একুশের নির্বাচনে মুখোমুখি হওয়ার আগে জয়নগরের সাত কেন্দ্রে কে কোথায় এগিয়ে
একুশের নির্বাচনে মুখোমুখি হওয়ার আগে জয়নগরের সাত কেন্দ্রে কে কোথায় এগিয়ে
একুশের বিধানসভা নির্বাচন শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হ্যাটট্রিকের ভোট নয়, এবারের ভোট প্রেস্টিজ ফাইটও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবং মোদী-শাহের বিজেপির মধ্যে এবার লড়াই বাংলার বুকে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। ২০১৯-এ বিজেপির কাছে তৃণমূল ধাক্কা খাওয়ার পর একুশের বিধানসভা নির্বাচনের তথ্য-তালাশ একনজরে।

এবার কে জিতবে? পরিবর্তন বনাম প্রত্যাবর্তন
১০ বছর পর কি ফের বাংলার বুকে পরিবর্তন আসন্ন! নাকি তৃণমূলই বাংলায় প্রত্যাবর্তনের সরকার গড়বে? বিজেপি বাংলায় প্রকৃত পরিবর্তনের দাবি নিয়ে ময়দানে হাজির। তৃণমূলের লক্ষ্য মমতার প্রত্যাবর্তন এবং হ্যাটট্রিক। এই অবস্থায় দেখে নেওয়া যাক জয়নগর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের হালহকিকৎ কী!

জয়নগরের অন্তর্গত সাত কেন্দ্র ২০১৬-য়
জয়নগর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা হল- গোসাবা, বাসন্তী, কুলতলি, জয়নগর, ক্যানিং পশ্চিম, ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পূর্ব। এই সাতটি কেন্দ্রের মধ্যে ২০১৬-য় ৬টি কেন্দ্র জয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। শুধুমাত্র কুলতলি কেন্দ্রটি গিয়েছিল সিপিএমের দখলে। কিন্তু ২০১৯-এ বামেদের সমস্ত ভোট বিজেপি নিয়েও তৃণমূলকে টপকাতে পারেনি।

জয়নগরের অন্তর্গত সাত কেন্দ্র ২০১৯-এর নিরিখে
২০১৯-এর নির্বাচনে তৃণমূল সাতটি কেন্দ্রেই এগিয়েছিল। তৃণমূল যথেষ্ট পরিমাণ লিড ছিল গোসাবা, বাসন্তী, ক্যানিং পশ্চিম, ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পূর্বে। তৃণমূল এগিয়েছিল দুটি কেন্দ্রে। শুধু কুলতলি ও জয়নগরে বিজেপির সঙ্গে ব্যবধান ছিল স্বল্প। তাও এক জায়গায় ৯ হাজার এক জায়গায় ১৪ হাজার।

কেন্দ্র : গোসাবা
২০১৬-য় গোসাবা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের জয়ন্ত নস্কর জয়ী হয়েছিলেন আরএসপির উত্তমকুমার সাহাকে সাড়ে ১৯ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে। ২০১৯-এ এই কেন্দ্রে প্রায় ২৮ হাজার ভোটে এগিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রতিমা মণ্ডল। বিজেপি এই কেন্দ্রে পিছিয়ে পড়েছিল। এবার একুশের ভোটে কে কাকে টেক্কা দিতে পারে, তার দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

কেন্দ্র : বাসন্তী
বাসন্তী কেন্দ্রে ২০১৬-র নির্বাচনে তৃণমূলের গোবিন্দ নস্কর জয়ী হয়েছিলেন আরএসপির সুভাষ নস্করকে হারিয়ে। সাড়ে ১৬ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। ২০১৯-এ এই কেন্দ্র থেকে ৫৬ হাজারে বিপুল লিড নেন তৃণমূলের প্রতিমা মণ্ডল। তৃণমূল এই কেন্দ্রে বিশাল পিছিয়ে দেয় বিজেপিকে।

কেন্দ্র : কুলতলি
২০১৬-র নির্বাচনে কুলতলি কেন্দ্রে তৃণমূলের গোপাল মাঝিকে হারিয়ে দেন সিপিএমের রামশঙ্কর হালদার। সাড়ে ১১ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে দেন তিনি। তবে ২০১৯-এ এই কেন্দ্র থেকে লিড নেন প্রতিমা মণ্ডল। তিনি সাড়ে ৮ হাজারেরও বেশি ভোটে বিজেপির প্রার্থীর থেকে এগিয়ে ছিলেন। ২০১৬-য় তৃণমূলের হারা পড়া কেন্দ্রে ২০১৯-এ এগিয়ে থাকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

কেন্দ্র : জয়নগর
২০১৬-র নির্বাচনে জয়নগরে জয়ী হন তৃণমূলের বিশ্বনাথ দাস। তিনি কংগ্রেসের সুজিত পাতোয়ারিকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে দেন। এরপর ২০১৯-এ এই কেন্দ্র থেকে সাড়ে ১৬ হাজার ভোটে লিড নিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রতিমা মণ্ডল। এই কেন্দ্রে ২০১৬-র সঙ্গে ২০১৯-এর ভোটে সাযুজ্য বজায় রয়েছে।

কেন্দ্র : ক্যানিং পশ্চিম
২০১৬-য় ক্যানিং পশ্চিম কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তৃণমূলের শ্যামল মণ্ডল। তিনি কংগ্রেসের অর্ণব রায়কে সাড়ে ১৮ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে দেন। এরপর ২০১৯-এ এই কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে লিড নিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রতিমা মণ্ডল। এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী বেশ পিছিয়ে পড়েছিলেন। একুশের নির্বাচনে এই অগ্রগমন ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল।

কেন্দ্র : ক্যানিং পূর্ব
ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকে ২০১৬-র নির্বাচনে জয়ী হন তৃণমূলের শওকত মোল্লা। তিনি সিপিএমের আজিজের রহমান মোল্লাকে ৫৫ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে ছিলেন। এরপর ২০১৯-এ এই কেন্দ্র থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ভোটে লিড নিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রতিমা মণ্ডল। ফলে এই কেন্দ্রটি তৃণমূল ধরে রাখার ব্যাপারে আশাবাদী।

কেন্দ্র : মগরাহাট পূর্ব
মগরাহাট পূর্ব কেন্দ্র থেকে ২০১৬-র নির্বাচনে জয়ী হন তৃণমূলের নমিতা সাহা। তিনি সিপিএমের চন্দন সাহাকে সাড়ং ৯ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে দেন। এরপর ২০১৯-এ এই কেন্দ্র থেকে ৩৭ হাজারেরও বেশি ভোটে লিড নেন তৃণমূলের প্রতিমা মণ্ডল। এই কেন্দ্রটিও একুশের নির্বচনে ধরে রাখতে সমর্থন হবে তৃণমূল।












Click it and Unblock the Notifications