হলদিয়ার পর মোদী আসছেন চুঁচুড়ায়! কীসের ভিত্তিতে প্রাধান্য পাচ্ছে এই বিধানসভা এলাকা
হলদিয়ার পর মোদী আসছেন চুঁচুড়ায়! কীসের ভিত্তিতে প্রাধান্য পাচ্ছে এই বিধানসভা এলাকা
মূল লক্ষ্য গঙ্গাতীরের নীলবাড়ি দখল। আর তার আগে বাংলার নদীর তীরের একাধিক শহরে পর পর হাইভোল্টেজ সভায় যোগ দিচ্ছেন মোদী। বিজেপির ক্ষপরধার স্ট্র্যাটেজিতে নির্ভর করে হলদিয়াতে মোদীর জনসভা আয়োজন করে বঙ্গের গেরুয়া শিবির। হলদি নদীর তীরের সেই শহরের পর এবার হুগলি নদীর তীরের চুঁচুড়াকে টার্গেট করে এগোচ্ছে বিজেপি। কেন এই বিধানসভা কেন্দ্র গুরুত্বের জায়গায় যাচ্ছে একুশের ভোটের আগে, দেখা যাক।

চুঁচুড়াতে কবে আসছেন মোদী?
এখনও পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে, ২২ ফেবব্রুয়ারি মোদী হুগলির ঐতিহাসিক শহর চুঁচুড়ায় সভা করবেন। এই শহরের ঐতিহ্য ছাড়াও এর ভৌগলিক অবস্থান ভোট রাজনীতিতে ব্যাপক তাৎপর্য রাখছে। আর সেই জায়গা থেকেই এলাকায় মোদীর সভা আয়োজনে ব্য়স্ত বিজেপির থিঙ্কট্যাঙ্ক।

চুঁচুড়ার কোন মাঠে সভা?
এক নামী সংবাদমাধ্যমের সূত্রের খবর, চুঁচুড়ার প্রেমনগর ও রূপনগর, দুটি মাঠের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়া হবে না, কারণ সেখানে স্টেডিয়মের কাজ হচ্ছে।। স্থানীয়দের কাছে ফার্স্ট ও সেকেন্ড গ্রাউন্ড বলে পরিচিত দুটি মাঠকে মিলিে সভা হতে পারে বলে খবর। তবে তা নিশ্চিত নয়। এদিকে , বিজেপি, সাহাগঞ্জের ডানলপ কারখানার কাছাকাছি মাঠে মোদীর সভা করার বিষয়েও ভাবছে। তবে এখনও চূড়ান্ত ভাবে কোনও সিদ্ধন্ত আসেনি সামনে।

ডানলপ থেকে জুটমিল ইস্যু ও চুঁচুড়া বিধানসভা এলাকা
মূলত, গঙ্গার দুই তীর ধরে একের পর একজুট মিল আজ বহু বছর বন্ধ বাংলায়। সেই নিরিখে বেশিরভাগ জুটমিলই গঙ্গাতীরবর্তী ভদ্রেশ্বর, চন্দননগর, নৈহাটি, সহ একাধিক এলাকায় বিস্তৃত। এদিতে, হুগলির সাহাগঞ্জে বহু বছর আগে বন্ধ হয়েছে ডানলপ কারখানা। কারখানার বিশাল এলাকা জুড়ে এখন কেবলই ঘন জঙ্গল। ভগ্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে এককালে বাংলার গর্ব এই ডানলপ কারখানা। এই প্রেক্ষাপট নিয়ে শিল্পনগরী হিসাবে পরিচিত হুগলি ফের একবার ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টায় মরিয়া। অন্যদিকে, সিঙ্গুরে টাটাদের প্রজেক্ট আটকে থাকায় তার প্রভাবও পড়েছে হুগলির একাধিক জায়গায়। সব মিলিয়ে চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্র ক্রমাগত শিল্পে দিক থেকে বিজেপির কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে। এমনই খবর সূত্রের। আর সেই কারণেই মমতা সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যে শিল্পের পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়ে প্রচারের ধার শানাতে চাইছে বিজেপি। এজন্যই চুঁচুড়াকে আলাদা করে গুরুত্ব দিয়ে এই শহরে নরেন্দ্র মোদীর সভা আয়োজন করতে চাইছে বিজেপি।

আর কোন কারণে নজরে চুঁচুড়া?
মূলত , বিজেপি বাংলার ভোটযুদ্ধে প্রচারে দুটি প্রধান ভাগে স্ট্র্যাটেজি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একদিকে একাধিক নেতার হাইভোল্টেজ সভা। এরমধ্যে বহু সভা দলবদলের জেরে ফোকাসে আসে, কিছু ক্ষেত্রে সম্প্রদায় , পেশার ভিত্তিতে বিজেপি নেতাদের মধ্যাহ্নভোজ লাইমলাইট কাড়ে। বাকি বহু সভায় রোড শো থেকে শুরু করে থেকেছে একাধিক চমক। এই সভাগুলিতে সাধারণত অমিত শাহ থেকে জেপি নাড্ডার মতো নেতাদের দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে, মোদী রাজ্যে এসেছেন একাধিক সরকারি প্রকল্পে। তিনি সাম্প্রতিক হলদিয়ায় বিজেপির সভায় যোগ দিয়ে অনুন্নয়নের খোঁচায় মমতাকে বিদ্ধও করেছেন। আর প্রচারের এই দু'ধরনের স্ট্র্যাটেজির মাঝে চুঁচুড়াকে কেবল শিল্প ইস্যুতেই বেছে নেয়নি বিজেপি , এর পাশপাশি নদীর ওপারের ২৪ পরগনার নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল,ব্যারাকপুর, নোয়াপাড়া শিল্পাঞ্চল থেকেও দলীয় কর্মীদের ভিড় হবে এমনটা আশা রেখেই চুঁচুড়াকে মোদীর সভা ঘিরে স্পটলাইটে রাখা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications