ঘূর্ণিঝড় সিতরাং-এর সঙ্গে ভরা কোটাল! বাংলার দুই জেলায় বাড়তি সতর্কতা, কলকাতা নিয়েও পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের
ঘূর্ণিঝড় সিতরাং-এর সঙ্গে ভরা কোটাল! বাংলার দুই জেলায় বাড়তি নজরদারি, ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সতর্কতা আবহাওয়া দফতরের
আবহাওয়া দফতর পরিষ্কার জানিয়েছে, সিতরাং-এর অভিমুখ বাংলাদেশে এবং তা আছড়ে পড়বে বরিশালের কাছে। পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড় সিতরাং-এর প্রভাবে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। কিছুটা প্রভাব পড়বে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। তবে এর সঙ্গে ভরা কোটালের কারণে বাড়তি নজরজারির কথা জানিয়ে, সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

অতি গভীর নিম্নচাপের অবস্থান
এদিন দুপুরে দেওয়া বুলেটিনে আবহাওড়া দফতর জানিয়েছে গত ছয় ঘন্টা ধরে অতি গভীর নিম্নচাপটি ঘন্টায় ২০ কিমি করে এগিয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ এর অবস্থান ছিল পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ৬৪০ কিমি উত্তর-পশ্চিমে, সাগর থেকে ৬৭০ কিমি দক্ষিণে এবং বাংলাদেশের বরিশাল থেকে ৮২০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে।

বরিশালের কাছে ল্যান্ডফল
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে পরবর্তী ১২ ঘন্টায় অতি গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোবে এবং মধ্য বঙ্গোপসাগরে তা ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেবে। এরপর তা বাঁক নিয়ে উত্তর-উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে এবং ২৫ অক্টোবর ভোরের দিকে তা বরিশালের কাছে তিনকোনা ও সন্দীপ অতিক্রম করবে।

২৫ অক্টোবর দুপুরের পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২৪ অক্টোবর অতি গভীর নিম্নচাপটি অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেবে। সেই সময় তার বেগ থাকতে পারে ঘন্টায় ৮৫-৯৫ কিমি। আৎ ২৫ অক্টোবর ভোরে এর বেগ বেড়ে ঘন্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিমি হতে পারে। তবে ২৫ অক্টোবরেই তার বেগ কবে ঘন্টায় ৪৫-৫৫ কিমি হবে এবং অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় শক্তি হারিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে।

ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কোনও কোনও জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে ২৪ অক্টোবর। আর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা পূর্ব মেদিনীপুর এবং সংলগ্ন পশ্চিম মেদিনীপুরের অংশে।
এছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা ঘন্টায় ৮০-৯০ কিমি বেগে ঝড়ের মুখে পড়তে পারে। ঝড়ের প্রভাব থেকে বাদ যাবে না পূর্ব মেদিনীপুর, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরও। ২৫ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেলের দিক থেকে ঝড় কমতে থাকবে।

ভরা কোটাল নিয়ে সতর্কতা
সঙ্গে রয়েছে ভরা কোটাল। সেই কারণে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় স্বাভাবিকের থেকে উপকূলে জলে উচ্চতা ১ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২৫ অক্টোবর সকালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ঢেউয়ের উচ্চতা ৫-৬ মিটার বেশি হতে পারে। যে কারণে নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হতে পারে। আগেই ২৩-২৫ অক্টোবরের মধ্যে সুন্দরবন এলাকায় ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখতে বলেছিল আবহাওয়া দফতর। সঙ্গে দিঘা, মন্দারমনি, শঙ্করপুর, বকখালি এবং সাগরে পর্যটকদের নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছিল। সেই সতর্কতার সঙ্গে এবার উপকূল এলাকার মানুষকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায় সরানোর কথা বলেছে আবহাওয়া দফতর। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকার কথা উল্লেখ করেছে আবহাওয়া দফতর।












Click it and Unblock the Notifications