ভোটের রণদামামা বাজিয়ে মমতা এমাসেই নামছেন প্রচারে! অমিত শাহকে টার্গেটে রেখে ভোট গেমপ্ল্যান শুরু
রণদামামা বাজিয়ে মমতা এমাসেই নামছেন প্রচারে! অমিত শাহকে টার্গেটে রেখে ভোট গেমপ্ল্যান শুরু
২৯৪ টি বিধানসভা কেন্দ্র। মাঝে মাত্র কয়েক মাস সময়। গেমপ্ল্যান খুব একটা দুর্বল হলেই বিপদ! এমন এক প্রেক্ষাপচে ২০১৯ লোকসভার ফলাফলের ক্ষত গায়ে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বাংলার ভোট রণাঙ্গনে প্রচার পারদ তুঙ্গে রাখতে চলেছেন। একাধিক ছকে সাজানো হয়েছে মমতা থেকে তৃণমূলের হেভিওয়েটদের সভার সূচি। তার আগে দেখে নেওয়া যাক নভেম্বর থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমো কোন পরিকল্পনাতে রয়েছেন।

অমিত শাহকে টার্গেটে রেখে জনসভা!
লোকসভা ভোটে মূলত বিজেপি যেখানে যেখানে বাংলায় সভা করেছে, তারপর সেখানে পাল্টা সভায় তৃণমূলকে দেখা গিয়েছে। এবার বিধানসভার আসরে, অমিত শাহকে টার্গেটে রেখে ফিল্ডার সাজাচ্ছে তৃণমূল! আর সুপ্রিমো নিজে রয়েছেন নেতৃত্বে। জানা গিয়েছে আগামী সপ্তাহেই প্রচার সভা শুরু করতে চলেছেন মমতা। আর অমিত শাহ যেখানে সদ্য সভা করেছেন, সেখানেই সভা দিয়ে শুরু করছেন মমতা।

কোথায় , কবে সভা রয়েছে মমতার?
আগামী সপ্তাহ থেকে জেল সফরে ফের যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৫ তারিখ বাঁকুড়ায় রয়েছে তাঁর প্রশাসনিক বৈঠক। তার আগে তিনি বাঁকুড়ায় সভা করতে চলেছেন বলে খবর। প্রশাসনিক সভার আগেই এখানে জনসভা হবে মমতার। প্রসঙ্গত, এই বাঁকুড়াতেই কয়েকদিন আগে অমিত শাহ সভা করে গিয়েছেন। এক স্থানীয়ের ঘরে তিনি মধ্যাহ্নভোজ করেও প্রচারের পারদ চড়ান। এরপর সেখানে ময়দানে নামছেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো।

কেন বাঁকুড়াকে গুরুত্ব বিজেপি-তৃণমূলের?
প্রসঙ্গত, বাঁকুড়াতে তুলনামূলকভাবে তৃণমূলে সাংগঠনিক ক্ষমতা কমে গিয়েছে একাধিক হেভিওয়েট দল ছাড়তেই। এদিকে, দলের মধ্যেও বহু মনোমালিন্য সংগঠনকে দুর্বল করেছে। তৃণমূল সেই হারানো জমি এহার ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় রয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে গড় দখলে মুখিয়ে রয়েছে বিজেপি।

বাঁকুড়ার কোথায় মমতার জনসভা
স্থানীয় পুলিশ সূত্রের খবর, বাঁকুড়ার প্রশাসনিক বৈঠক হবে খারিদুবরি স্পোর্টস কম্প্লেক্সে। আর ডেলা হেডকোয়ার্টার থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে সুনুক পাহারি হাটের মাঠে মমতার সভা হওয়ার কথা রয়েছে।

কেমন হতে চলেথে করোনা কালে মমতার হাইভোল্টেজ সভা!
তৃণমূল সূত্রের খবর, দিদির সভা মঞ্চ থেকে দূরে থাকবে জনতার বসার জায়গা। ২৫ থেকে ৩০ জন মমতার থেকে সোশ্যাল ডিসটেন্সিংয়ে দবরে থাকবেন। সভায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। স্থানীয় তৃণমূলের তরফে সভা ঘিরে চড়ছে পারদ।

২০১১, ২০১৬ বাংলার নির্বাচনের ফলাফল ও তৃণমূলের প্রচার ছক
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে বাংলায় ১৮৪ টি আসন ঘাসফুল দখল করে। এরপর ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে ২১১ হয় তৃণমূলের আসন সংখ্যা। তবে এরপর ২০১৯ লোকসভা ভোট কার্যত মমতাকে ব্যাপক ধাক্কা দিয়েছে। সেবার মমতার গড়ে বিজেপি ৪২ টিতে ১৮ টি আসন দখলে রাখে। এদিকে, সেই সমস্ত দিকে নজর দিয়ে আপাতত ২৯৪ টি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল ২ টি করে সভা করবে বলে স্থির করেছে। মোট ৬০০ টি সভার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ২২ নভেম্বর থেকেই সভার কাজ শুরু হবে।

করোনাকালে প্রচারে কোন গেমপ্ল্যান!
কমিউনিটি রেডিও প্রচারও চালানো হবে। সেখানে তুলে ধরা হবে তৃণমূলের সাফল্যের কথা। শুধু বাংলা ভাষাতেই নয়, নেপালি, সাঁওতালি, তেলেগু, ইংরেজি, হিন্দি এবং রাজবংশীতে। টার্গেট হল রাজ্যের সব মানুষের কাছে পৌঁছনো। এছাড়াও বিদ্রোহী শুভেন্দুকে নজরে রেখে জঙ্গলমহলে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তৃণমূল সভা কবে বলে খবর। নজর দেওয়া হচ্ছে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়াতেও।












Click it and Unblock the Notifications