পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বেহালা পূর্ব কেন্দ্রে রত্না বনাম পায়েলের 'স্টার' টক্করে কতটা চড়ল পারদ
বেহালা পূর্ব কেন্দ্রটি ঘিরে কলকাতার রাজনৈতিক মানচিত্রে বহু বিধানসভা নির্বাচনেই উত্তজনার পারদ চড়তে দেখা গিয়েছে। এলাকা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের খাস তালুক। যদিনি সদ্য বিজেপি ত্যাগ করেছেন। তার আগে ছেড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস। সেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের খাস তালুকে এখনও পর্যন্ত তিনি প্রার্থী পদে নেই কোনও দলের। তবে , কৌতূহল রয়েছে তাঁর নির্দল প্রার্থী হওয়া নিয়ে। এদিকে, এই কেন্দ্রে আপাতত মেগা ডুয়েল তৃণমূলের প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় বনাম বিজেপির পায়েল সরকারের। একনজরে দেখা যাক,এই কেন্দ্রের কিছু রাজনৈতিক জলছবি।

বেহালা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্র
কলকাতা পুরসভার একাধিক ওয়ার্ড বেহালা পূর্ব কেন্দ্রে থাকলেও , এই কেন্দ্রটি মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আওতায়। এই কেন্দ্রটির, কমিশনের নিয়মে কেন্দ্র নম্বর হল ১৫৩ । কলকাতা পুরসভার ১১৫ থেকে ১১৭ ও ১২০ থেকে ১২৪ নং ওয়ার্ডগ এবং ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা ব্লকের জোকা-১ ও জোকা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি নিয়ে এই বিধানসভা কেন্দ্রের পরিধি।

রত্না চট্টোপাধ্যায়
বেহালা পূর্ব থেকে তৃণমূলের প্রার্থী ছাড়াও রত্না চট্টোপাধ্যায়ের একাধিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যান দুলালচন্দ্র দাসের কন্যা। এছাড়াও প্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূল ও বিজেপির প্রাক্তন সদস্য শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন এবং তার পরবর্তীকালে সেই দাম্পত্যে ফাটলের ঘটনা বাংলার রাজনৈতিক আঙিনা জানে। সেই জায়গা থেকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের খাস তালুকে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের প্রার্থীপদ বিশেষ তাৎপর্যবাহী।

পায়েল সরকার
অভিনেত্রী পায়েল সরকার বাংলার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখার বহু আগে মুম্বইয়ে একটি সিরিয়ালের হাত ধরে বেশ জনপ্রিয় হন। তারপর টলিউডে 'বোঝেনা সে বোঝেনা' থেকে 'লে ছক্কা', ' ক্রস কানেকশান','জানি দেখা হবে' র মতো ছবিতে অভিনয় করে মন জিতে নিয়েছেন তিনি। সদ্য তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। শুরু করেন রাজনৈতিক ইনিংস। আর তার হাত ধরেই পায়েলের প্রথম নির্বাচনী আঙিনা। আর সেই আঙিনা হল বেহালা পূর্ব। যেখানে দুই মহিলা প্রার্থীর মেগা ডুয়েল দেখতে চলেছে বাংলা।

বেহালা পূর্বের রাজনীতি ও রত্না
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছর ধরে বেহালা পূর্বে দাপট ধরে রেখেছে তৃণমূল। তবে শোভন চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল, বিজেপি ছাড়ার পর তাঁর খাসতালুকের রাজনীতির পট কতটা পরিবর্তন হয়েছে তা বলে দেবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। সেই জায়গা যথেকে এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে রত্না চট্টোপাধ্যায় বলেছেন 'শোভন চট্টোপাধ্যায় বা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কেউ প্রার্থী হলে আমাকে পাঁকে নামতে হত। কিন্তু রাজনীতিতে আনকোরা পায়েলকে দাঁড় করানোয় সেটা করতে হল না।' প্রসঙ্গত, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে রত্না চট্টোপাধ্য়ায়ের দাম্পত্যের বিবাদের অন্যতম মুখ হিসাবে বারবার বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উঠতে থাকে। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বহুবার মুখ খুলেছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়।

রাজনীতিতে নবাগতা পায়েল কতটা আশাবাদী?
পায়েল অবশ্য বিষয়টি 'রত্না বনাম পায়েলের লড়াই' হিসাবে দেখতে রাজি নন। তিনি একটি বেসরকারি চ্যাবেলের সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, তিনি বেহালা পূর্বের প্রার্থীপদ থেকে ভোট পর্ব নিয়ে খুশি, একই সঙ্গে উত্তেজিত এবং অবাক। পায়েলের মতে, দল তাঁর উপর ভরসা করেছে। তাঁর আশা বেহালার মানুষও তাঁর ওপর ভরসা করবেন।

বেহালা পূর্বের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
১৯৭১ এ বেহালা পূর্ব ছিল কংগ্রেসের দখলে। এরপর বামেদের প্রভাব সেখানে বড় আকার নেয় । বেহালায় তখন দিকে দিকে লাল পতাকার প্রতাপ। এর বহু আগে বেহালা পূর্ব ও বেহালা পশ্চিম একক বেহালা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ছিল। এরপর ২০১০ সালে বাংলার পট পরিবর্তন হতে থাকে। ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। কলকতা জুড়ে তখন ঘাসফুলের দাপট। আর এবার ২০২১ এ বেহালা পূর্ব কার পক্ষে যায়, সেদিকে নজর সকলের।












Click it and Unblock the Notifications