West Bengal Bypolls: রাত পোহালেই বাংলার ৬ বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন, আরজি করকাণ্ডের পর প্রথম ভোট
West Bengal Bypolls: রাত পোহালেই বুধবার পশ্চিমবঙ্গের ৬ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। নৈহাটি, হাড়োয়া, মেদিনীপুর, তালড্যাংরা, সিতাই ও মাদারিহাটে রয়েছে বিধানসভা উপনির্বাচন। মোট ১০৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তার দায়িত্বে। আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar case) পর এটাই প্রথম ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন ৬ বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটাররা।
ছয় বিধানসভা আসনের (Six assembly seats) বিধায়করা গত লোকসভা নির্বাচনে সাংসদ হয়েছেন। তাই ছেড়ে আসা বিধায়কের আসনে হবে উপনির্বাচন। মাদারিহাট (Madarihat) আসনে বিধায়ক থেকে সাংসদ হন বিজেপির মনোজ টিগ্গা (Manoj Tigga)।

সিতাইয়ের (Sitai) বিধায়ক আসন ছেড়ে কোচবিহারের সাংসদ হয়েছেন তৃণমূলের জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। মেদিনীপুরে (Medinipur) জুন মালিয়া ও তালড্যাংরা ছেড়ে বাঁকুড়ার সাংসদ হয়েছেন অরূপ চক্রবর্তী। নৈহাটির (Naihati) বিধায়ক পদ থেকে ব্যারাকপুরের সাংসদ হয়েছেন পার্থ ভৌমিক।
মাদারিহাট ছাড়া বাকি সব আসনই রয়েছে তৃণমূলের দখলে। পরপর দু'বার সেখানে বিধানসভা ভোটে জিতেছিল বিজেপি। এমনকি বিগত লোকসভা নির্বাচনেও ১১ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়েছিল বিজেপি। তবে লোকসভা ভোটের নিরিখে মাদারিহাট ছাড়া বাকি ৫ কেন্দ্রের কোনওটিতেই বিজেপি ভালো ফল করেনি। এই কেন্দ্রে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী রাহুল লোহার। পাল্টা তৃণমূলের প্রার্থী জয়প্রকাশ টোপ্পো।
এবার ৭ বিধানসভা উপনির্বাচনেই চতুর্মুখী লড়াই। ২০২১-র পর এই প্রথম জোট করে লড়ছে না বাম ও কংগ্রেস। আরজি করের প্রতিবাদ আন্দোলনের পর জনগণের মন বুঝতে আলাদা আলাদা ভাবেই ঝাঁপাচ্ছে বাম ও কংগ্রেস। ৫ আসনে প্রার্থী দিয়েছে বামফ্রন্ট। নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে ৬ আসনেই প্রার্থী দিয়েছে হাত শিবিরও।
গত লোকসভা নির্বাচনে ২৯টি আসন ছিনিয়ে নিয়েছিল তৃণমূল। বিজেপির কপালে জুটেছিল মাত্র ১২টি। ২০১৯-র লোকসভার নিরিখে তৃণমূলের আসন বেড়েছিল ৭টি। ৬টি আসন হারাতে হয় বিজেপিকে। ২০২১-র বিধানসভা নির্বাচনের পরও বিধায়কের সংখ্যা কমে গিয়েছে বিজেপির। ৭৭ থেকে ৬৮ হয়ে গিয়েছে। এবারের উপনির্বাচন তাই তৃণমূলের কাছে লিটমাস টেস্ট। ৬টি বিধানসভা আসনে অগ্নিপরীক্ষা বঙ্গ বিজেপিরও। অপরদিকে, আরজি করকাণ্ডের জনমত বুঝে দেখার পরীক্ষা বাম-কংগ্রেসের।
ছয় বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনে সবার আগে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে বিজেপি। প্রার্থী তালিকায় কোনও চমক রাখেনি তারা। বরং স্থানীয় নেতৃত্বের উপর ভরসা রাখতে দেখা গিয়েছে দলকে। একই পথে হেঁটেছে সিপিএমও। এদিকে একমাত্র হাড়োয়া বিধানসভা কেন্দ্রে আইএসএফের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন পিয়ারুল ইসলাম।
বাঁকুড়ার তালড্যাংরা আসনে ভালো লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহবাবু। বিজেপির তরফে প্রার্থী করা হয়েছে অনন্যা রায় চক্রবর্তীকে। দুই প্রার্থীর হয়েই প্রচার সেরেছন সংশ্লিষ্ট দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এদিকে, নৈহাটিতে তৃণমূলের প্রার্থী সনৎ দে-র পাল্টা বিজেপির প্রার্থী রূপক মিত্র। সিতাই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী সঙ্গীতা রায়। বিজেপির প্রার্থী দীপক কুমার রায়। হাড়োয়াতে তৃণমূলের শেখ রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী বিমল দাস। মেদিনীপুরে তৃণমূলের সুজয় হাজরা বনাম বিজেপির শুভজিৎ রায় ভোটের লড়াইতে রয়েছেন।
আরজি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রতিবাদ এখনও অব্যাহত। সুপ্রিম কোর্টেও মুখ পুড়েছে রাজ্যের। একটা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ঘুঘুর বাসা। এই অবস্থায় উপনির্বাচনে আরজি কর কাণ্ডের যে প্রভাব পড়বে, তা সন্দেহাতীত। যদিও ভোটে জিততে উন্নয়ন অস্ত্রে শান দিচ্ছে তৃণমূল। আরজি করের প্রভাব ভোটে পড়বে না বলেই দাবি করেছে ঘাসফুল শিবির।












Click it and Unblock the Notifications