দৈনিক করোনা মৃত্যুতে রেকর্ড বাংলায়, সংক্রমণ আটকে ১৯ হাজারেই
সংক্রমণ। যা নিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন চিকিৎসকমহল। তবে স্বস্তির মধ্যেও আতঙ্ক বাড়াচ্ছে বাংলায় মৃত্যুর হার। করোনাতে মৃত্যুতে সমস্ত রেকর্ড আজ বুধবার ভেঙে গিয়েছে বাংলায়।
ক্রমশ বাড়ছে সংক্রমণ! গোটা দেশের পাশাপাশি রাজ্যেও একই ছবি। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা হলেও কমল সংক্রমণ। যা নিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন চিকিৎসকমহল। তবে স্বস্তির মধ্যেও আতঙ্ক বাড়াচ্ছে বাংলায় মৃত্যুর হার। করোনাতে মৃত্যুতে সমস্ত রেকর্ড আজ বুধবার ভেঙে গিয়েছে বাংলায়।
এটাই রাজ্যে সাম্প্রতিককালে মধ্যে সর্বাধিক। অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতি রুখতে জেলাশাসকদের নিয়ে নবান্ন থেকে ভারচুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

২৪ ঘন্টায় পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৬ জন। কিন্তু মঙ্গলবারও এই সংখ্যা ছিল ১৯,৪২৮। সেই তুলনায় বুধবারের দৈনিক সংক্রমণ খানিকটা কম। চিকিৎসকদের একাংশ বলছেন, টেস্ট কমতেই এই মুহূর্তে রাজ্যে অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যা মোট ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৪৯১। যা মঙ্গলবারের চেয়ে অনেকটাই কম। এখনও পর্যন্ত মোট কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ লক্ষ ৭১ হাজার ৮৬১ জন।

সর্বাধিক মৃত্যু আজ বাংলায়
একদিনে সংক্রমণ কমলেও আজ বুধবার সর্বাধিক মৃত্যু হয়েছে রাজ্যে। করোনাতে গোটা বাংলায় মৃত্যু হয়েছে ১৫৭ জনের। এটাই রাজ্যে সাম্প্রতিককালে মধ্যে সর্বাধিক। মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৭৩৩ জনের।

সুস্থতার হার আশা জাগাচ্ছে
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার কবল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১৯ হাজার ১৫১ জন। যা করোনার চিকিৎসাতে আশার আলো দেখাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১০ লক্ষ ৪৫ হাজার ৬৪৩ জন মানুষ। সুস্থতার হার এই মুহূর্তে ৮৭.৮১ শতাংশ।

উত্তর ২৪ পরগনার পরেই কলকাতা
তবে সংক্রমণের শীর্ষে উত্তর ২৪ পরগনা। এখানে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪১৭৭। তার পরেই রয়েছে কলকাতা। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় নতুন করে ৩৬১৮ জনের শরীরে বাসা বেঁধেছে করোনা ভাইরাস।

কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে ভারচুয়াল বৈঠক আলাপনের
প্রত্যেকদিন বাড়ছে করোনার সগক্রমণ। এই অবস্থায় জেলাশাসকদের নিয়ে নবান্ন থেকে কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে ভারচুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ৩ দিনের মধ্যে টিকাদানে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ডেটাবেস তৈরি করতে হবে। রাজ্য সরকারের তৈরি করোনা টাস্কফোর্সের দায়িত্বে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি আপাতত জেলবন্দি হওয়ায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে রাজ্যে এল আরও ২ লক্ষ ১২ হাজার ৪৬০ কোভিশিল্ড। পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে এল ভ্যাকসিন। আজ সকালে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে এসে পৌঁছায় ভ্যাকসিন। রাজ্য সরকারের কেনা এই ভ্যাকসিন নিয়ে যাওয়া হয় বাগবাজারের সেন্ট্রাল ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার স্টোরে। সেখান থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এই ভ্যাকসিন বণ্টন করা হবে। ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়া হয়ে গেছে অনেকের। এবার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পালা। কিন্তু, নির্দিষ্ট সময় হয়ে গেলেও এখনও ডোজ নিতে পারছেন না অনেকেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে রোজ রোজ খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। কলকাতা থেকে দেগঙ্গা। রাজ্যজুড়ে অব্যাহত ভ্যাকসিন দুর্ভোগ। কোথাও লাইন দিয়েও ভ্যাকসিন না পেয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। কোথাও আবার ভ্যাকসিনের লাইনেই তুমুল বচসা, হাতাহাতি। গত কয়েকদিন ধরেই এহেন ছবি সামনে এসেছে। এই আবহে রাজ্যে ফের এল কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন।












Click it and Unblock the Notifications