বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার দামামা বেজে গেল, ব্রিগেডে হবে মোদীর সভা
আজ কলকাতা স্প্রিং ক্লাবে রাজ্য বিজেপির আসন্ন পরিবর্তন যাত্রার টিজার প্রকাশিত হল। তাকে কেন্দ্র করে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন, রাজ্য বিজেপি সভাপতি এবং রাজ্যসভা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার প্রমুখ।

রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, এই টিজারটি বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা হবে। এর পর পরিবর্তন যাত্রার পুস্তিকা প্রকাশ করেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। এটি ইংরেজি এবং বাংলায় পাওয়া যাবে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, দীর্ঘ ৩৪ বছরের নিরবচ্ছিন্ন বাম শাসনের পর ২০১১ সালে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য রাজনৈতিক পালাবদল হয়। মানুষ চেয়েছিলেন সার্বিক পরিবর্তন। কিন্তু ২০১১ সালের পর পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রাপ্তি কী? একটা একদলীয় শাসকের অবসানের পর আর একটি একদলীয় শাসক ক্ষমতায় এসেছিল। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে কোনও সরকার নেই। তৃণমূল কংগ্রেস চলে গিয়েছে, যাচ্ছে এবং যাবে। এই লড়াই সাধারণ মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই।
শমীক বলেন, এই লড়াই প্রকৃতির সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই। তৃণমূল কোথাও দুর্নীতি ছাড়া এক পাও এগোয় না। আজ দুর্নীতি এবং তৃণমূল সমার্থক হয়ে গেছে। নির্বাচন আগত। ১২ টি রাজ্যে এসআইআর হলেও কোথাও পশ্চিমবঙ্গের মত পরিস্থিতি হয়নি। আজ সর্বস্তরের মানুষ আক্রান্ত। এই যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা আপনাদের কাছে সর্বস্তরে পরিবর্তনের লক্ষ্যে এগোচ্ছি।
১ মার্চ থেকে পরিবর্তন যাত্রা শুরু হবে। ১ মার্চ ৪টি বড় জনসভা হবে। ২ মার্চ ৫ টি বড় জনসভা হবে। এই কর্মসূচিতে সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং পূর্বতন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন। ৩,৪ তারিখ দোলের পর ৫ তারিখ ৯টি যাত্রা হবে এবং কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে এই যাত্রা শেষ হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা মাধ্যমে।
৬৪ বড় জনসভা, ৩০০ ছোট সভা হবে এবং ২৫০ টি জায়গায় বিভিন্ন সম্প্রদায়, জনগোষ্ঠীর মানুষজন একে স্বাগত জানাবেন। ২৫০ টি বিধানসভা দিয়ে এই যাত্রা হবে। বাকি ৪৪ টি বিধানসভায় ব্রিগেড অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভিন্ন কর্মসূচি হবে। প্রতি জায়গায় ট্যাবলো, ধারাবাহিকভাবে পথসভা চলবে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, যে কোনও রাজনৈতিক দলের মানুষ এতে যোগদান করুন এটাই চাই।
শমীকের কথায়, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, বিহারে যেভাবে জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে, যেভাবে মেধা, শ্রম অন্যত্র চলে যাচ্ছে - সেই ধ্বংসকে বাঁচাতে আমরা চাইছি সবার যোগদান। আমরা চাই তৃণমূলের যাঁরা ওই অমৃত রস পান করেননি, কংগ্রেসের জাতীয়তাবাদী, বামেরাও এতে যোগদান করুন। আমাদের আবেদন পশ্চিমবঙ্গকে গভীর অসুখ থেকে বের করে আনতে হবে। তার লক্ষ্যেই এই যাত্রা।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মোট ৫০০০ কিলোমিটার রুট ম্যাপ রয়েছে। গৃহ সম্পর্ক অভিযানের পাশাপাশি এই রাজ্যে সদস্যতা অভিযানের মাধ্যমে আমরা প্রায় ৫০ লক্ষ সদস্য সংগ্রহ করতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগেই পরিবর্তনের মূল সুর বেঁধে দিয়েছিলেন। এবার সেটাকেই পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রী নিজে গ্যারান্টি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনার। এই যাত্রাকে আমরা সর্বস্তরে জনগণকে সংযুক্ত করব। বদলা নয় বদল চাইয়ের স্লোগান দিলেও রাজ্যে সীমাহীন তোষণ, রাজনৈতিক সন্ত্রাস দেখেছে বাংলার মানুষ। তাই পরিবর্তন হবেই।
এরপর কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার এই পরিবর্তন যাত্রার রুট সহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, এই যাত্রা ঐতিহাসিক যাত্রা হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তন চাইছে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। এমনকী ভবানীপুরেও মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। ১০০০ এর বেশি মন্ডল, ৩৮ টি সাংগঠনিক জেলা, ১১০ কিমি বেশি রুটে নেতৃত্ব ৫৬ টি সভায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন। এই যাত্রা পরিবর্তনের গঙ্গাকে ভগীরথের মতো পথ দেখাবে। এই যাত্রায় লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করবেন।












Click it and Unblock the Notifications