মালদহের ইংরেজবাজারে প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পুরসভার চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা
মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নীহাররঞ্জন ঘোষের বাড়ি ও পাশের পার্টি অফিসে হামলা। রাত দশটা নাগাদ এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই হামলার পিছনে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন নীহাররঞ্
মালদহের (malda) ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নীহাররঞ্জন ঘোষের (niharranjan ghosh) বাড়ি ও পাশের পার্টি অফিসে হামলা। রাত দশটা নাগাদ এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই হামলার পিছনে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী (krishnendunarayan chowdhury) জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন নীহাররঞ্জন ঘোষ। যদিও এব্যাপারে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ ঘোষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিধায়ক ও পুরসভার চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা
সোমবার রাত দশটা নাগাদ মালদহের ইংরেজবাজারের বিধায়ক তথা পুরসভার চেয়ারম্যান নীহাররঞ্জন ঘোষের বাড়ি ও পাশের পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। পার্টি অফিস তচনছ করে দেওয়া হয়। সিসিটিভি ক্যামেরায় সেই হামলার ছবি ধরাও পড়েছে। এই হামলায় সেখানকার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী এবং তাঁর সহযোগী প্রসেনজিৎ ঘোষ জড়িত রয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছেন নীহাররঞ্জন ঘোষ। তাঁর আরও অভিযোগ ১৫০ থেকে ২০০ জন এই হামলা চালায়।

দুজনের লড়াই বেশ পুরনো
মালদহের ইংরেজবাজারে নীহাররঞ্জন ঘোষ এবং কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর লড়াইটা বেশ পুরনো। ২০১৬ সালে বাম-কংগ্রেস সমর্থিত নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন নীহাররঞ্জন ঘোষ। তিনি কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীকে হারিয়ে দেন। এরপর ২০১৮ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীরে ইংরেজবাজারের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। নীহাররঞ্জন ঘোষটকে চেয়ারম্যান করা হয়।

মালদহে তৃণমূলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব
মালদহ তৃণমূলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনা বেশ পুরনো। কোনও সময় তা সাবিত্রী বনাম কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, আবার কোনও সময় তা নীহাররঞ্জন ঘোষ বনাম কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। যা নিয়ে চিন্তিত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মালদহে গিয়ে তিনি বলেছিলেন একডনজ আসনের জন্য দশ ডজন নেতা। মালদহের নেতারা কবে ঐক্যবদ্ধ হবেন, তিনি প্রশ্ন করেছিলেন। বলেছিলেন ভুল সংশোধন না করলে হাজার মিটিং করলেও কিছু হবে না।

২০১৬-র ভোটে মালদহ জেলা
২০১৬ সালে মালদহই হল একমাত্র জেলা যেখানে তৃণমূল কোনও আসন জিততে পারেনি। ভোটের পরে নীহাররঞ্জন ঘোষ ছাড়াও সিপিএম-এর দীপালি মণ্ডল তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। আর এবারের ভোটের আগে দীপালি মণ্ডল বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনেও মালদহ থেকে তৃণমূল কোনও আসন পায়নি। উত্তর মালদহ জেকে বিজেপি আর দক্ষিণ মালদহ জিতে যায় কংগ্রেস। তবে লোকসভা ভোটের ফলের নিরিখে রতুয়া ও হরিশ্চন্দ্রপুরে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পরবর্তী সময়ে মালদহের সংগঠনের দায়িত্বে থাকা শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ফলে এর প্রভাব যে ভোটের বাক্সে পড়বে, তা বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications