সৌজন্যতার নজির গড়লেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী! মোদী-শাহের কাছে বাংলার আম পাঠালেন মমতা
ফের একবার সৌজন্যের রাজনীতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাজনৈতিকভাবে দুই বিপরীত মেরুর দুজন। একাধিকবার প্রকাশ্যে মোদী-অমিত শাহের সমালোচনা করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৪ এর দিকে তাকিয়ে মোদী হঠাওয়ের ডাক দিয়েছেন মুখ
ফের একবার সৌজন্যের রাজনীতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাজনৈতিকভাবে দুই বিপরীত মেরুর দুজন। একাধিকবার প্রকাশ্যে মোদী-অমিত শাহের সমালোচনা করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৪ এর দিকে তাকিয়ে মোদী হঠাওয়ের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিক বৈঠকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দিল্লির মসনদ থেকে মোদীকে হঠানোই মূল টার্গেট।
অন্যদিকে একই ভাবে গত বিধানসভা নির্বাচনে বাংলাতে এসে একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিদি বলে আক্রমণ শানিয়েছেন। কিন্তু সব ভুলে কার্যত আরও একবার সৌজন্যতার নজির তৈরি করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

মোদী-শাহের কাছে বাংলার আম!
বাংলার আম কিংবা রসগোল্লা সবসময় ভিন রাজ্যের মানুষের কাছে কুব প্রিয়! আর সে জিনিষগুলিকে সামনে রেখেই এবার সৌজন্যের রাজনীতি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একেবারে আপাদমস্তক মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাঠালেন সৌজন্যের আম। শুধু প্রধানমন্ত্রী মোদীই নয়, অমিত শাহকেও বাংলার জনপ্রিয় লক্ষ্মণভোগ আম পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শুধু মোদী-শাহ নন, মমতার উপহার গিয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবনেও। বিরোধীরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একমাত্র এমন উদাহারণ তৈরি করতে পারেন রাজনীতিতে।

একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার কাছেও গিয়েছে এই সৌজন্যের আম!
শুধু মোদী কিংবা শাহের কাছে নয়, দিল্লিতে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার বাড়িতেও গিয়েছে বাংলার এই আম। আম গিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে। এছাড়াও সৌজন্যের আম গিয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল, সোনিয়া গান্ধীর বাড়িতেও। উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও এই তালিকাতে রয়েছেন। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীদের বাড়িতে গিয়েছে এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো এই উপহার।

দিলীপ ঘোষ!
এই আম পাঠানো নিয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, সৌজন্যতাটা শুধু জামা-কাপড় কিংবা আমের মধ্যে সীমাবন্ধ না থাকে। এর বাইরেও একটা সৌজন্যতাবোধ থাকে। সেটা অবশ্যই মাথা রাখা উচিৎ বলে মনে করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, খারাপ কথা না বলা, গাড়ি আটকে না দিয়ে সভা করতে দেওয়া এটাও সৌজন্যতার মধ্যে পড়ে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।

সৌজন্যতার নজির এই প্রথম নয়!
প্রথমবার এমন সৌজন্যতার নজির তৈরি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা মোটেই নয়। এর আগেও এমণ উদাহারন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে এর আগে একাধিকবার কুর্তা পাঠিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের আগে এই বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যা নিয়ে নয়া বিতর্ক। তবে সেই বিতর্কের জবাব পালটা কড়া ভাবে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, কুর্তা পাঠানো নিয়ে রাজনীতি নেই। এটা সৌজন্যতা বোধ। ভোটের সময় এই বিষয়টি তোলায় কার্যত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সমস্ত কিছু ভুলে এবার আম পাঠালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications