষকের এক একরের বেশি জমি রয়েছে, তাঁরা এবার থেকে বছরে ১০ হাজার টাকা করে পারবেন। বর্তমানে রাজ্য সরকার ৬০০০ টাকা করে দিয়ে থাকে।
ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যাতে জামিনদার হবে সরকার। এই ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রী সেইসব অভিভাবকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করলেন, যাঁরা প্রতিবছর তাঁদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য বাইরের রাজ্যে পাঠান।
এছাড়াও এবার থেকে রেশন বাড়ির দরজায় পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

২০১৯-এ নগদ সুবিধার কথা ছিল বিজেপির ইস্তেহারে
বিজেপিকে ক্ষমতায় ফেরাতে ২০১৯-এর নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদী সরকার কৃষকদের নগদে সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর নাম দেওয়া হয় পিএম কিষাণ স্কিম। এবার তৃণমূলকে ক্ষমতায় ফেরাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ইস্তেহারে সেই নগদে সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন।












Click it and Unblock the Notifications