ফর্ম ৭ জমা দেওয়া নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ রাজ্যের নানা প্রান্তে, বিজেপি চাইছে সময়সীমার বৃদ্ধি
ফর্ম ৭ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আজ রাজ্যের নানা প্রান্তে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে। এই ফর্ম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূল পুলিশের মদতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ।
এই আবহে ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার সময়সীমা অন্তত এক সপ্তাহ বাড়ানোর আবেদন জানাল বিজেপি। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আপত্তি জানানোর এই ফর্মটি জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল আজ।

একইসঙ্গে, গেরুয়া শিবির অভিযোগ করেছে যে, শাসক তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (Special Intensive Revision - SIR) প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ করে, নির্বাচন আধিকারিকরা হয় অফিস ছেড়ে যাচ্ছেন বা প্রশাসনিক ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফর্ম ৭ জমা দেওয়া আটকে দিচ্ছেন।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে লেখা একটি চিঠিতে বিজেপি এসআইআর প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের ফর্ম ৭ জমা দেওয়া সংক্রান্ত পরিস্থিতিকে "গুরুতর ও নজিরবিহীন" বলে উল্লেখ করেছে। চিঠিতে আরও যুক্ত করা হয়েছে, "প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারত নির্বাচন কমিশন এসআইআর, ২০২৬-এর জন্য ফর্ম ৭ জমা দেওয়া প্রসঙ্গে একটি স্পষ্টীকরণ জারি করেছিল, যা ১৬ জানুয়ারি সমস্ত জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEOs) কাছে যথাযথ পালনের জন্য পাঠানো হয়।"
বিজেপি জোর দিয়ে বলেছে যে, আইন অনুযায়ী কমিশন জানিয়েছিল একজন ভোটার যতগুলি খুশি ফর্ম ৭ জমা দিতে পারেন, তার সংখ্যায় কোনও সীমাবদ্ধতা নেই। এরপরেও যোগ্য ভোটারদের ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার বারবার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছে।
বিরোধীদের দাবি, "আধিকারিকরা হয় অফিস ছেড়ে যাচ্ছেন, নয়তো প্রশাসনিক ব্যস্ততার অজুহাত দেখাচ্ছেন অথবা ফর্ম ৭ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে জমা দেওয়ার প্রচেষ্টাকে বাধা দিচ্ছেন। কমিশনের নির্দেশাবলি নিশ্চিতভাবে পালনের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।"
আগে গেরুয়া শিবির অভিযোগ করে যে, তৃণমূল কর্মীরাও ফর্ম ৭ জমা দিতে বাধা দিচ্ছে। তবে শাসক দল পাল্টা দাবি করে, বিজেপির কর্মীরা মৃত বা স্থানান্তরিতদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিপুল সংখ্যক ফর্ম ৭ পরিবহনের সময় ধরা পড়েছে।
বিজেপি নেতা প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্জয় সিং এবং তাপস রায়ের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে বলা হয়, "ফর্ম ৭ জমা দেওয়া নিশ্চিত করতে, দাবি ও আপত্তি জানানোর জন্য ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা অন্তত এক সপ্তাহ বাড়ানো হোক।"
প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল "সংকীর্ণ রাজনৈতিক লাভের" জন্য DEO-দের উপর চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে যোগ্য ভোটারদের ফর্ম ৭ জমা দিতে সাহায্য না করা হয়। তার মতে, গত নির্বাচনগুলিতে শাসকদল বিপুল সংখ্যক 'ভুয়ো ভোটার' নিয়ে পার পেয়েছিল।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সতর্ক করেছেন যে, বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ার পর একজনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়লে, তাঁর দল নির্বাচন হতে দেবে না। তিনি নির্বাচন কমিশনকে প্রতিটি জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের স্বাধীন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে বলেছেন।












Click it and Unblock the Notifications