ফুঁসছে সমুদ্র, ঘূর্ণিঝড় সিতরাংয়ের প্রভাবে ১৮ মিটার ঢেউ! কী ব্যবস্থা বাংলার উপকূলে
ফুঁসছে সমুদ্র, ঘূর্ণিঝড় সিতরাংয়ের প্রভাবে ১৮ মিটার ঢেউ! কী ব্যবস্থা বাংলার উপকূলে
ঘূর্ণিঝড় সিতরাং বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের উপর বাংলার সাগরদ্বীপের অদূরেই অবস্থান করছে। তার প্রভাবে ফুঁসছে সমুদ্র। এই সিতরাং যত উপকূলের দিকে এগিয়ে আসবহে, ততই সমুদ্র উত্তাল হবে। আবহাওয়া দফতরের তরফে আশঙ্কা করা হয়েছে, মঙ্গলবার ২৫ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস হতে পারে ৬ মিটার বা ১৮ ফুটেরও বেশি।

জোড়া ফলায় প্রবল জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা
একদিকে সিতরাংয়ের প্রভাব, অন্যদিকে দ্বীপান্বিতা অমাবস্যার কোটাল। ফলে সমুদ্র ফুঁসে উঠবে, এটাই স্বাভাবিক। আবহবিদরা জানিয়েছেন জোড়া ফলায় প্রবল জলোচ্ছ্বাস হবে। সেই জলোচ্ছ্বাসের জেরে সমুদ্রের জল বাঁধ ছাপিয়ে উপছে পড়তে পারে। সেই আশঙ্কায় প্রতি উপকূলে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সমুদ্র উপকূল সংলগ্ন এলাকা থেকে বাসিন্দারের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে।

নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হল বাসিন্দাদের
বাংলার প্রশাসন দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর উপকূল সংলগ্ন এলাকা থেকে এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় কিছু বিপদসঙ্কুল এলাকা থেকে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা থেকে সরানো হয়েছে সাত হাজার বাসিন্দাক। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে সরানো হয়েছে প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দাকে। আর পূর্ব মেদিনীপুর থেকে সরানো হয়েছে ১৬ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে।

নদী উপকূলেও বাড়তি সতর্কতা জারি
উপকূলবর্তী জেলার বাসিন্দাদের প্রশাসনের তরফে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কোনও আতঙ্ক নয়, সতর্ক থাকুন। পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা, শঙ্করপুর, মন্দারমণি, তাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি, সাগর এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষ করে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার দফতররে তরফেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর ও দুই ২৪ পরগনার নদী উপকূলেও বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

১৫ থেকে ১৮ ফুটের ঢেউ আছড়ে পড়বে
সমুদ্র ও নদী তীরবর্তী এলাকায় দফায় দফায় মাইকিং চলছে, টহলদারি চালাচ্ছে পুলিশ। আসলে ঘূর্ণিঝড় সিতরাং ও অমাবস্যার কোটালে সমুদ্র ফুলে উঠবে। ফলে তীব্র জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা। এই জলোচ্ছাস হতে পারে ৬ মিটার পর্যন্ত। অর্থাৎ ১৫ থেকে ১৮ ফুটের ঢেউ আছড়ে পড়বে সমুদ্র উপকূলে। ঝুঁকি এড়াতে যেমন সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে। নদীপথে পারাপারও বন্ধ রাখা হচ্ছে।

সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার বেগে ঝড়, বৃষ্টিও
ঝুঁকি এড়াতে হলদিয়ার টাউনশিপ থেকে নন্দীগ্রাম নদীপথে খেয়া পারাপারের ফিরে সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর সংলগ্ন নদীপথেও ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে। কাঁচাবাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু যে জলোচ্ছ্বাস নয়, ভারী বৃষ্টি আর সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইবে উপকূলবর্তী এলাকায়। তাই বিপদ বুঝে ১৪ হাজার কাঁচাবাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications