আসতে পারলেন না শাহ! হাওড়ার 'তৃণমূল' ইউনিট হাজির দিল্লিতে
একের পর নেতাকে দলে যোগদান করিয়ে এবার তৃণমূলের (trinamool congress) হাওড়া ইউনিট কার্যত দখলের পথে বিজেপি (bjp) । ২০১৬-তে মুকুল রায়কে দলের নেওয়ার পরে বিজেপির টার্গেটে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (suvendu adhikari) । ২০২০-র শে
একের পর নেতাকে দলে যোগদান করিয়ে এবার তৃণমূলের (trinamool congress) হাওড়া ইউনিট কার্যত দখলের পথে বিজেপি (bjp) । ২০১৬-তে মুকুল রায়কে দলের নেওয়ার পরে বিজেপির টার্গেটে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (suvendu adhikari) । ২০২০-র শেষে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর দিন বিজেপিতে যোগ দিতে দিল্লিতে যাচ্ছেন তৃণমূলে ভাল ছেলে বলে পরিচির রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে যাচ্ছেন আরও তিন নজরকাড়া জনপ্রতিনিধি।

হাওড়ায় বড় ভাঙন তৃণমূলে
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে হাওড়ায় এযাবৎ কালের মধ্যে তৃণমূলে সব থেকে বড় ভাঙন হতে চলেছে। এদিন দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন, ডোমজুড় ও বালির বিধায়ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তী। এঁরা সবাই অভিযোগ করেছিলেন, নেতৃত্বের অভাব রয়েছে, চরম অসহযোগিতার অভিযোগ তাঁরা করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয়, তাঁদের সবারই অভিযোগের তির ছিল হাওড়ার তৃণমূল নেতা অরূপ রায়ের দিকে। অন্যদিকে এদিন বিজেপিতে যোগ দিতে চলা হুগলির উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক প্রবীর ঘোষালেরও অভিযোগ ছিল প্রায় একই। স্থানীয় তথা জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধী। যার জেরে কাজ করতে না পারার অভিযোগ।
যদিও তৃণমূলের তরফে আগেই জানানো হয়েছে দলে কোনও শূন্যতা তৈরি হবে না।

ভাল ছেলে রাজীব
তখনও শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিত যোগ দেননি। গত ডিসেম্বরের শুরুতে জায়গায় জায়গায় পোস্টার পড়ছে তাঁর নামে। কোনও কোনও পোস্টার পড়ে তৎকালীন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। ডোমজুড়ের বিধায়ক হলেও, তাঁর নামে পোস্টার পড়ে শ্যামবাজার, গিরিশ পার্ক, কাঁকুড়গাছি, উল্টোডাঙায়। সেইসব পোস্টারে লেখা ছিল কাজের মানুষ, কাছের মানুষ, সঙ্গে লেখা ছিল সততার প্রতীক। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যাঁরা যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছেন, তাঁরা প্রাধান্য পাচ্ছেন না। এব্যাপারে অবশ্য সেই সময় রাজ্যের মন্ldjr ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন রাজীব ভালো ছেলে, কাজের ছেলে।
শুভেন্দু অধিকারীর মতো তাঁকেও ধরে রাখতে চেষ্টার কসুর করেনি ঘাসফুল শিবির। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু তারপরেই সেই পূর্ব মেদিনীপুরের মতোই চিত্র।

অরূপ রায় বলেছিলেন, চোরের মায়ের বড় গলা
হাওড়ায় যাঁরা বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছে, তাঁদের সবারই অভিযোগ ছিল অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু নাম না করে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছিলেন রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়। ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেছিলেন, চোরের মায়ের বড় গলা। অপর প্রভাবশালী নেতা অরূপ রায়ও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন দাবি করেছিল বিজেপি। যদিও তা অস্বীকার করেছিলেন অরূপ রায়। বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং বলেছেন, বেলুড়ের গুলি কাণ্ডে অরূপ রায়ের ইন্ধন ছিল। তিনি বিজেপিতে আসতে চাইলেও নেওয়া হবে না। এই মন্তব্যের জেরে অর্জুন সিংকে আইনি নোটিশ পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন অরূপ রায়।

২০১৬ ও ২০১৯-এর নিরিখে হাওড়ার ফল
হাওড়ায় বিধানসভা আসনের সংখ্যা ১৬। ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে তৃণমূল কংগ্রেস সেখানে ১৫ টি আসন পায়। আর জোটের হিসেবে কংগ্রেস একটি আসন দখল করেছিল। অন্যদিকে ২০১৯-এর নিরিখে শুধুমাত্র উত্তর হাওড়াকে বাদ দিয়ে বাকি ১৫ টি আসনেই এগিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি শুভেন্দু অধিকারীর পূর্ব মেদিনীপুরের মতো হাওড়া জেলারও দখল নেবে বিজেপি? কেননা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে হাওড়া তৃণমূলে বড় ভাঙনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications