রুদ্রনীলের মোহভঙ্গ আগে হয়নি কেন? কৌশিক সেনের প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক কিন্তু এর ব্যাখ্যাও রয়েছে

সম্প্রতি নাট্য ব্যক্তিত্ব কৌশিক সেন একটি খোলাখুলি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের এক বহুল প্রচারিত দৈনিককে। সারা দেশের ৪৯জন বিদ্বজ্জন মঙ্গলবার

সম্প্রতি নাট্য ব্যক্তিত্ব কৌশিক সেন একটি খোলাখুলি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের এক বহুল প্রচারিত দৈনিককে। সারা দেশের ৪৯জন বিদ্বজ্জন মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেশজুড়ে গণপিটুনিতে মৃত্যুর বাড়তে থাকা ঘটনা এবং"জয় শ্রীরাম" স্লোগানকে প্রায় যুদ্ধের মন্ত্রতে পর্যবসিত করার প্রসঙ্গে। চেয়েছেন শক্ত প্রতিকার।

এই বিদ্বজ্জনদের মধ্যে রয়েছেন কৌশিকও। রাজ্য রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এই বর্ষীয়ান অভিনেতা মুখ খোলেন তাঁর সাক্ষাৎকারে এবং তাঁর কিছু পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। কৌশিক বলেছেন রাজ্যের শিল্পীমহলে নাক গলানোর রীতিটি বর্তমান শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসই চালু করেছে, তাদের পূর্বসূরি বামেরা নয়। আর এখন এই প্রবণতাটিই ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন হয়ে তৃণমূলকেই দংশন করতে উদ্যত হয়েছে। লাভের আশায় এবারে বিজেপি।

কৌশিক বলেছেন যে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের আন্দোলনের সময়ে যখন সুশীল সমাজের ব্যক্তিত্বরা বামেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন, তখন মমতা ভেবেছিলেন যে এই আন্দোলনের সুফলের ভাগীদার তো তিনি হতেই পারেন, উপরন্তু সিনেমা-টেলিভিশনের শিল্পীদেরও দলে আনতে পারলে অনেকটাই সুবিধে পাবে তাঁর দল। কারণ সেলেব্রিটিদের প্রভাবে সাধারণ মানুষও তৃণমূলমুখী হবে। সাময়িকভাবে এই কৌশল কাজে দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা আর ফলপ্রসূ হয়নি।

রুদ্রনীলের এত সময় লাগল কেন, প্রশ্ন করছেন কৌশিক

রুদ্রনীলের এত সময় লাগল কেন, প্রশ্ন করছেন কৌশিক

কৌশিক বলেন যে তাঁদের প্রচেষ্টা একটি নিরপেক্ষ মঞ্চকে এগিয়ে নিয়ে চলা যারা কোনও দলের হয়ে কথা বলবে না। তাঁর মতে, শিল্পীরা দলদাসে পরিণত হতে পারেন না একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীর মতো। তাঁদের মধ্যে একটি টানাপোড়েন থাকবে। আর এই প্রসঙ্গেই তিনি একহাত নিয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষকে যিনি সম্প্রতি ২১ জুলাইয়ের জনসভাতে যাননি কারণ তাঁর মতে, বর্তমানে তৃণমূলের কাজ-কারবার তিনি মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। কৌশিকের প্রশ্ন: এই বোধটি আসতে রুদ্রনীলের এত সময় লাগল কেন? নারদ কেলেঙ্কারির সময়ে বা পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হওয়ার পরে কেন রুদ্রনীলদের মোহভঙ্গ হয়নি বলে কৌশিক আরও বড় প্রশ্ন রাখেন।

যাঁরা আজকে তৃণমূলের গলদ দেখছেন, গত আট বছর দেখেননি কেন?

যাঁরা আজকে তৃণমূলের গলদ দেখছেন, গত আট বছর দেখেননি কেন?

কৌশিকের এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা আজ তৃণমূলের কর্মপদ্ধতিতে গলদ দেখছেন তাঁদের কেন গত আট বছরে নানা সময়ে এই একই কথা বলতে শোনা যায়নি? তা পার্ক স্ট্রিট বা কামদুনির ধর্ষণ হোক বা সারদা-নারদ কেলেঙ্কারি হোক। অন্তরাত্মার যে খোঁচা আজ রুদ্রনীলের খাচ্ছেন বলে দাবি করছেন, এদ্দিন তা কোথায় ছিল?

বঙ্গীয় রাজনীতিতে দু'টি দলের সমানে সমানে লড়াই এর আগে দেখা যায়নি

বঙ্গীয় রাজনীতিতে দু'টি দলের সমানে সমানে লড়াই এর আগে দেখা যায়নি

কৌশিক যেটাকে ভণ্ডামি বলে ইঙ্গিত করছেন, তা অবশ্যই ভণ্ডামি কিন্তু তার পিছনে একটি ব্যাখ্যাও দেওয়া যেতে পারে। আসলে, আগামীর রাজনৈতিক সমীকরণটা পরিষ্কার হতেই দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ছে আজকের বঙ্গীয় সুশীল সমাজ। বঙ্গসমাজে একটির বেশি দু'টির সহাবস্থানের উদাহরণ খুবই সীমিত। স্বাধীনতার পর থেকে যে কোনও একটি দলের রাজই চলে এসেছে রাজ্যে -- হয় তা কংগ্রেস হোক বা বাম বা তৃণমূল। বর্তমানে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দ্বি-দলীয় ব্যবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে আর তাই এই শিবির বিভাজন। বঙ্গীয় সংস্কৃতিতে এটিকে অনেকেরই মানতে কষ্ট হচ্ছে কিন্তু বঙ্গীয় রাজনীতির এই পরিবর্তন ২০১১-র পরিবর্তনের চেয়েও বড়। ভণ্ডামি মনে হচ্ছে বটে কিন্তু এর মধ্যে রয়েছে একটি বিকল্প পথ খুঁজে পাওয়ার উল্লাসও। এই আড়াআড়ি বিভাজনটিই কিন্তু এখন বঙ্গের রাজনৈতিক সমাজের ভবিতব্য।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+