সর্বোচ্চ সক্রিয় করোনা কেসে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ, দুঃশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে কলকাতাও
সর্বোচ্চ সক্রিয় করোনা কেসে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ
দেশজুড়ে যে দ্রুতগতিতে কোভিড–১৯ কেস বেড়ে চলেছে তাতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে কেন্দ্র সরকার। দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের করোনা কেস নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে ক্রমশঃ। জানা গিয়েছে যে সর্বোচ্চ সক্রিয় করোনা কেসের শীর্ষে থাকা দু’টি রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ একটি। ভারতে সক্রিয় কেসের অবদানের ক্ষেত্রে এই রাজ্যে সক্রিয় করোনা কেসের সংখ্যা ৫১ হাজারের ঊর্ধ্বে বা ১০.৮৮ শতাংশ।

মহারাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় করোনা কেসের সংখ্যা ৫১,৩৮৪টি। মহারাষ্ট্রের পরই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এই রাজ্য। মহারাষ্ট্রে সক্রিয় কেসের বোঝা ১,৪৫,১৯৮টি। গতমাস থেকে পশ্চিমবঙ্গ শীর্ষ তিনে থাকা রাজ্য মহারাষ্ট্র ও কেরলের সঙ্গে রয়েছে, যারা ভারতের সক্রিয় করোনা কেসে অবদান রেখেছে ১২.৯৮ শতাংশ বা ৯১ হাজারের বেশি।

কলকাতায় লাফিয়ে বাড়ছে করোনা কেস
গত সাতদিনে পশ্চিমবঙ্গে ১৯.৬৮ শতাংশ উচ্চ পজিটিভ হার দেখা গিয়েছে, যা ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই রাজ্যের মধ্যে কলকাতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুঃশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে, কারণ ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত কলকাতায় সক্রিয় করোনা কেসের সংখ্যা ছিল ৪১ হাজারের বেশি। শুধু তাই নয়, কলকাতায় কোভিড-১৯ কেস প্রায় ৩৭ গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র কয়েকদিনের মাথায়। গত ২৩ ডিসেম্বর কলকাতায় যেখানে ১৭৮টি করোনা কেস ছিল, সেখানে ২ সপ্তাহের মধ্যে ৬ জানুয়ারি করোনা কেসের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬,৫৬৯টি।

শনিবার দৈনিক আক্রান্ত সামান্য কমেছে
শনিবার স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, একদিনে রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ৮০২ জন। গত এক সপ্তাহে সংক্রমণের হারও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯.৬০ শতাংশে। এদিন করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৮১১২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এই মুহূর্তে রাজ্যে করোনায় মৃত্যুর হার ১.১৫ শতাংশ। শুক্রবারের তুলনায় শনিবার কলকাতায় দৈনিক আক্রান্ত সামান্য কমলেও সাত হাজারের উপরেই রয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতার একাধিক সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে নার্সরা গণহারে করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনায় একই রকম কাবু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এই অবস্থায় রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

বাংলা থেকে ২৭টি ওমিক্রনের কেস
এরকম পরিস্থিতিতে গত ৩ জানুয়ারি থেকে রাজ্যে একাধিক কড়া বিধি-নিষেধ চালু হয়েছে। জারি করা হয়েছে নৈশ কার্ফুও। প্রত্যেককে মাস্ক পরে থাকতে, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা সহ কোভিড-১৯ যথাযথ আচরণ মেনে চলতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, এ রাজ্য থেকে এখনও পর্যন্ত ২৭টি ওমিক্রন কেস রিপোর্ট হয়েছে এবং ভারতে ওমিক্রন কেসের সংখ্যা ৩ হাজার ছুঁয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications