রাত সাড়ে ১২টায় কেন বাইরে বেরিয়েছিলেন নির্যাতিতা? দুর্গাপুরের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতার
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের কাছে হওয়া গণধর্ষণের ঘটনায় অবশেষে মুখ খুললেন। এবং তাঁর কথায় যেন পার্কস্ট্রিটের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি উঠে এল। এদিন তিনি যে মন্তব্য করেছেন তার মর্মার্থ হল, রাতে মেয়েদের বাইরে যাওয়া উচিত নয়। বা সেদিনও অত রাতে নির্যাতিতার বাইরে যাওয়া উচিত হয়নি।
এছাড়া দুর্গাপুরের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সরকারের উপর দায় চাপানোর বিষয়টিকে অন্যায় বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজেরই ছিল।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বিশেষ করে, রাতে একটি মেয়েকে বাইরে আসার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। তাদের নিজেদেরও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, "এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা… এই ধরনের অপরাধের প্রতি আমাদের জিরো টলারেন্স রয়েছে। তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুলিশ অন্যদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।"
তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, কেন প্রত্যেকবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে তাঁর সরকারকেই এককভাবে দায়ী করা হয়। প্রায় এক মাস আগে ওড়িশার পুরীর সমুদ্র সৈকতে এক ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, "ওড়িশা সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?"
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সন্ধ্যায়। দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এমবিবিএস ছাত্রী হাসপাতালের পিছনের একটি নির্জন এলাকায় গণধর্ষণের শিকার হন।
ওড়িশার বাসিন্দা ওই ছাত্রীর বাবা জানান, তিনি তাঁর মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন, কারণ তার মনে হচ্ছে সেখানে থাকা আর নিরাপদ নয়। এএনআইকে তিনি বলেন, "তারা এখানে যেকোনও মুহূর্তে মেয়েকে মেরে ফেলতে পারে। তাই আমরা ওকে ওড়িশায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাই। বিশ্বাস ভেঙে গিয়েছে। আমরা মেয়েকে বাংলায় রাখতে চাই না। মেয়ে ওড়িশায় ওর পড়াশোনা চালিয়ে যাবে।"
মেয়ের বাবা-মা, যারা ওড়িশা থেকে দুর্গাপুরে ছুটে এসেছিলেন। তারা নিউ টাউনশিপ থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন। বাবা আরও বলেন, "আমার মেয়ে যন্ত্রণায় রয়েছে। সে এখন হাঁটতে পারছে না। সে শয্যাশায়ী।"
এর আগে, শেখ রিয়াজউদ্দিন, শেখ ফিরদৌস এবং আপ্পু নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে আরও একজনকে আটক করেছে। এই অপরাধে আরও লোক জড়িত থাকতে পারে এবং তল্লাশি চলছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি আরজি করের ঘটনার এক বছর পর এই ঘটনার দায় বেসরকারি কলেজের উপর চাপিয়েছেন। আরজি করের ঘটনায়ও একজন মেডিকেল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছিল। এক্স পোস্টে সুকান্ত লিখেছেন, "পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ পতনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী কোনওভাবেই দায় এড়াতে পারেন না। আশ্চর্যের বিষয় হল, এখনও তিনি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন!"












Click it and Unblock the Notifications