বাংলায় অরাজকতার ছবি শিরোনামে! বারবার কেন টার্গেট বিধানসভা, উঠছে প্রশ্ন
বাংলায় অরাজকতার ছবি শিরোনামে! বারবার কেন বিধানসভা টার্গেট, উঠছে প্রশ্ন
রাজ্যে কি নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে তৃণমূলের তৃতীয় জমানায়? অবধারিত প্রশ্নটা কিন্তু উঠে পড়েছে এবার। তৃণমূল অভিযোগ করছে, সবই চক্রান্ত এবং পরিকল্পিত। কিন্তু ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পনা যা হচ্ছে, সেই ছবিটা কিন্তু রাজ্যের পক্ষ ভালো নয়। রাজ্যকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে একের পর এক ঘটনা। রাজ্য বারবার উঠে আসছে শিরোনামে।

তৃণমূল কংগ্রেস তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য নানা ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একাধিক কাউন্সিলর খুন হয়েছে রাজ্যে। সেখানে রয়েছে শসাক দলের কাউন্সিলরও। তারপর আনিস খানের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, যেখানে অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। আর তারপর ঘটেছে রামপুরহাট গণহত্যার ঘটনা। যা নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।
রামপুরহাটের গণহত্যার ঘটনা নিয়েই এদিন বিধানসভা উত্তাল হয়ে ওঠে। শাসক ও বিরোধী বিধায়করা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। মারামারিতে তৃণমূল বিধায়কের নাকের হাড় ভাঙে, বিজেপি বিধায়ক বুকে আঘাত পান। বিজেপি বিধায়করা বিধানসভায় ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় বিজেপির পাঁচ জন বিধায়ককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
বিজেপি এতদিন ভোট-হিংসা এবং ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এবার সেই হিংসার বিরুদ্ধে বিধানসভায় গর্জে উঠতে গিয়ে ভাঙচুর, হাতাহাতি, মারামারিতে জড়িয়ে পড়লেন বিজেপি বিধায়করা। এই ছবি কি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বার্তা বহন করে। শুধু এবারই নয়, বারবার বিধানসভায় ভাঙচুরের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। যখন যে বিরোধী, তখন তারা তাঁদের রাগ-হতাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে বিধানসভায় তাণ্ডব চালিয়ে।
কিন্তু কেন বারবার বিরোধীদের নিশানায় পড়তে হয় বিধানসভাকে? এর আগে ২০০৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভায় ভাঙচুরে অভিযুক্ত হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধানসভায় ভাঙচুর চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের পথে বাধা পেয়ে বিধানসভা এসে হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে তৎকালীন শাসক সিপিএম অভিযোগ। যথারীতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন।
আবার ২০১২ সালে তৃণমূল তখন শাসন ক্ষমতায়, সিপিএম তথা বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস বিধায়করা বিধানসভায় তাণ্ডব চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁরা বিল পাস নিয়ে আলোচনা চেয়েছিলেন। কিন্তু তা তৃণমূল না মানায় বাম-কংগ্রেসের বিধায়করা তাণ্ডব চালিয়েছিলেন বিধানসভায়। ভাঙচুর-হাতাহাতি হয়েছিল। তখন বিরোধী দলের ভূমিকায় বাম-কংগ্রেস।
আর এবার যে ঘটনা ঘটল সেখানে বিরোধী আসনে বিজেপি। বিজেপি বিধায়করা রামপুরহাট-কাণ্ড নিয়ে আলোচনা চেয়ে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখালেন। স্পিকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে জড়িয়ে পড়লেন হাতাহাতি-মারামারিতে। ভাঙচুর চলল বিধানসভায়। অরাজকতা তৈরি হয়ে গেল বিধানসভায়। শাসক-বিরোধী একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেই ক্ষান্ত।
বিধানসভা নির্বাচনের পর একের পর এক ঘটনায় সারা দেশে এখন শিরোনামে উঠে এসেছে বাংলা। অভিযোগ, বিজেপি চাইছে বাংলার অরাজকতার ছবি তুলে ধরতে। একের পর এক ঘটনা বিজেপি তুলে ধরে রাজ্যে ৩৫৫ ধারা জারির দাবি জোরালো করছে। এদিনও লোকসভায় এই দাবি তুলেছেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খান।












Click it and Unblock the Notifications