একদা মমতা ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দীনেশ ত্রিবেদীর 'ফুল বদল', কী বলছে তৃণমূল কংগ্রেস?
কিছুদিন আগেই বলেছিলেন তৃণমূলে তাঁর দম বন্ধ হয়ে আসছিল। দলে থেকে কাজ করতে পারছিলেন না বলেও জানিয়েছিলেন। ছাড়েন রাজ্যসভার সদস্যপদ। তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদও ত্যাগ করেন সেই সঙ্গে। জল্পনা তখন থেকেই ছিল। আজ রাজধানীতে বিজেপির কার্যালয়ে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। দীনেশ ত্রিবেদীকে আজ দলে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন পীয়ূষ গোয়েলও।

'দীনেশ ত্রিবেদী কোনও জননেতা নন'
এদিকে দীনেশ ত্রিবেদীকে পাল্টা অকৃতজ্ঞ বলে আক্রমণ করেন তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। কুণাল ঘোষ বলেন, 'দীনেশ ত্রিবেদী কোনও জননেতা নন। তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় তাঁকে রাজনীতিতে লড়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। রেলমন্ত্রী করেছেন। এরপর তিনি তৃণমূলের নীতি-আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এঁদের কাছ থেকে দলকে এটা পেতে হচ্ছে, সেটাই দুর্ভাগ্যের।'

বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন দেবেন দীনেশ
এদিকে ব্রিগেড সমাবেশের ঠিক একদিন আগে বর্ষীয়ান এই নেতার পদ্মশিবিরে নাম লেখানো নিঃসন্দেহে বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে বলে মনে করছেন রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা। আজ দীনেশ ত্রিবেদী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর নাড্ডা বললেন, ভালো লোক ভুল দলে চলে গিয়েছিলেন। এবার ঠিক দলে চলে এসেছেন। আজকের বিজেপির সাংবাদিক বৈঠকে নাড্ডা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দীনেশ ত্রিবেদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীর স্বচ্ছতারও ভূয়ষী প্রশংসা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।

মোদী-শাহের সঙ্গে দীনেশের বন্ধুত্ব
দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোনদিকে মোড় নিতে চলেছে তা অনেকেই আগেভাগে আন্দাজ করে নিয়েছিলেন। রাজ্যে যেভাবে দলবদলের পালা চলছে, দীনেশ ত্রিবেদীও যে সেই স্রোতেই গা ভাসাবেন এমন অনুমান অনেকেই করেছিলেন। দীনেশ ত্রিবেদী নিজেই সেই জল্পনা আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। গতমাসেই তিনি বলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ তাঁর অনেক দিনের পুরানো বন্ধু। বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় ভুল কিছু নেই বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

'দলে নির্দিষ্ট পরিবারের সেবা করা হয়'
আজ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর কথাতে সেই প্রসঙ্গই আরও একবার উঠে এল। বললেন, তিনি এই দিনটার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন। রাজনীতির মূল লক্ষ্য যে জনতার সেবা করা, সেটাও বারবার নিজের বক্তব্যে বুঝিয়ে দিলেন প্রাক্তন সাংসদ। একইসঙ্গে নাম না করে নিজের পুরনো দলকেও নিশানায় নিতে ছাড়লেন না। বর্ষীয়ান নেতাকে আজ বলতে শোনা গেল, একটি দলে জনতার সেবার বদলে একটি নির্দিষ্ট পরিবারের সেবা করা হয়।












Click it and Unblock the Notifications