ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ সাগরে শক্তি বাড়ানোর অপেক্ষায়, বাংলার জন্য কী পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের
বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ শক্তি বাড়ানোর অপেক্ষায়, বাংলার উপকূলে কী পূর্বাভাস
আন্দামান সাগরে এখনও স্থির সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় 'আম্ফান'। গত ২৪ ঘণ্টায় নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়নি। পাশাপাশি বিস্তার বেশ খানিকটা হ্রাস হয়েছে নিম্নচাপের। সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা পর্যাপ্ত পরিমাণে উষ্ণ থাকায় আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে বড় কোনও পরিবর্তনেরও আশা নেই বলে মনে করছে হাওয়া অফিস।

পরবর্তী ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টায় নয়া নিম্নচাপ!
দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ অঞ্চলের আবহাওয়া বেশ খানিকটা উন্নতি হয়েছে। তবে ভারত মহাসাগর এবং সংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগরের উপর দিয়ে একটি ঘূর্ণিঝড় সঞ্চালন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। পরবর্তী ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টার মধ্যে নতুন নিম্নচাপ গঠনের অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে অবশ্যই।

আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে চিত্র বদলে যেতে পারে
ফলে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে চিত্র বদলে যেতে পারে আবার। ওই অঞ্চলের আবহাওয়ার চরিত্র ঘনঘন বদল হচ্ছে। আবহবিদরা জানিয়েছেন, প্রথমদিকে এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকবে এবং একটি ঘূর্ণিঝড়কে আরও তীব্র রূপ দিয়ে সমুদ্রে প্রসারিত হবে। ঘূর্ণিঝড়টি পুনরুত্থানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তা বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে মায়ানমার বা বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হবে।

বাংলা তথা ভারতীয় উপকূল নিয়ে বার্তা
আপাতত বাংলা তথা ভারতীয় উপকূল অভিমুখে ওই ঘূর্ণিঝড়ের আসার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। প্রাক-বর্ষার মরশুমে ভারতীয় সমুদ্র উপকূলগুলিতে ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে। মার্চ মাস থেকে জুন পর্যন্ত তা চলে। এপ্রিল এবং মে মাসে ঝড়ের উপযুক্ত পরিবেশ থাকে ওই এলাকায়। বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগর উভয় স্থানেই ঝড় আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

২৮ মে থেকে আবহাওয়ার চরিত্র বদল
উল্লেখ্য, ২৮ এপ্রিল উত্তর আন্দামান সাগরে একটি ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়। এটি সংঘবদ্ধ হয়ে ২৯ এপ্রিল একই অঞ্চল জুড়ে একটি নিম্নচাপ তৈরি করে। পরবর্তীকালে সিস্টেমটি ১ মে উত্তর-পশ্চিম দিকে চলে যায় এবং নিম্নচাপ শক্তি হারিয়ে ফেলে। এরপর দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ আন্দামান সাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে আর একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়।

কোন দেশীয় উপকূল মুখে যাবে আম্ফান
ওই নিম্নচাপের প্রভাবেই ২ মে থেকে নয়া সিস্টেমটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরদার করে দেয়। হাওয়া অফিস জানায়, ওই নিম্নচাপ অঞ্চল থেকে ঝড় উত্তর দিকে অগ্রসর হতে শুরু করবে এবং আরও তীব্রতর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে মায়ানমার ও বাংলাদেশ উপকূলের দিকে যাত্রা শুরু করবে।

ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতিতে বর্তমান পরিস্থিতি
ঝড়ের সূচনা পর্বে বঙ্গোপসাগরের নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে প্রচুর বৃষ্টি এবং প্রবল বাতাস বইতে শুরু করেছে। বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মূল ভূখণ্ড থেকে নিরাপদ দূরত্বে রয়েছে এখনও। হাওয়া অফিস প্রাথমিকভাবে ট্র্যাক করেছে, এটি শক্তি বাড়াতে এখনও সময় নেবে। অন্তত তিনদিন পর ঘূর্ণিঝড় শক্তি বাড়ালে তা মায়ানমার এবং বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হবে।












Click it and Unblock the Notifications