আম্ফানের মতো ঘূর্ণিঝড় ইয়াসও বাংলার উপকূলে আছড়ে পড়বে বুধবার, তুলনায় আবহবিদরা
আম্ফানের মতো ঘূর্ণিঝড় ইয়াসও বাংলার উপকূলে আছড়ে পড়বে বুধবার, তুলনায় আবহবিদরা
২০২০-র ২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্ফান আছড়ে পড়েছিল বংলার উপকূলে। আলিপুর হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মতো ঘূর্ণিঝড় ইয়াসও বুধবার হানা দেবে বাংলায়। ফারাক শুধু ১ বছর ৬ দিনের। অর্থাৎ ২০২১-এর ২৬ মে বাংলার উপকূলে আছড়ে পড়বে ইয়াস। একইসঙ্গে আবহবিদরা চর্চা শুরু করেছেন আম্ফানের সঙ্গে ইয়াসের মিল ও ফারাক নিয়ে।

আম্ফানের মতো সুপার সাইক্লোন হয়ে বুধে উপকূলে পৌঁছবে ইয়াস
আম্ফানের বর্ষপূর্তির ঠিক পরেই বাংলার উপকূল লক্ষ্য করে ধেয়ে আসছে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। আবহবিদরা ইতিমধ্যেই ইয়াসকে সিভিয়ার সাইক্লোন বলে আখ্যায়িত করেছেন। যত বাংলার উপকূলের দিকে এগিয়ে আসবে ততই শক্তি বাড়াতে থাকবে। এমনকী আম্ফানের মতো সুপার সাইক্লোনে রূপান্তরিত হতে পারে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। শক্তি বাড়িয়ে আম্ফানের মতোই বুধবার উপকূলে হানা দেবে।

আম্ফান ও ইয়াসের গতিবেগেও মিল খুঁজে পাচ্ছে হাওয়া অফিস
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ইয়াসের গতিবেগ হতে পারে ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার। এই ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমটার। আম্ফানের ক্ষেত্রেও বলা হয়ছিল ১৮৫ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়বে। পরে তা বকখালিতে ১৫৬ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়েছিল। কলকাতায় ১৩৩ কিলোমিচার বেগে ঝড় বয়েছিল।

আম্ফান ও ইয়াসের ল্যান্ডফলের সময়েও অদ্ভুত মিল
২০২০-র ২০ মে বুধবার আম্ফান আছড়ে পড়েছিল সন্ধ্যার সময়। দুপুরের পর থেকেই ঝড়ের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছিল। আর ইয়াস নিয়েও আলিপুর হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বুধবার সন্ধ্যায় ল্যান্ডফল করতে শুরু করবে ঘূর্ণিঝড়। দুপুরের পর থেকেই ঝড়ের তাণ্ডব শুরু হবে। তবে এখন হাওয়া অফিস বলছে, গতি বাড়িয়েছে ইয়াস। দুপুরের মধ্যেও তা উপকূল ছুঁতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বাংলা-ওড়িশা উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, ২৬ মে বুধবার ঘূর্ণিঝড় ইয়াস পারাদ্বীপ ও সাগরের মধ্যে উপকূল ছুতে পারে। আলিপুর হাওয়া অফিসের সহ অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইবে বুধবার সকাল থেকে। আর আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের গতিবেগ হবে ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার।

অভিঘাত ও আয়তন আম্ফানের থেকে অনেক বেশি ইয়াসের
হাওয়া অফিস আশঙ্কা করছে, আম্ফানের থেকে অনেক বেশি অভিঘাত হবে ইয়াসের। আম্ফান ১৫৬ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়েছিল বকখালিতে। সেই তুলনায় ইয়াস যদি কম গতিবেগেও আছড়ে পড়ে, তার অভিঘাত বেশি হবে। তারপর আম্ফানের থেকে ইয়াসের আয়তন অনেক বেশি। আম্ফানের ব্যাসার্ধ ছিল ৪৫০ কিলোমিটার, আর ইয়াসের ব্যাসার্ধ ৬০০ কিলোমিটার। ফলে আম্ফানের থেকে অনেক বেশি জায়গা নিয়ে এগোবে ইয়াস। আম্ফান যেখানে ৯০০ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে এগিয়েছিল, সেখানে ইয়াস এগোচ্ছে ১২০০ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে।












Click it and Unblock the Notifications